টেকনাফে শাক-সবজি মৌসুমেও মূল্য উর্ধ্বমূখী থামছেনা

Teknaf-Pic-27-11-19-scaled.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু : টেকনাফে শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় জনমনে এক ধরণের অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
ভূক্তভোগী লোকজন জানায়,উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির তৎপরতার অভাবে এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী এবং আড়তদারেরা যোগ-সাজশে তরি-তরকারীসহ নিত্যপণ্যের দাম দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম কষ্ট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন সমাজের প্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী লোকজন নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়,বর্তমানে কৃষিতে স্বয়ং সম্পুর্ণ টেকনাফ। এখানে আগের মত বাহির থেকে আর সবজি আনার প্রয়োজন পড়েনা। এখানকার উৎপাদিত সবজি দিয়েই চাহিদা মিটে। তবে রোহিঙ্গা অনু প্রবেশে সবজির বাজারে কিছুটা চাপ পড়লেও তা কিন্তু এই সময়েই নয়। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবজিতে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নিচ্ছেন এমনটি মনে করেন কৃষি বিভাগের লোকজন। তবে রোহিঙ্গা চাপের কারণে বর্ষা মৌসুমে বাহির থেকে কিছুটা তরকারী আনার বিষয়টিও জানান। এছাড়া বছরের অন্য সময়ে এখানকার উৎপাদিত ফসলই যথেষ্ট বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দেশের অন্যান্য জায়গার মত পরিকল্পিতভাবে তরী-তরকারীর মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন অসাধু চক্র।
সংশ্লিষ্টদের ধারণাচক্রটি অতিরিক্ত মুনাফা এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টে কাজ করছে। তাই তারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি দু:খজনক জানিয়ে ভোক্তভোগী লোকজন জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে,শসা প্রতি কেজি ১শ টাকা,টমেটো প্রতি কেজি ১শ টাকা,ফুল কপি ১শ টাকা,শিম ৮০/১শ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০টাকা,গাঁজর ৯০টাকা, মূলা ৪০টাকা,পেঁপেঁ ৪০-৫০টাকা,চিচিঙ্গা ৪০টাকা,ঢেড়শ ৮০টাকা, বাঁধা কপি ৬০টাকা,মিষ্ট কুমড়া ৪০-৫০টাকা,পিয়াজ ২শ টাকা,রসুন ১শ ৬০টাকা, আদা কেজি প্রতি ২শ টাকায়সহ নিত্যপণ্য অস্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার হ্নীলা মন্ডলপাড়া এলাকার মাওলানা আনোয়ার হোসাইন এবং মীর কাশেম পুতিয়া, জানান,তরকারী ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম নিয়ে নিচ্ছেন। হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম জানান,মাত্রাতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাজার করতেই হিমশিম খাচ্ছি। তিনি তরকারী ব্যবসায়ী কর্তৃক ইচ্ছেমত দাম নেওয়ার অভিযোগের কথা জানান। হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু জানান,কার কথা কে শুনে? টেকনাফের তরি-তরকারী ব্যবসায়ীরা স্বাধীন! যে যেভাবে পারছে। সেভাবেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
হ্নীলার আড়তদার মনছুর, দিলদার আহমদ, জাফর এবং সাহাব মিয়া জানান, সারা দেশেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। তাই এখানেও বেশী। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের মত আড়তদাররা দায়ী নন বলে জানান। তবে তরকারী ব্যবসায়ী নুর হোসেন, হেলালুদ্দীন, দেলোয়ার, শামসুল আলম, শাহ আলমসহ ভোক্তভোগী লোকজন মূল্য বাড়ানোর জন্য আড়তদারদের দায়ী করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান,কৃষিতে স্বয়ং সম্পুর্ণ টেকনাফ উপজেলা। এখানকার কৃষকের উৎপাদিত ফসল চাহিদা মিটিয়ে বাইরে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে কেবলমাত্র বর্ষা মৌসুমে কিছুটা তরী-তরকারীর সংকট হয়।
উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান,শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সবজিসহ নিত্যপণ্যের সাথে যারা খেলা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#