পেকুয়ায় ডাকাত সন্দেহে ২ যুবককে পিটিয়ে হত্যা

Hamlattt.jpg

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি |

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ডাকাতের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

গণধোলাইয়ে জামাল উদ্দিন (৩০) ঘটনাস্থলে এবং কাইছার (২৮)কে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। গুরুতর আহত নাছির (২৫)কে পুলিশে সোপর্দ করা হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামাল উদ্দিন পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সাপেরগারা এলাকার আলমগীর প্রকাশ নাগু মিয়ার ছেলে, কাইছার একই এলাকার নাজিম উদ্দিন প্রকাশ লেড়ু মিয়ার ছেলে। আহত নাছির উদ্দিন বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালীর নুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সাপেরগারা এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় সশস্ত্র ডাকাতদলের গুলিতে সদ্য বিদেশ ফেরত ও সদ্য বিবাহিত নুরুন্নবী নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত ওই যুবক একই এলাকার হাসান শরীফের ছেলে। ডাকাতিকালে গুলি এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে নুরুন্নবীর মা হাজেরা খাতুন (৮০) ও ছোটভাই মোজাম্মেল (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন।

ডাকাতির ঘটনা ও ডাকাতের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ ডাকাতের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

বুধবার সকালে সাপেরগারা পাহাড়ি এলাকা থেকে জনতা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে ৩ জনকে পাহাড়ি এলাকার জঙ্গল থেকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে একজন মারা যায় এবং দুজন গুরুতর আহত হয়। পরে পেকুয়া থানার পুলিশ উপস্থিত হলে স্থানীয় জনতা আটককৃত ২ জনকে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জামাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত অপর দুইজনকে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত কাইছার মারা যায়।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আযম জানান, জনতার হাতে আটক জামাল উদ্দিন জনতার মারধরে ঘটনাস্থলে এবং কাইছার হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। আহত নাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।