টেকনাফ সীমান্তে ফের ইয়াবার পাচারের ধুম : দশ দিনে সাড়ে ৯ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

Teknaf-picy_10.126789.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
টেকনাফ সীমান্ত জুড়ে ফের ইয়াবা পাচারের ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সীমান্তের কোন না কোন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার হতে পাচার হয়ে আসছে ভয়ংকর মাদক ইয়াবার বড় বড় চালান। এরমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বেশকিছু ইয়াবার চালান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এসময় পাচারে জড়িত রোহিঙ্গা ও নারীসহ ৮জনকে আটক করা হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দশকে র‌্যাব-বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে ৯ লাখ ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। জব্দ ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এদিকে মাদক বিরুধী সাঁড়াশী অভিযানে গত দেড় বছরে টেকনাফে দেড় শতাধিক ব্যক্তি আইন শৃংখলা বাহিনী ও নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও নতুন করে ইয়াবার পাচার বেড়ে যাওয়ায় শংকিত হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।
জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক অভিযান চালিয় ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে ২ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ শাহ জিয়া। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১০ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে। এসময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা প্যারাবনে একটি জারিকেন ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জারিকেন উদ্ধার করে তার ভেতর থেকে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। অপরদিকে একই দিন, ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উপকূলীয় শাপলাপুর ইউনিয়নের নোয়াখালীয়া পাড়া মেরিনড্রাইভে অভিযান চালিয়ে পরিত্যাক্ত দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরে বস্তা তল্লাশী করে দুই লাখ পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান,উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়া মঙ্গলবার ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন। এসময় বিজিবি সদস্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ইমাম হোসেন (২৫) নামে এক পাচারকারী নিহত হন।
এছাড়া ১ ডিসেম্বর হোয়াইক্যং আমতলী এলাকা থেকে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ জয়নাল নামে এক ইয়াবা কারবারীকে আটক করে বিজিবি জওয়ানরা। একই দিন রাতে র‌্যাব ১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের অভিযানে জাদিমুড়া এলাকা হতে ২ লাখ ইয়াবাসহ আবুল কালাম নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। একই দিন বিজিবি জওয়ানরা মৌলভী বাজার এলাকা হতে আসমা খাতুন নামে এক নারীকে ৩৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করেন।
পরদিন ২ ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া এলাকায় আব্দুল মজিদের বসতভিটায় অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ বাড়ির মালিককে আটক করেন।
৩ ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা দমদমিয়া ১৪ নং ব্রীজ এলাকায় অপর এক অভিযানে দেড় লাখ ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হন।
৪ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা লেদা এলাকা হতে ৬০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্রসহ হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মোতালেব ফরহাদকে আটক করেন।
৭ডিসেম্বর ভোরে বিজিবি জওয়ানরা জাদিমুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার হতে নদী সাঁতরে ৪৪ হাজার ইয়াবার চালান নিয়ে আসা রোহিঙ্গা হাফেজ আহমদকে আটক করেন।
এদিকে র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে র‌্যাব ১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৫০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেন। এসময় ৬ জনকে আটক করা হয়।