বাংলাদেশ-ভারত টি-টুয়েন্টি সিরিজের ‘ফাইনাল’ : টাইগারদের জয়ের আশা

88-88-1.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : সাত সকালেই বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে হাজির টিম বাংলাদেশ। ঝলমলে রোদে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। সবাই ছিলেন চনমনে। রাজকোটে আগের ম্যাচের হারটা যে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস টলাতে পারেনি, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারও। অটুট আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালে রূপ নেওয়া সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সফরকারীরা।

নাগপুরে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচটি অলিখিত ফাইনাল বনে যাওয়ার দায়টা বাংলাদেশেরই। দিল্লিতে সাত উইকেটে জয় তুলে নেওয়ার পর রাজকোটে বিজয়কেতন ওড়াতে পারলেই ভারতের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাসটা লেখা হয়ে যেত। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। হেরেছে বাজেভাবে। ফলে সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় নাগপুরে পা রাখতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহর দলকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নাগপুরে আজ অপেক্ষাটা ঘুচবে তো? প্রশ্নটা উঠছে ম্যাচটার সঙ্গে ফাইনাল তকমাটা যোগ হওয়ায়। অতীত বলে, ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারে না বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনাল আর নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল সে কথাই বলে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক অতিতে টাইগারদের অগগ্রযাত্রায় বারবার বাধার দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত।

ওই ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশকে সব থেকে বেশি ভুগিয়েছেন রোহিত শর্মা। ব্যাট হাতে অসাধারণ সব ইনিংস খেলে তিনিই গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান। যেভাবে গড়ছেন আগের ম্যাচে। টাইগার শিবির তাতে এই সত্যটা ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছে ফাইনালের গেরু খুলে ভারতের মাটিতে আজ প্রথম সিরিজ জয়ের উৎসব করতে হলে দ্রুত ফেরাতে হবে রোহিতকে। দিল্লিতে যেভাবে ভারতীয় অধিনায়ককে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়েছিল তারা, তুলে নিয়েছিল জয়।

দলের সঙ্গে থাকা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তো বলেই দিয়েছেন, ‘দিল্লিতে আমাদের জয়ের অন্যতম কারণ ছিল, দ্রুত রোহিতকে ফেরানো হয়েছিল। ও টিকে গেলে বড় বিপদ!’ স্বাভাবিকভাবেই আজ টাইগারদের রণপরিকল্পনার বড় একটা অংশ জুড়ে থাকছেন রোহিত। তা ছাড়া এই ম্যাচেও রাজকোটের মতো নিখাদ ব্যাটিংসহায়ক উইকেট চেয়েছে ভারত। তাদের সেই চাওয়া পূর্ণ হলে তো কথাই নেই, তা না হলেও রোহিতকে থামাতে হবে দ্রুত।

এমনিতে অবশ্য নাগপুরের উইকেট বোলারদের পক্ষে থাকে। এখানে ১৫৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি কোনো দল। অতীত বলে, এই মাঠে ১৩৫-১৪০ রানই ফাইটিং স্কোর। অর্থাৎ ব্যাটসম্যানদের কাজটা আজ সহজ হবে না। আগের ম্যাচে অমন পাটা পিচেও ঠিকঠাক আলো ছড়াতে না পারায় এই দিকটাতেও বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে অতিথিদের। তাই বলে ছন্দহীন থাকা দুই ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন আর মোসাদ্দেক হোসেনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এমনটাই জানিয়েছেন।

শুধু ব্যাটিং নয়, আফিফ-মোসাদ্দেক অফস্পিটাও ভালোই করেন। ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, নাগপুরের উইকেট হবে স্পিনসহায়ক। সে ক্ষেত্রে আফিফদের ওপর আস্থা রেখেই তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি, উইকেটে যদি স্পিন থাকে তাহলে ম্যাচে আমাদের স্পিনারদের সুযোগ চলে আসবে। আমাদের প্রচুর স্পিনার আছে যাদের দিয়ে পুরো ২০ ওভারই করানো সম্ভব।’ অর্থাৎ আজও বাংলাদেশের একাদশটা অপরিবর্তীত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অপরিবর্তিত থাকছে লক্ষ্যটাও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের গেরু খুলে ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়া।