সেন্টমার্টিন সৈকতে পর্যটকদের বিরক্তির কারণ আবর্জনা!

Teknaf-Pic-A-3-19-11-19-scaled.jpg

জসিম উদ্দিন টিপু,সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে : সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপের সৈকতে চোখে পড়ে শুধু নারিকেল-ডাবের কোষা এবং আবর্জনা। জানাগেছে,পর্যটকদের কাছে ডাব এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে দিন শেষে ব্যবসায়ী কর্তৃক নিজ দায়িত্ব ডাবের কোষাসহ সৃষ্ট আবর্জনা সরিয়ে না ফেলায় বর্জ্যের স্তুুপে পরিণত হচ্ছে। বীচের সৌন্দর্য্য রক্ষার্থে ডাবের কোষাসহ সৈকতে সৃষ্ট বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার দাবী জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,প্রতিদিন সেন্ট মার্টিনে ২/৩ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে। ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা সৈকতে ঘুরে বেড়ান। সকাল-সন্ধ্যা নির্মল হাওয়া এবং রাত্রিকালীন সৌন্দর্য্য উপভোগে তাঁরা দ্বীপের চারিদিকে বিচরণ করেন। এসময় পর্যটকরা ডাবের খোসা,চিপস,পানীয় বোতল এদিক সেদিক নিক্ষেপ করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেন্ট মার্টিন জেটির সম্মুখে মাইকিং দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। তবে বীচে পর্যটকদের সচেতনতায় তাদের কর্মী নেই বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান,পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু সাইনবোর্ডে লাগানো হয়েছে। তাঁরা পর্যটক এবং স্থানীয়দের স্বার্থে কিছুই করেন না। দ্বীপ এবং সৈকত পাড়ে রয়েছে ছোট্ট অগণিত দোকান। এসব দোকানীরা ডাব,পানীয় এবং খাদ্য জাতীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করে পর্যটন মৌসুমে ভাল ব্যবসা করেন। কিন্তু সৈকত পাড়ের দোকানীরা বীচের আশে পাশে ময়লা আবর্জনা রেখে দেন। ডাবের কোষাসহ ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
ছেঁড়াদ্বীপের দোকান ব্যবসায়ী শুক্কুর মাঝি জানান,আসলে দ্বীপের দোকানী এবং ডাব বিক্রেতারা কেবল ব্যবসা করেন। কিন্তু নিজেদের সৃষ্ট আবর্জনা নিজ দায়িত্ব পরিস্কার না করায় সৈকতে ময়লা-আবর্জনা সৃষ্টি হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ জানান,পরিষদের পক্ষ থেকে সৈকতে ছোট্ট ছোট্ট ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সৈকতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বীচ কর্মী না থাকায় এসব ডাস্টবিনে কাজ হচ্ছনা৷ পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি ইঙ্গিত করে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ওনাদের কাজ কি? সৈকতের পরিবেশ রক্ষা কি তাদের দায়িত্বে পড়েনা? তিনি সেন্টমার্টিন এবং ছেঁড়াদ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সরকারী-বেসরকারী সহযোগীতার দাবী জানিয়েছেন।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ নুরুল আমিন জানান,বীচে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মুলত ওখানকার ইউনিয়ন পরিষদের উপর বর্তায়। নিজেদের দ্বায় এড়িয়ে পরিবেশের এই কর্মকর্তা জানান,আমরা জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছি। ##