porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

টেকনাফে পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ:সিন্ডিকেটের কথা জানেনা প্রশাসন

safe_image-1.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :

টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরপরও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জড়িত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ১৫ সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে ১২জন হচ্ছে কক্সবাজারের। একারণে চিহ্নিত এই ১২জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, সেই সুপারিশের কথা জানেন না কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, মিয়ানমারে পেঁয়াজের শেষ মৌসুম। এখন ভাল কোন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে তাও মুল্যবৃদ্ধি এবং অধিকাংশ পঁচা। তাই চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরাও অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি কেন এবং কি কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। কিন্তু, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিন্ডিকেটের তালিকার কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা অবহিত নয়। এধরণের কোন সুপারিশও আমাদের হাতে পৌছেনি। অবশ্য, বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকার দেখবো’।

কক্সবাজার জেলা মার্কেটিং অফিসার মো: শাহাজাহান আলী সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ভয়েসকে বলেন, ‘কক্সবাজারের শহর ও জেলার বাজার গুলোতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কারণ, ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে পেঁয়াজের যে চালান নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা, এতে ৮৫/৮৭ টাকা কেজিতে পাইকারির রসিদ রয়েছে। এ ধরণের রসিদ আমাদের দেখাচ্ছে ব্যবসায়ী। কাজেই কোন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে গেলে চট্টগ্রামে বসে যারা পেঁয়াজ সরবারাহ করছে মুলত: তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে। এরপরও আমরা আমাদের অবস্থানে আছি এবং প্রতিনিয়ত বাজার মনেটরিং করছি’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সুপারিশ করেছিলাম যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের চালান পাঠানোর পাশাপাশি যাতে করে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদেরও সরবরাহ করেন। কিন্তু, তারা আমাদের কথা শুনেনি। এছাড়াও টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার খবরটি তিনি জানেন না’।

এদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারক সজীব, জহির, সাদ্দাম, বিক্রেতা ফোরকান, শফি, মিন্টু, খালেক, টিপু সহ ১২জন সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এই সিন্ডিকেটের তালিকায় এক নাম্বারে নাম থাকা আমদানিকারক মোহাম্মদ ছালেক প্রকাশ সজিব বলেন, ‘আমাদের কোন সিন্ডিকেট নেই। মিয়ানমারে পেঁয়াজের শেষ মৌসুম চলছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌছতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পেঁছনে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা করে খরচ হয়েছে। এছাড়াও পেঁয়াজের একটি চালান টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌছানো আগেই শত শত বস্তা পেঁয়াজ পঁচে যাচ্ছে’। তিনি এ প্রতিবেদককে পঁচে যাওয়া পেঁয়াজের কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে পেঁয়াজের সংকটের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছিলাম। যেখানে অনেক বড় বড় আমদানিকারকরা এগিয়ে আসেনি, সেখানে আমরা এগিয়ে এসে অনেকটা অপরাধ করেছি। এতকিছুর পরও পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট হিসাবে আমাদের চিহ্নিত করেছে। তাই চিন্তা করছি আগামীতে আর কোন পেঁয়াজ আমদানি করব না’।

পেঁয়াজ সংকট সৃষ্টির সিন্ডিকেটের তালিকায় নাম থাকা জহির আহমদ নামের আরেক আমদানিকারক বলেন, ‘যেখানে শত শত বস্তা পেঁয়াজ পঁেচ যাচ্ছে এবং মিয়ানমার মুল্য বাড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে কোন পেঁয়াজ আমদানি করব না। এমনিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, সেখানে আবার প্রশাসনের চোখে আমরা অপরাধি। ব্যবসা না করায় ভাল হবে বলে মনে করি’।

টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টম্স সুপার মো: আফসার উদ্দিন কক্সবাজার ভয়েসকে জানিয়েছেন, টেকনাফ স্থলে বন্দর হয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারের পেঁয়াজ পৌছেছেন, ১হাজার ৫৮০ মেট্রিকটন। এরমধ্যে আমদানিকারক হাসেমের ৪৯৯ মেট্রিকটন, আয়াছের ১৯৯.৮০ মেট্রিক টন, হাবিবের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন, সাদ্দামের ৯৯.৮০০ মেট্রিক টন, মহসিনের ৪৩.২৬০ মেট্রিক টন, জব্বারের ৩৫৯.২৮০ মেট্রিক টন, মাসুমের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন, শওকতের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন ও বাবুর ১৯৯.৬০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। গত দুইদিনে ১হাজার ৮৬৩ মেট্রিক টন।

তথ্য মতে, সব এলাকায় এখনো অস্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও প্রশাসনের অভিযান কোথাও নেই। লোকজন বিভিন্নভাবে এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসন তা নজরে নিচ্ছে না। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এ কারণে এক বাজারেই কয়েক দামে পেঁয়াজ বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে লোকজন এখন পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দামকে বাধ্য হয়ে স্বাভাবিকভাবে নিতে শুরু করেছে। অনেক প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা এখন চুপসে গেছেন প্রায়!

সূত্র কক্সবাজার ভয়েস

Top
bahis siteleri