জারুলিয়া ছড়িতে স্বামীকে কুপিয়ে জখম করলো স্ত্রী

n.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী : বিবাহ গোপন রাখে তৃতীয় বিয়ে করার দায়ে মো, মুছাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বার ) দিবাগত গভীর রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার বোমাঝিরি নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত মো,মুছা (৩০) জারুলীয়াছড়ি এনামুল হক এর পুত্র।

জানাযায়,আহত মো,মুছা দীর্ঘ সাত বছর যাবত জারুলীয়াছড়ি এলাকার বোমাঝিরিতে বসবাস করতেন। সেখানে পারভীন নামে এক মেয়ের সাথে বিয়ে আবদ্ধ হয়। আনুমানিক দীর্ঘ দশ বছর সংসার করার পর দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কোলহে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। সেই সংসারে তিন মেয়ে, এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

পরে টেকনাফ জিন্জিরা এলাকার মনোয়ারা বেগম নামে দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন মো, মুছা। মনোয়ারা বেগম এবং মো, মুছার সংসারের এক বছরের মাথায় একটি পুত্র সন্তান আসে সংসারে। দুই বছর সংসার করার পর কোন ধরনের অজুহাত ছাড়াই নিজ গর্ভের দেড় বছরের সন্তানকে রেখে চলে যায় বাপের বাড়ীতে। পরে স্ত্রী মনোয়ারার জন্য দীর্ঘ দুই বছর অপেক্ষা করার পর সন্তান লালন পালনের দায়ে কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার হাসিনা বেগমকে তৃতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয়। তৃতীয় স্ত্রী হাসিনা বেগম ছিলো লেংড়া প্রতিবন্ধি। সেই সংসারেও এক সন্তান রয়েছে। সেই প্রতিবন্ধিকে নিয়ে সংসার ভালোই চলছিল। সংসারে এক বছর অতিবাহিত হতে দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম মো, মুছার কাছে চলে আসেন। আলাদা ভাবে সংসার করার প্রস্তাব দিলে স্বামী মুছা প্রতিবন্ধি স্ত্রীকে ভাড়া বাসায় রেখে ভরন-পোষন ঠিক মতো দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিজ ঘরে পূণঃরায় সংসার করে। হঠাৎ গত বুধবার দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা স্বামী মো,মুছাকে গভীর রাতে শরীরে ঢাকানো কম্বলের উপর দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে থাকলে ঘুম থেকে জেগে উঠে দৌড় দিতে গিলে পিছন থেকে আরও কুপাতে থাকলে মাথায়, গলায় গুরুত্বর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তপাত যেতে দেখে তখন সু-চিৎকার করায় এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসে।
আহত মো,মূছাকে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুত্বর ব্লেডিং দেখে দ্রুতগতিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।

গুরুত্বর অহত হওয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সাব-ইন্সেপেক্টার (এস,আই) মো,নুরুল আমিন বলেন, ঘাতক মনোয়ারা বেগম স্বামী মো,মুছাকে হত্যা করার উদ্দ্যোশে আঘাত করেছে বলে আমাদেরকে স্বিকার করেছে। আহত মুছাকে দ্রুত কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে থানার হেফাজতে রয়েছে বলে জানান। তবে এখনো অভিযোগ আসেনি। মুছার পরিবার থেকে অভিযোগ আসলে তা তদন্ত সাপেক্ষে গ্রহণ করা হবে।

আহত মুছার ছোট বোন মিনারা বেগম জানান,আমার বড় ভাই মো, মুছা বিয়ে করে দীর্ঘ ১০ বছর সংসার করে ৪ সন্তানের জনক হওয়ার পর সাংসারিক কলোহের দায়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায় বিয়ে।পরে মনোয়ারাকে বিয়ে করে পেটের তাড়নায় চট্টগ্রামে গিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে চাকুরী করেন। স্বামী মো,মুছা একি এলাকায় রিক্সা চালিয়ে দুই জনেই কোন মতে সংসার চালিয়ে আসছিলো। কয়েক বছর পর দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম আর স্বামী মো,মুছার মধ্য বুঝাপরায় গার্মেন্টস চাকুরী ছেড়ে দিয়ে শহর থেকে গ্রামে চলে এসে সাংসারিক জীবন শুরু করে দুইজনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকে। তবে ঘটে যাওয়া রাতে শ্বাশুড়ীর সাথে স্ত্রী মনোয়ারা কথা কটাকাটি হয়। এরপর থেমে যায়। স্বামী স্ত্রী রাতে এক বিছানায় থাকার পর গভীর রাতে স্বামী ঘুমে পড়লে স্ত্রী মনোয়ারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দেয়। স্বামী জখম অস্থায় সু-চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। স্ত্রী মনোয়ারা ঘটনাস্থল থেকে পালাতে চাইলে এলাকাবাসীরা আটকিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। স্ত্রী মনোয়ারা বেগম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছে। এই ঘটনাটি নেক্কারজনক বলে জানান এলাকাবাসী।

আর এদিকে, ঘাতক মনোয়ারা বেগম যেন তদন্তপূর্বক যেন ছেড়ে না দেয়ার দাবী জানিয়েছেন আহত মুছার মা-বা ও স্বজনেরা। তারা সুষ্ট তদন্ত বিছার চান আহতের পরিবার।