লেদায় ৪লাখ ৮০হাজার ইয়াবার চালান লুটকারী চক্র ধরা-ছোয়াঁর বাইরে আর ক’দিন!

yaba.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : গত দেড়মাস পূর্বে মিয়ানমার হতে বড় ধরনের ইয়াবার চালান আনার সময় কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়া ৪লাখ ৮০হাজার ইয়াবার চালান লুটকারী সিন্ডিকেটের রাঘব-বোয়াল সদস্যরা এখনো বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনায় সন্দেহের বশে সাধারণ দরিদ্র পরিবারের এক ছেলে অমানবিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হলেও এই অপরাধে সম্পৃক্ত প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় না আসায় স্থানীয় জনসাধারণের মনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একদল রোহিঙ্গা পশ্চিম লেদার আবুল হোছনের পুত্র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কিং আব্দুল খালেকের জন্য আনা ৪ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবার চালান এনে পূর্ব লেদার লবণের মাঠে গর্ত করে লুকিয়ে রাখে। এই ঘটনার পর খবর পেয়ে পূর্ব লেদার লেদা লামার পাড়ার আহমদ হোছনের পুত্র মোহাম্মদ আমিন (৩০), খাইরুল আমিন (২৮), জাফর মার্কেটের পূর্বপাশের্^ সাতঘর পাড়ার আমির হোছনের পুত্র বেলাল (২৫), লামার পাড়ার সোলেমানের পুত্র আব্দুর রশিদ প্রকাশ গাজু, বেলা কাদিরের পুত্র আবুল কালামসহ একটি চক্র উক্ত ইয়াবার চালান ছিনতাই করে অন্যত্র সরিয়ে রাখে।
এই চক্রের সদস্যরা হচ্ছে লেদা লামার পাড়ার আহমদ হোছনের পুত্র মোহাম্মদ আমিন (৩০), খাইরুল আমিন (২৮), জাফর মার্কেটের পূর্বপাশের্^ সাতঘর পাড়ার আমির হোছনের পুত্র বেলাল (২৫), লামার পাড়ার সোলেমানের পুত্র আব্দুর রশিদ প্রকাশ গাজু, বেলা কাদিরের পুত্র আবুল কালাম এই চালান ছিনতাইয়ের পর অন্যত্র বিক্রি করে মোটাংকের টাকা হাতে পায়। একজনে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা ভাগ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এরা এখন এলাকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে মানুষ হিসেবে মানতে নারাজ। কিছুদিন পূর্বেও যাদের ঘর-সংসার চালাতে নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত অবস্থা ছিল তারা এখন এই চালান লুটের পক্ষকাল না পেরুতেই দুহাতে টাকা খরচ করে এলাকাবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিয়েছে। গাজুর মেয়েকে জনৈক জাকের নামে এক ব্যক্তির সাথে মহাধুমধামে বিয়ের প্রস্তুতি, মোঃ আমিনের এক মেয়েকে রঙ্গিখালী এলাকায় জৌলুসভাবে বিয়ের আয়োজন লোকমুখে রীতিমত হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। এদিকে বেলালের গরম টাকা খরচের স্টাইলে স্থানীয় নাপিত পর্যন্ত উল্লাসিত বলে জানা গেছে।
ইয়াবা চালানের মালিক খালেক গং এত বড় সর্বনাশ সম্ভবত বিলের মাঝে ধান পাহারায় থাকা স্থানীয় ফরিদের পুত্র শাহজালাল (১৮) জড়িত সন্দেহ করে চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে পরদিন ভাড়াটে ডাকাত মকতুল হোছনের পুত্র নুরুল আমিন, ঈমান হোছন, গফুর মিয়ার পুত্র রুবেল, শুক্কুনুর পুত্র ধইল্যাসহ একটি গ্রæপ শাহজালালকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে ৩/৪ দিনধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর পাহাড়ী পথে রঙ্গিখালী পাহাড়ী আস্তানায় নিয়ে যায়। অবশেষে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে ভোররাত ৩টারদিকে অপহৃত শাহজালালকে উদ্ধার করা হয়। আইন-শৃংখলা বাহিনী সপ্তাহের অধিক সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন ধরনের তথ্য না পেয়ে শাহজালালকে বাড়িতে ফেরত দেয়। ফিরে আসা শাহজালাল এসব নির্যাতনের প্রতিকার দাবী করলে উল্টো মাদক ছিনতাইকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য তাদের মেরে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ আমিনের নিকট জানতে চাইলে বলেন,আমরা এই ধরনের কোন কাজে খারাপ কাজে জড়িত ছিলাম না। এলাকার একটি শত্রæ আমাদের প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করার জন্য এই ধরনের কাজের আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে ইয়াবা কিং ও সন্ত্রাসী আব্দুল খালেক মাদকের কোটি কোটি টাকায় দুলাহাজারাসহ পাশর্^বর্তী এলাকায় প্রচুর ভূ-সম্পদ নামে-বেনামে ক্রয় করছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। অল্প বয়সের খালেক পাহাড়ে অবস্থানকারী স্বশস্ত্র ডাকাত ও অস্ত্রধারীদের সংস্পর্শে গিয়ে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য গড়ে তোলে বিশেষ বাহিনী। তাদের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক চোরাচালান। আর কিছু উপরি আয়ের বিনিময়ে এলাকার কতিপয় মুখোশের আড়ালে থাকা রাঘব-বোয়ালেরা অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে মাথায় করে রাখায় সাধারণ মানুষ মাদক কারবারীদের উৎপাত থেকে রেহায় পাচ্ছেনা বলে বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ উঠছে।
উপরোক্ত ইয়াবা চালান ছিনতাইকারী চক্রের যেকোন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলেই মাদক সংক্রান্ত যাবতীয় অপকর্মের থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয় লোকজন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। #