উখিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় নাম্বরবিহীন ডাম্পারের হিড়িক : দেখার কেউ নেই

dampar.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক : উখিয়া উপজেলার পালংখালীসহ প্রত্যন্ত এলাকায় অবৈধ ড্রাম গাড়ির দৌরাত্ন আশংকাজনহারে বৃদ্ধি পেয়েছেন।
বছর না ঘুরে অনেকে নামে ব্যানামে ডাম্পার গাড়ির মালিক বনে গেলেও কাগজপত্রবিহীন চলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মাটি কাটার কাজে। অনেক রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারের সুবাদে রাতারাতি এসব ডাম্পারের মালিক হয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয় ইয়াবা কারবারি থেকে শুরু করে জনপ্রতি পর্যন্ত ২/৪টি গাড়ির মালিক হিড়িক পড়েছে। এরমধ্যে পালংখালী কেরুতলীর কাটাখালীর মিলে ৭৬টি এবং থাইংখালীতে ৩২টি অবৈধ ডাম্পার গাড়ি রয়েছে।

উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক-উপসড়কে অবাধে চলছে কাগজপত্রবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেস বিহীন ডাম্পার। বিআরটিএ এর তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় মোট ডাম্পারের সংখ্যা ২ হাজার, রেজিষ্ট্রেশন নেই ১ হাজার ৮ শত ৯৫টির, রেজিষ্ট্রেশন আছে ১ শত ৫টির তার মধ্যে নবায়ন করেনি ৮০টি। বৈধ ডাম্পার আছে মাত্র ২৫টি। এসব যানবাহন আটক ও কাগজপত্র পরীক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ফিটনেসবিহীন এসব ডাম্পার চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
প্রতিবছর গড় হিসাব করলে প্রধান সড়কে সব থেকে বেশী দূর্ঘটনার রেকর্ড পিকআপ ভ্যান আর ডাম্পারের হাতে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা ডাম্পার চলাচলের কারণে পরিবেশ দূষণ ও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দেখলে মনে হয় কালো ধূয়ার ইজারা শুধু ডাম্পারই নিয়েছে। তাছাড়া মহাসড়কে ধূলাবালি বৃদ্ধির অন্যতম কারনও এই ডাম্পার। কক্সবাজার জেলায় পাহাড় বনভূমি, ইট বালি সরবরাহ ও সংরক্ষনের একমাত্র যান এই ডাম্পার। সারাদিন অবাধে ইট বালি নিয়ে চলাচল করা এসব ডাম্পারকে কখনো কোন চেকপোস্টে থামানো হয়না। তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের শেষ নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিটনেসবিহীন ডাম্পারগুলো অধিকাংশ বিভিন্ন স্থান হতে পার্টস কিনে এনে গ্যারেজ থেকে বডি বাঁধানো হয়। যার ফলে রেজিষ্ট্রেশন তো দুরের কথা এসব যানের অধিকাংশেরই নেই কোন ফিটনেস এবং বৈধতা। চালকরাও অল্পবয়স্ক কিশোর যুবক। যাদের সিংহ ভাগেরই নেই কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। কিশোর যুবক ড্রাইভার হওয়াই সড়কে দূর্ঘটনা কমানোর কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল।

মহাসড়কে নাম্বার ও ফিটনেসবিহীন ডাম্পার চলাচল নিষিদ্ধ থাকা স্বত্ত্বেও এসব যান মহাসড়কে সর্বদাই যাতায়াত করছে। এসব ডাম্পার মহাসড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আগে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। ট্রাফিক সিগনাল না মেনে যেখানে সেখানে থামে। যেখানে সেখানে মালামাল উঠানামা করে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতা করে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক ডাম্পার মালিক ও ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সিজনের জন্য ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় প্রশাসনকে। বিনিময়ে একটা হাতের লিখা টোকেন। যে টোকেন দেখালে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কেউ তাদের আটকায়না। ধরলেও টোকেন দেখালে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশ জানান, টোকন নিয়ে আমরা অবগত নয়, আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সময় জরিমানা করি। এই মাস থেকে নতুন আইনে অভিযান পরিচালনা শুরু করব, আশা করি সবাইকে এই আইনের বিষয়ে সচেতন করলে অবৈধ ডাম্পারগুলো দ্রুত নবায়ন ও রেজিষ্ট্রেশন করতে বাধ্য হবে।