চকরিয়া পৌরশহরে এমপি জাফর আলমের প্রচেষ্টায় ৬০বছরের বিরোধের নিস্পত্তি: নির্মাণ হচ্ছে মার্কেট

2-1.jpg

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া পৌরশহরে ভোগদখলীয় নিজেদের জমি নিয়ে সুদীর্ঘ ৬০ বছর যাবত চলে আসা একাধিকপক্ষের বিরোধের অবসান হয়েছে। জমির বিপরীতে স্থিত দলিলপত্র প্রায় দেড়বছর যাছাই-বাছাই শেষে সকলপক্ষের অংশিদারদের উপস্থিতিতে অবশেষে জমি বিরোধের নিষ্পত্তি করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। পাঁচযুগ ধরে চলে আসা বিরোধের নিস্পত্তি শেষে সকলপক্ষের অংশিদারদের সম্মতিতে সেই জমিতে বর্তমানে নির্মিত হচ্ছে বহুমূখী ফল ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী ব্যক্তিগত ফল মার্কেট।
চকরিয়া পৌরশহরের যানজট নিরসনে শহরের ফুটপাতে ভাসমান দোকান বসিয়ে এতদিন যারা ব্যবসা করে আসছিলেন সেসব হকারদেরকে পুর্নবাসন করা হচ্ছে নির্মিতব্য ওই মার্কেটে। এতে মার্কেটের মালিকানা পেয়ে একদিকে জমি মালিকপক্ষের অংশদিার অপরদিকে স্থায়ী ব্যবসা করার ঠিকানা পেয়ে খুশি হয়েছেন পৌরশহরের হাজারো ভাসমান দোকানী। ইতোমধ্যে জমির সকল অংশিদারদের উপস্থিতিতে মার্কেটটি নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি আলহাজ জাফর আলম। মার্কেটটি নির্মাণের ফলে আগামীতে চকরিয়া পৌর শহরের যানজট নিরশনে কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পুর্নবাসনের আওতায় আসছে ফুটপাতের হকার- ফল ব্যবসায়ীরা।
চকরিয়া পৌরসভার সার্ভে বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের চিরিংগা মৌজার আর খতিয়ান নং ১২৩ ও বিএস খতিয়ান ২৩ নম্বর ও ৪৪২, ৪৩৯ ও ৪২২ দাগের বাট্টা ৮২৭ এর জমির মালিক মরহুম ফজর আলীর ওয়ারিশ দুইছেলে অছিউর রহমান ও ওয়াহেদ আলী। তৎমূলে মরহুম অছিউর রহমানের ছেলে মমতাজ আহমদ গং ও মরহুম ওয়াহেদ আলীর ছেলে জাকের আহমদ গং উল্লেখিত জমির মালিক হন।
বংশপরস্পরায় মমতাজ আহমদ গং উল্লেখিত খতিয়ান ও দাগাদির ৩ একর ৪২ শতক জমির মালিক হন। পরবর্তীতে উল্লেখিত জমি এবং পাশ^বর্তী অপরাপর জমির ওয়ারিশদের নিয়ে বিরোধের সৃষ্ঠি হয়। যা পরবর্তী সময়ে একবছর করে করে ৬০বছর অতিক্রম করে। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে উভয়পক্ষের অংশিদাররা শরাপন্ন হন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের কাছে। তিনি জমির বিপরীতে উভয়পক্ষের দলিলপত্র সমুহ নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠ সমাধানের আশ^াস দেন। পরবর্তীতে এমপি জাফর আলম উল্লেখিত জমির দলিলপত্র নিজের অনুকুলে রেখে দেড়বছর যাবত যাছাই-বাছাই করেন। মতামত নেন জমি পরিমাপে নিয়োজিত বিভিন্ন জনের। এরপর তিনি মালিকপক্ষের সবাইকে ডেকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সকল অংশিদারদের উপস্থিতিতে ৬০বছর ধরে চলে আসা বিরোধটি অবষেষে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি করে দেন। সমাধানের আলোকে মমতাজ আহমদ গং উল্লেখিত খতিয়ানের ৩ একর ৪২ শতক জমির মালিক হিসেবে ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন।
পাঁচযুগ ধরে চলে আসা বিরোধের নিস্পত্তি শেষে সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রয়ারী সকলপক্ষের অংশিদারদের সম্মতিতে এমপি জাফর আলমের আহবানে সেই জমিতে নির্মিত হচ্ছে বহুমূখী ফল ব্যবসায়ীদের জন্য ফল মার্কেট। চকরিয়া পৌর শহরে যানজট মুক্ত করতে ফুটপাতের বহুমূখী ফল ব্যবসায়ী ও হকারদের স্থায়ীভাবে ব্যবসা নিশ্চিতকল্পে উক্ত জমির একাংশে বহুমূখী ফল মার্কেট হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মার্কেট নির্মাণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমান। বর্তমানে মার্কেটির নির্মাণকাজ তদারকি করছেন অংশিদারপক্ষের ওয়ারিশ যথাক্রমে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি আহমদ হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ইসমাইল, ওসমান গনি, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মেম্বার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন রুবেল।
এমপি জাফর আলম বলেছেন, চকরিয়া পৌরশহরটি বর্তমানে যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। যানজটের কারণে সবধরণের যানবাহন চলাচলে যেমন দুর্ভোগ রয়েছে, তেমনি জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড়ধরণের দুর্যোগ নেমে এসেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে উদ্যোগ নিই। এরই আলোকে জমি নিয়ে চকরিয়া পৌরশহরের একাধিক মালিকপক্ষের মধ্যে ৬০ বছর যাবত চলে আসা বিরোধ নিস্পত্তিতে কাজ শুরু করি। অবশেষে জমি মালিকপক্ষের সবাই সমঝোতায় আসতে ঐক্যমত পোষন করেন। এরপর সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে বিরোধী নিস্পত্তি করি।
তিনি বলেন, বৈঠকে নিস্পত্তি হওয়া ওই জমিতে ফুটপাতের ভাসমান হকারদের জন্য স্থায়ী একটি মার্কেট নির্মাণের আহবান জানাই। তাতে সকল জমি মালিকপক্ষের অংশিদারগন মতামত দেন। তাদের সম্মতিতে এখন মার্কেটটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এতে মার্কেটের মালিকানা পেয়ে একদিকে জমি মালিকপক্ষের অংশদিাররা, অপরদিকে স্থায়ী ব্যবসা করার ঠিকানা পেয়ে খুশি হয়েছেন পৌরশহরের হাজারো ভাসমান দোকানী। আমি মনে করি, মার্কেটটি নির্মাণের ফলে আগামীতে চকরিয়া পৌর শহরের যানজট নিরশনে কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। #