ইউনি-পে স্টাইলে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও শাহপরীরদ্বীপের বিকাশ ব্যবসায়ী

sadek-bkash.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ :
টেকনাফে ইউনিপে স্টাইলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন একজন বিকাশ ব্যবসায়ী। জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না ভোক্তভোগীরা। অপরদিকে পলাতক বিকাশ ব্যবসায়ীর পরিবারও দায় নিচ্ছেন না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রি পাড়া এলাকার ইমাম শরীফের ছেলে মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান আল আমিন স্টোর নামে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করার পাশাপাশি বিকাশের (বিকাশ এজেন্ট নাম্বার-০১৮৩৯২২৫০৬৩) ব্যবসা করে আসছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি আত্মীয়স্বজন সহ স্থানীয় স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে মোটা লাভের বিনিময়ে বিকাশ ব্যবসায় টাকা লগ্নি করার প্রস্তাব দেন। এতে তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী অনেকে স্টাম্প মুলে অথবা চেকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো লগ্নি করেন। তাদের অনেককে সে লাভের অংশও প্রদান করতে থাকেন। একপর্যায়ে চলতি বছর জুন মাসের শুরুতে হঠাৎ দোকানটি বন্ধ করে সে লাপাত্তা হয়ে যায়। এসময় তার মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে সে কয়েকদিন পর ফিরবে বলে জানালেও পরে উল্টো তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকেন পিতা ইমাম শরীফ। এতে টাকা লগ্নিকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। টাকা ফিরে পেতে তারা থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ধারস্ত হন। এদের মধ্যে বিদেশ ফেরত মো. তৈয়ুব, মো. নুর ও মো. হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ, গৃহিনী নুর হাবার কাছ থেকে দেড় লাখ, ব্যবসায়ী নুরু সওদাগর ২ লাখ, অপর বিকাশ ব্যবসায়ী মনিরের ৪ লাখ, ফরিদের ৩ লাখ সহ আরো বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকার মতো হাতিয়ে নেন।
মো. তৈয়ুব জানান, “ সাদেকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় সরল বিশ্বাসে লাভের আশায় টাকা দিয়ে এখন আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা পিতা-পুত্র মিলে বাড়ি তৈরী করেছেন আবার সাদেকের এক ভাইকে বিদেশে পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অথচ তার পিতা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে আসছেন। সাদেককে ঢাকায় অনেকে দেখেছে বলে জানান তিনি।”
শাহপরীরদ্বীপ অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই দিপক জানান, মো. তৈয়ুব নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় মেম্বারের কাছে সেটি বিচারাধীন ছিল। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখের বেশী টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার তথ্য পেয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ফজল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টাকা হারিয়ে অনেকে বিচার নিয়ে এসেছিলেন। তিনি টাকা উদ্ধারের চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু টাকার পরিমান গ্রাম আদালতের বিচারের আওতার বাহিরে হওয়ায় তিনি কিছু করতে পারেননি।
এব্যাপারে জানতে পলাতক বিকাশ ব্যবসায়ী সাদেকের পিতা জানান, “যারা তার ছেলের সাথে লেনদেন করেছিলেন সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানতেন না। তারপরও পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন, ইতিমধ্যে টেকনাফ জালিয়াপাড়ার একজনের টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি। আবার অনেকের সাথে দেনাপাওনার বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। সবার টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেবেন বলে স্বীকার করেন তিনি।