খুটাখালী আ’লীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মাদক ব্যবসায়ী জিল্লুর!

k-1.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক : ইয়াবা ব্যবসায়ী,বনের জমি দখল,পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানাসহ নানা অভিযোগ চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। রয়েছে মাদক ও পাহাড় কর্তণের একাধিক মামলাও। এরপরও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তিনি সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। এত অপরাধে জড়িত জিল্লুর কি করে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয় তা নিয়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা।
অনেকে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে মাদক সংশ্লিষ্টদের দল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য অভিযান চালাচ্ছেন সেখানে নতুন মাদক ব্যবসায়ীকে দলে বেড়াতে মরিয়া চকরিয়া উপজেলা ও খুটাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। আগামী ১৯ অক্টোবর খুটাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন। যেখানে উপস্থিত থাকবে চকরিয়া ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০১২ সালে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ চট্টগ্রাম শহরে র‌্যাবের হাতে আটক হন সাধারন সম্পাদক প্রার্থী জিল্লুর রহমান। ওই মামলায় জেলও কেটেছেন তিনি। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পাহাড় কাটার দায়ে জিল্লুরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। খুটাখালী ইউনিয়নের পাগলির বিলের কোনারপাড়ায় অন্তত ৫ একর সরকারী জমি দখলে নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি মেধা-কচ্ছপিয়া খাল থেকে বালু উত্তোলন করেন পরিবেশ ক্ষতিকর কাজ করে যাচ্ছেন জিল্লুর।
ইয়াবা মামলার এজাহারে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ঢুকিয়ে ইয়াবা পাচার করছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও সবশেষ ২০১২ সালে এসে ধরা পড়েন জিল্লুর।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি কোন মাদক মামলার সঙ্গে জড়িত নয়। আমাকে আদালত নির্দোশ বলে রায় দিয়েছে। এটি সম্মেলনকে ঘিরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে পরিবেশ এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। কিন্তু আমি এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটি শুধু মাত্র সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
তবে আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন, যেখানে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলান্সের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে জিল্লুরের মত মাদক ব্যবসায়ী ও জমি দখলবাজ কি করে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসবে। এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
খুটাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, জিল্লুর প্রার্থী হয়েছে শুনেছি। তবে তার মামলার বিষয়ে আমি অবগত নয়। যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
এবিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কোন মাদক ব্যবসায়ী দলের ভিড়তে পারবে না। আমরা জিল্লুরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।