হোয়াইক্যং কম্বন পাহাড়ে মুক্তিপণের দাবীতে আটক হামিদ পক্ষকাল ধরে উদ্ধার হয়নি

hamid-scaled.jpg

হুমায়ূন রশিদ : হোয়াইক্যং কম্বইন্যা পাহাড়ে মহিষ আনতে গিয়েই ডাকাত গ্রæপের হাতে আটক চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে চাচাকে মানবিক কারণে ফেরত দেওয়া হলেও পক্ষকাল অতিক্রম হওয়ার পরও আটক ব্যক্তির মুক্তি হয়নি। এদিকে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রটি তাদের দাবীকৃত মুক্তিপণ শিথিলতা করে বন্দি যুবকের মুক্তির জন্য ৫লক্ষ টাকা দাবী করেন। অপহৃতের পরিবার কোন রকমে এই টাকা দিতে সম্মত হলেও মুক্তিপণ দাবীকারীদের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে অপহৃত ব্যক্তির পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগে রয়েছে।
জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে হোয়াইক্যং ৯নং ওয়ার্ড কম্বনিয়া পাড়ার আব্দুল মজিদের পুত্র জলিল আহমদ (৭২) এবং কবির আহমদের পুত্র হামিদ হোছন (৩০) পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে চরন্ত ঘরের পোষা মহিষের ঝাঁক আনতে যায়। মহিষ খোঁজ করার সময় তারা অর্তকিতভাবে স্বশস্ত্র বনদস্যুদের সামনে পড়ে যায়। তখন তাদের সন্দেহ হলে জলিল ও হামিদ প্রশাসনের সোর্স হিসেবে পাহাড়ে এসেছে কিনা বিভিন্ন কিছু মাথায় নিয়ে তাদের আটকে ফেলে। পরে স্থানীয় দূবৃর্ত্ত চক্রের লোকজন মারফতে তাদের পারিবারিক খোঁজ-খবর নেওয়ার পর তাদের মুক্তির জন্য পাহাড়ে অবস্থানকারী স্বশস্ত্র বনদস্যু গ্রæপের এক সদস্য মুঠোফোন নং-(০০৯৫৯-৪২৫৮৯৬৮৫৮) হতে কল করে জলিল এবং হামিদের পরিজনের নিকট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে বসে। এদিকে অপহৃত জলিল আহমদের শারীরিক অবস্থা কাহিল হওয়ায় ৩/৪দিন পর মানবিক কারণে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে হামিদ হোছনকে মুক্ত করতে হলে কেউ না জানে মতো ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলে। যেহেতু দূর্গম এলাকা এবং প্রশাসনিক সহায়তায় তেমন কাজ হবেনা মনে করে ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন কোনমতেই টাকা দিয়ে অপহৃত হামিদকে ফিরে পেতে চরমভাবে উদগ্রীব হয়ে আছে। তবে উপরোক্ত বিষয়ে এখনো অপহৃতের পরিবার থেকে ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম গংকে ধরতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়া যায় তাদের আস্তানা সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া যায়। এসব পাহাড়ে থাকা অপরাধীদের সাথে যুক্ত হয়েছে সরকারের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে প্রাণে রক্ষার্থে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গা অপরাধী গ্রæপের সাথে হাত মিলিয়ে স্থানীয় লোকজন ধরে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা করে সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন ধারাকে অস্থিতিশীল করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অপহৃত হামিদের স্ত্রী রুজিনা ৩মাসের সন্তান এরফানকে বুকে নিয়ে অপহৃত স্বামী ফিরে আসার অপেক্ষায় চোখের জলে ভাসছে। এই বিষয়ে স্বশস্ত্র ডাকাত দলের হামলার ভয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতনমহলের কেউ মুখ খুলছেনা।
এই বিষয়ে হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,ইতিপূর্বে আমার নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনা শান্তিপূর্ণ জনসাধারণকে অস্থির করে তুলেছে। উক্ত বিষয়টি আমি অবগত হয়ে ভিকটিমদের পরিবারের নিকট গিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করেছি। কয়েকদিন পর অপহৃত বৃদ্ধকে ফেরত দেওয়া হলেও এখনো হামিদের মুক্তি মেলেনি। আমি পাহাড়ি ডাকাতের হাতে বন্দি হামিদকে দ্রæত উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবারো প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।