নেদারল্যান্ডসের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপ কমাতে ‘কবরে শুয়ে থাকার’ পরামর্শ

k.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মানসিক চাপ আমাদের জীবনে বিষিয়ে তোলে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে আমরা একেকজন একেক পন্থা অবলম্বন করি। কেউ বেড়াতে যাই, কেউ যোগ-ব্যায়াম, করি আবার কেউবা শরণাপন্ন হই চিকিৎসকের।

তবে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষার্থীদেরকে অভিনব পরামর্শ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের র‍্যাডবউড বিশ্ববিদ্যালয়। নিজমেগেন শহরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে শিক্ষার্থীদের কবরে শুয়ে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর বলছে, পরীক্ষা সামনে আসলে শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড রকম মানসিক চাপে থাকেন। তাদের এ চাপ থেকে মুক্তি দেবে এই ‘পিউরিফিকেশন পদ্ধতি’। এটা পরীক্ষার চাপসহ সব ধরনের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। এজন্য অভিনব এই ‘গ্রেভ থিওরি’ বেছে নিয়েছে র‍্যাডবউড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মানসিক চাপ কমানোর এই পদ্ধতিতে কবরের মতো বড় গর্তে শুয়ে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৩০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় কাটাতে পারবেন এই কবরে। তবে শর্ত হলো- শুধু একটি মাদুর আর একটি বালিশ নিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে। নেয়া যাবে না মোবাইল ফোন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।

অভিনব এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিষয়টা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, শুদ্ধিকরণের এই কবরে থাকতে শিক্ষার্থীদের রীতিমতো সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। সেন ম্যাকলগলিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ও আমার রুমমেট চেয়েছিলাম ওই কবরে এক সপ্তাহ আগে থাকতে। সিরিয়াল দিতে গিয়ে দেখি সেখানে ইতোমধ্যে অপেক্ষমানদের একটি তালিকা রয়েছে। তো এতেই বোঝা যায়, বিষয়টি কত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’

প্রজেক্টটির উদ্যোক্তা জন হ্যাকিং এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জীবন শেষে মৃত্যু অনিবার্য। এই চিরন্তন সত্যটি ১৮, ১৯ ও ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বোঝানো খুবই কঠিন। এই পিউরিফিকেশন কবর কিছুটা হলেও তাদের সময় সম্পর্কে ভাবতে সাহায্য করবে।’

পিউরিফিকেশন কবরে ঢুকতেই চোখে পড়বে একটা বোর্ড। সেখানে ল্যাটিন ভাষায় লেখা, ‘মোমেন্টো মরি।’ অর্থাৎ, ‘মনে রেখ, তুমি একদিন মা যাবে।’