গণহত্যার পক্ষে সাফাই দিয়ে সু চি‘র বক্তব্য শুরু

suchi.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার বিচারের শুনানি। গতকাল প্রথম দিনের শুনানি শেষে আজ আবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দিনের মত এই মামলার শুনানি। গাম্বিয়ার দায়েরকৃত মামলার শুনানির জবাবে অংশ নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেন, দুঃখজনকভাবে রাখাইনের অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর চিত্র উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া।

নেদারল্যান্ডের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুনানিতে আছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল। হেগের এই আদালতের যেকোনো রায়ই চূড়ান্ত, পালন বাধ্যতামূলক। চূড়ান্ত রায়ের পর আপিলের কোনো সুযোগ নেই।

গণহত্যার পক্ষে সাফাই দিয়ে সু চি‘র বক্তব্য শুরু

গণহত্যার পক্ষে সাফাই দিয়ে সু চি‘র বক্তব্য শুরু
বিশ্ব শান্তির জন্য পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ১৭ জন বিচারপতির সামনে হাজির হয়েছেন, এমন দৃশ্য অভাবনীয় হলেও গতকাল মঙ্গলবার তা-ই ঘটেছে।

যে সু চি একময় একময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য অহিংস সংগ্রামের কারণে বছরের পর বছর কারাবন্দি হয়েছিলেন সেই তিনিই আজকের বিশ্বে ক্ষমতার ছায়াতলে এসেই ভুলে গেলেন নিজের অতীত সংগ্রামের কথা! যেই সংগ্রাম থাকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি করে তোলে একজন সংগ্রামী নেত্রী হিসাবে সেই তিনি আজ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দাড়ালেন সেই সকল সেনাদের পক্ষে যারা হত্যা-ধর্ষণ করেই ক্রান্ত হয়নি, প্রায় ১২ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গাকেও করেছে দেশ ছাড়া। ধ্বংস করেছে বাড়ি ঘর গ্রামের পর গ্রাম।

রক্তাক্ত এই অভিযানে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও চালানো হয়। প্রাণে বাঁচতে সেই সময় রোহিঙ্গাদের ঢল নামে প্রতিবেশি বাংলাদেশে। পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদে মুসলিম দেশ গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদের উৎসাহে গণহত্যার দায়ে মামলা করে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দিন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের জেরে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং-সহ আরও তিন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন নুচিন বলেন, নিষ্পাপ বেসামরিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্যাতন, অপহরণ, যৌন সহিংসতা, খুন অথবা নিষ্ঠুরতা সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

নোবেল পুরস্কার বিতর্ক
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চির রোহিঙ্গা নিধনে চুপ থাকা এবং সামরিক জান্তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণহত্যা সমর্থন করায় তার নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি ওঠে বিশ্বব্যাপী।

২০১৭ সালে চার লাখেরও বেশি মানুষ একটি অনলাইন পিটিশন স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে সু চির নোবেল প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে।

সুচির জাতিবিদ্বেষী আচরণ
রোহিঙ্গা নিধনের ব্যাপারে বিবিসির এক সাংবাদিক সু চির সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সেখানে তিনি বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। মিশাল হোসেন নামে সাংবাদিককে দেয়া সেই সাক্ষাৎকারে আং সান সু চিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে অনেক অপ্রিয় এবং কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

২০১৩ সালে ওই সাক্ষাৎকারের পর সু চি মন্তব্য করেছিলেন, ও (মিশাল হোসেন) যে একজন মুসলিম কেউ তো আগে আমাকে জানায়নি।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারে ধারাবাহিক নির্যাতনের ব্যাপারে অং সান সু চি তার নিশ্চুপ ভূমিকার কারণে সমালোচিত হয়েছেন। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে এমন অনুরোধও জানিয়েছেন যেন রোহিঙ্গাদের এই নামে উল্লেখ করা না হয়।