টেকনাফের নাইট্যং পাহাড় ঝর্ণা : পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে পর্যটকদের অগোচরে

nitton-pahar-jorna3_22.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ :
নেটং পাহাড়ের কয়েকশো ফুট উপর থেকে পাহাড়ের গা বেয়ে ক্লান্তিহীন ঝড়ে পড়ছে স্বচ্ছ পানির ধারা নাইট্যং পাহাড় ঝর্ণা। বৃটিশ শাসনামলে ঝর্ণাটির আবিস্কার। অর্ধশতকের বেশী সময় ধরে এটি টেকনাফের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিচিত। তবে পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে ঝর্ণাটি ক্রমেই আকর্ষণ হারাতে বসেছে। পর্যটকদের অগোচরেই রয়ে যাচ্ছে এই ঝর্ণাটি।

টেকনাফ বাস টার্মিনাল হতে মাত্র কয়েকশো দূরে প্রধান সড়কের পাশেই নাইট্যংপাড়া এলাকায় ঝর্ণাটির অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে এটি তাই নাইট্যংপাড়া ঝর্ণা নামেও পরিচিত। আবার অনেকে এটিকে বৃটিশ ঝর্ণা হিসাবে অভিহিত করেছেন। বর্ষাকালে ঝর্ণার স্রোতধারা তীব্র হলেও শীত মৌসুমে তা কিছুটা কমে আসে। এলাকাটি একেবারেই নীরব কোলাহলহীন। দুর থেকে পানির স্রোতধারা ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়। ঝর্ণার পাশে গেলে শীতল একটা অনুভুতি। শুনা যায় পাখিদের কোলাহল। প্রাকৃতিক এক স্নিগ্ধ অনুভুতি ছুয়ে যায় মন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃটিশ শাসনামলে সাগর আর নদী বেষ্টিত টেকনাফে সুপেয় পানির তেমন কোন উৎস ছিল না। যান্ত্রিক কোন ব্যবস্থা না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় সেসময় ঝরণার এই পানি পাইপের মাধ্যমে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে টেকনাফ উপরের বাজার এলাকায় নেওয়া হতো। সেখানে দুটি কুপে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। সেই কুপের পানি বাজার এলাকার মানুষ ব্যবহার করতো। স্থানীয়দের কাছে এই ঝর্ণার পানি এখনো খাবার ও ব্যবহারের পানির অন্যতম উৎস।

নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, একসময় স্থানীয় আর বাহিরের প্রচুর পর্যটক সমাগম হতো এখানে। পরিকল্পনা আর পরিচর্যার অভাবে ক্রমে পর্যটকদের আকর্ষন হারাচ্ছে ঝর্ণাটি। এছাড়া নিরাপত্তার অভাবও রয়েছে।

পাহাড় প্রেমিক কাইছার পারভেজ জানান, সেই স্কুল পড়াকালীন সময় থেকে ছুটির দিন গুলোতে আমরা দলবেঁধে ছুটে যেতাম নাইট্যং ঝর্ণায়। মনোরম একটি ঝর্ণাটি এখন অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। প্রাকৃতিক এ ঝরণাটি সংস্কার করা হলে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম একটি আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হতো।

বন বিভাগ টেকনাফ রেঞ্জ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, নাইটং ঝর্ণাটি টেকনাফের একমাত্র প্রাকৃতিক ঝর্ণা যা সারাবছর বহমান থাকে। আরো কয়েকটি ঝর্ণা থাকলেও সেগুলি শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। এটি টেকনাফ গেম রিজার্ভের আওতাভুক্ত। নাইটং ঝর্ণাটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।