চকরিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে একটি জায়গা দুদফা বিক্রির অপচেষ্টা ; হামলায় আহত-১

hamla2.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রিত জায়গা ফের অন্যজনকে বিক্রির চেষ্ঠার ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্রেতাপক্ষের লোকজন বাধাঁ দিতে গেলে মারধরে একজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারী চকরিয়া থানায় ৬জনকে আসামি করে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা মো.নুরুল ইসলাম। পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের আবদুলবারী পাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।
এজাহারে বিবাদি করা হয়েছে কাজিরপাড়া গ্রামের আবু ছালামের ছেলে মো.রায়হান, মৃত ইদ্রিছ আহমদের ছেলে আবু ছালাম, মো.আবু ছালাম, শওকত, দুদুমিয়া ও বাজার পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে মিজান নামের ছয়জনকে।
চকরিয়া থানায় দায়েরকৃত এজাহারে বাদি আবদুলবারী পাড়া গ্রামের মরহুম আবুল ফজলের ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০) জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে চুড়ান্ত কথাবার্তার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা উচিতমুল্য নির্ধারণ করে বিবাদি রায়হান ও তাঁর বাবা আবু ছালামের কাছ থেকে লক্ষ্যারচর মৌজার সৃজিত ২৩৬৫ নং খতিয়ানের ৫১৫৭ দাগের ৫ শতক জমি বসতঘর সহকারে আমি ও আমার ছেলে বারেক মিয়ার নামে ক্রয় করি। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর নগদ একলাখ টাকা অগ্রিম দেয়ার মাধ্যমে উভয়পক্ষে বায়না দলিল সম্পাদন হয়।
পরবর্তীতে উল্লেখিত রায়হান ও তাঁর বাবা আবু ছালামের অংশের জায়গার কাগজপত্রে সমস্যা দেখা দিলে নগদ আরো একলাখ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারী রায়হানের জেঠা মো.আবু ছালামের অংশের জমি ক্রয়ের জন্য নতুন অপর একটি বায়না দলিল সম্পাদন করি। দুইটি বায়নাপত্র স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে সম্পন্ন করা হয়।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম অভিযোগ তুলেছেন, বসতঘরসহ জমি ক্রয়ের পর উল্লেখিত জায়গায় পরিবার সদস্যদের নিয়ে আমরা যথারীতি শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে বিক্রেতা রায়হান ও তাঁর বাবা আবু ছালাম লোভের বশবর্তী হয়ে স্থানীয় অপর একজনকে বেশি দামে জায়গাটি বিক্রির জন্য পরিকল্পনা নেয়।
এরই জেরে সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারী রাত সাতটার দিকে বিক্রেতা রায়হান ও তাঁর লোকজন অতর্কিত বাড়িতে এসে আমাদেরকে ঘর থেকে উচ্ছেদ করতে উদ্যত হন। ওইসময় বাঁধা দিতে গেলে আমার ছেলে বারেক মিয়াকে মারধরে আহত করা হয়। বিক্রিত জায়গা ফের অন্যজনকে বিক্রির চেষ্ঠা ও বাড়িতে হামলার ঘটনায় বাধ্য হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করি।
বাদি নুরুল ইসলাম জানান, চকরিয়া থানার ওসি আমাদের অভিযোগটি আমলে তদন্তের জন্য থানার এসআই মোহাম্মদ ইসমাইলকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় এলাকাবাসির সঙ্গে কথা বলে বিক্রেতা রায়হান ও তাঁর বাবা আবু ছালামের প্রতারণার ঘটনায় সত্যতা পেয়েছেন। অপরদিকে তাদের দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তে এসে চকরিয়া থানার এসআই আবদুল্লাহ আল মাসুদ আমার পরিবারকে বসতঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করার বিষয়ে স্থানীয় জনগনের কাছ থেকে সত্যতা পেয়েছেন।#