সাগর পথে চলছে নদী পথের লঞ্চ এমভি পারিজাত ও দোয়েল পাখি : ঝুঁকিতে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকরা

Teknaf-pic-parijat-doel.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক নিয়ে চলাচল করছে নদী পথের জন্য তৈরী এমভি পারিজাত ও দোয়েল পাখি-১ নামের দুটি জাহাজ। উচ্চ আদালত গত ২১ জানুয়ারী জাহাজ দুটির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে জাহাজ দুটি শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পর্যটক নিয়ে চলাচল করেছে। এমনকি এসময় বিআইডব্লিওটিএর কর্মকর্তাদের লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে।
জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্ট এ পূর্বের একটি রিট পিটিশন (নং-১১৮১৭/২০১৯) স্থগিত এর জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন করা হয়েছিল।
উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে লিভ টু আপিল নং-১৬৬/২০২০ এর আদেশ অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারী টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে চলাচলকারী এমভি পারিজাত (এম-০১-১১২১) ও এমভি দোয়েল পাখি-১(এম-০১-১৬৬৯) লঞ্চ দুটিকে রুটপারমিট ও সময়সূচী স্থগিত রাখা হয়। ১৯ জানুয়ারী রিট পিটিশন নং-১১৮১৭ শুনানী শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ ছিদ্দিকির বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেছে।
উক্ত আদেশ জারীর পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ২৩ জানুয়ারী জাহাজ দুটির রুট পারমিট ও সময়সূচী স্থগিত করে।

মহামান্য হাইকোর্ট এই পিটিশন নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এমভি পারিজাত (গ-০১-১১২১) ও এমভি দোয়েল পাখি ১ (গ-০১-১৬৬৯) এর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে চলাচল স্থগিত রাখতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে পিটিশনটির পুনরায় শুনানির জন্য আগামী মার্চের ২ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে আদালতের নির্দেশা থাকলেও ২৪ জানুয়ারী এই জাহাজ দুটি অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন গেছে বলে জানা গেছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করতে করতে আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত পরোয়া করছে না।

জানা গেছে, টেকনাফে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ও নৌ বন্দরের ট্রাফিক কর্মকর্তা মো: জহির উদ্দিন ভুইয়াকে লাঞ্ছিত করে সেন্টমার্টিন গেছে এম ভি পারিজাত জাহাজ ও এমভি দোয়েল পাখি জাহাজ দুটি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিষেধ করা স্বত্বেও তারা অবৈধভাবে ছেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানায়।

২৪ জানুয়ারী (শুক্রবার) টেকনাফ নৌ-বন্দরের ট্রাফিক কর্মকর্তা মো: জহির উদ্দিন ভুইয়া বলেন, জাহাজ দুটিকে আদালতের নির্দেশমতে না যাওয়ার কথা থাকায় নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের লোকজনের মাধ্যমে জাহাজের কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে জাহাজগুলিকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অনেকক্ষণ আটকে রাখার পরে জাহাজে থাকা যাত্রীরা একসাথে আমাদেরকে ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে তেড়ে আসলে আমরা কোনমতে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।

যে ঘটনার স্বাক্ষী স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পর্যটকরা। পরে জাহাজ কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক জাহাজ ছেড়ে দেয়। তিনি আরো জানান-আমরা পালিয়ে না আসলে বড় একটি দূর্ঘটনা ঘটে যেত।

এমভি পারিজাত ও দোয়েল পাখি জাহাজের টেকনাফের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, নদীবন্দর ট্রাফিক কর্মকর্তার উপরে হামলার কথা অস্বীকার করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও জাহাজ ছাড়লেন কেন জানতে চাইলে, তিনি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার উপর কোন কাগজপত্র তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি বলে এড়িয়ে যান এবং শনিবার থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে জাহাজগুলোর চলাচলের প্রশ্নই উঠে না।