টেকনাফ সৈকত ও আশপাশেই আবর্জনা!

Teknaf-Pic-A-1-28-11-19-scaled.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফ শামলাপুর সৈকত এখন ময়লা আবর্জনার ডাস্টবিন। শামলাপুর বাজারের বর্জ্য প্রতিনিয়ত সৈকতে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। বাজার কমিটি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের খামখেয়ালীপনায় শামলাপুর সৈকত দিন দিন ময়লা-আবর্জনায় পরিণত হচ্ছে। এতে খুব বেশী দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সৈকতে আসা লোকজনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শামলাপুর সৈকত তাঁর নিজস্ব সৌন্দর্য্যও হারাতে বসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,শামলাপুর বাজারে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বর্জ্য ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত লোকজন প্রতিদিন সৈকতে ফেলছেন। বাজারের বর্জ্য সৈকতে স্তুপ করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টিতে লোকজন, বাজার কমিটির অদূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সচেতন মহল, সৈকতে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাজার কমিটিকে দায়ী করেছেন। এদিকে শামলাপুর ছাত্র ঐক্য ফোরামসহ স্থানীয় সচেতন মহল বাজার কমিটি কর্তৃক যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবী জানিয়েছেন। জানাগেছে, প্রতিবছর শামলাপুর বাজার থেকে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করছে। অথচ সেই বাজারের বর্জ্য সমুদ্র সৈকতে ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় উন্নয়নকর্মী আলমগীর সৈকত রক্ষায় বাজারের বর্জ্য বাজারে রাখার দাবী জানিয়েছেন। শামলাপুর ছাত্র ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নকর্মী জালাল উদ্দিন জানান,বাজারের বর্জ্য সৈকতে ফেলে ডাস্টবিন তৈরী করা খুবই দু:খজনক। এতে পরিবেশ দূষণ হয়ে দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সৈকতে আবর্জনা না ফেলতে বাজার সংশ্লিষ্ট এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বাহারছড়া শামলাপুর বাজার ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতির সভাপতি ও শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার এমএ মনজুর জানান, আসলে জায়গা সংকটের কারণে বাজারের ময়লা-আবর্জনা সৈকতে রাখা হচ্ছে। বীচ কর্মী না থাকায় এখানকার সৈকত নিয়মিত অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকে। তিনি বাহারছড়া সৈকতটি বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক নূরুল আমিন জানান,আসলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব হচ্ছে বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থপনা নিশ্চিত করা। সৈকতে বাজারের বর্জ্য ফেলা খুবই গর্হিত কাজ। তিনি এই বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে নোটিশ করবেন জানিয়ে বলেন,এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সৈকতে আবর্জনা ফেলা খুবই অপরাধ। বাজারের বর্জ্য বাজার কমিটি এবং ইউনিয়ন পরিষদই ব্যবস্থাপনা করবেন। তিনি বিষয়টি খুঁজ নিয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।##