টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ হতে উলুবনিয়া পর্যন্ত সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে

sarok-scaled.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশরোধ, মাদক-চোরাচালান দমন ও নিরাপত্তা জোরদার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে শাহপরীর দ্বীপ হতে উলুবনিয়া পর্যন্ত নাফনদী উপকূলীয় এলাকায় ৫১কিঃ মিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,বাংলাদেশ স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাউবো কক্সবাজারের বাস্তবায়নাধীন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হতে উলুবনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত ৫১ কিঃ মিঃ সীমান্ত পয়েন্ট সমুহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে নাফনদী উপকূলীয় পোল্ডার নং-৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮ এর মধ্যে ২২ ফুট প্রস্থের ৫১কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এই কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঢাকা রমনা কাকরাইলের তমা টাওয়ার ৭৭/১ এর তমা কনস্ট্রাকশন এন্ড কোং লিমিটেড। গত ১ফেব্রæয়ারীতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের নেতৃত্বে পাউবোর একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল এই সড়ক নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। নাফনদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সমুহে আরসিসি ব্লক দেওয়া হবে। এই সড়কটি বাস্তবায়িত হলে নাফনদীর তীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সুনামীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হতে অন্নত রক্ষা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই সড়কটিতে নিরাপত্তা জোরদার ও পার্কিংয়ের জন্য অর্ধশতাধিক বিজিবির সীমান্ত চৌকি তৈরী করা হবে এবং যাগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ৩০টির অধিক নতুন সুলিচ গেইট তৈরী, রাতের বেলায় এই সড়ক আলোময় করতে ৫শ স্ট্রিট লাইট লাগানো এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে র্পূর্বদিকে তৈরী করা হবে কাঁটা তারের ঘেরা। এই সড়কটি অত্যাধুনিক নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করতে প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে আরো সাড়ে ৩শ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্ধ বৃদ্ধি করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, সীমান্ত সড়কটি বাস্তবায়িত হলে বিজিবিসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী সহজে মুভ করতে পারবে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান দমন সহজতর হবে। তিনি আরো বলেন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক করতে গিয়েই উচ্ছেদকৃত জনসাধারণকে পূর্ণবাসন করা হবে।

এই ব্যাপারে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (পিএসসি) জানান, এই সীমান্ত সড়কটি বিজিবির দীর্ঘদিনের দাবী ছিল। নাফনদীর পাশে সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠে। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিজিবিকে দেওয়া হবে এটিভি যানবাহন। যা নিয়ে যেকোন মুর্হুতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান বিরোধী চালানো সহজতর হবে।

পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাউবো টেকনাফের নাফনদী উপকূলীয় এলাকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশরোধ, মাদক ও চোরাচালান দমনের লক্ষ্যে ৫১ কিঃমিঃ সড়কে এখন মাটির উন্নয়ন কাজ চলছে। এই বিশাল প্রকল্পে দেশের নিরাপত্তা এবং বিজিবির চাহিদা বিবেচনা করে নতুন কিছু কার্য্যক্রম যুক্ত হচ্ছে। এজন্য আরো অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফাইল প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বিশাল এই প্রকল্পটি ২০২২ইং সালে সমাপ্ত হয়ে ব্যবহার উপযোগী হবে। ####