রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাঠানোর হোতা আতিকুর গ্রেফতার

image-242788-1573497426.jpg

ডেস্ক নিউজ :
রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্মসনদের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে মানব পাচার করছে- এমন একটি চক্রের হোতা আজিজিয়া ট্রাভেলিং ইন্টারন্যাশনালের মালিক আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসাবোতে নাভানা টাওয়ারে তার বিলাসবহুল বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাসপোর্ট, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে ইসলামী ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকার এফডিআরের (স্থায়ী আমানতের কাগজপত্র) কাগজপত্র, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ির দলিল পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন- এমন তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

এছাড়া পূর্বাচলে দুটি প্লটের কাগজপত্রও পাওয়া গেছে। এই এজেন্সির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রতি মাসে ২৫০টি করে পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে দেয়া হতো। পরে তাদের পাঠানো হতো মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে। এদিকে বাসাবোর অফিসে অভিযান শেষ করে রাতেই মতিঝিলে আতিকুরের মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে অভিযান চালানো হয়। রাত ৮টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।

র‌্যাব জানায়, অবৈধ উপায়ে আয় করা ৬০ লাখ ডলার অর্থ সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন- এমন তথ্য-প্রমাণ তার অফিসের নথিপত্র থেকে পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যাংকে ৪ লাখ ২৭ হাজার ডলার এবং সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে ৬০ হাজার ডলার রয়েছে তার নামে। দেশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে তার নামে ৭০ লাখ টাকা আছে। অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথি থেকে জানা যায়, সোমবারও আতিকুরের ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৭০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর সিপিসি-৩ কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী যুগান্তরকে বলেন, ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ এবং পাসপোর্ট তৈরি করছিল একটি চক্র। এর আগে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আতিকুরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে তার মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সির অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

র‌্যাব জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব-২। নারায়ণগঞ্জ সদরের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদ, জন্মনিবন্ধন তৈরির সিল, সনদের হার্ড ও সফট কপির হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা জানান, আতিকুর রহমান এ চক্রের মূলহোতা।

ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে তিনি এ ধরনের অপকর্মে জড়িত। পাশাপাশি তিনি ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে র‌্যাব। অনুসন্ধানে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়ার পর আতিকুরকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ এবং পাসপোর্ট তৈরিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতিকুরের নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিটি কর্পোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগি অপরাধী, বয়স কম-বেশি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী লোকজনের নামে জন্মসনদ তৈরি করে দেয়া হতো।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার আতিকুরের বাড়ি কক্সবাজারে। কক্সবাজারে তার এজেন্সির অনেক এজেন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করেন। এসব এজেন্টের মাধ্যমেই বিদেশ যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের টার্গেট করা হতো।

বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রথমে জন্মসনদ তৈরি করা হতো। সেই জন্মসনদের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করা হতো। পরে সেই পাসপোর্ট দিয়েই বাংলাদেশি পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে পাঠানো হতো।