porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

কে কোন দলের দেখি না, অপরাধী-অপরাধীই : প্রধানমন্ত্রী

Pm.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : পড়ার টেবিলে অঙ্ক কষছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। এর মাঝেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। আবরারের এই হত্যাকারীদের কে, কোন দলের তা বিবেচনা করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি অপরাধ করে, কোন দল কী করে না করে আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী মানে অপরাধী। আমি তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখি।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, সকাল বেলা আমি যখন খবর পেলাম; সাথে সাথেই আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম ঘটনার আলামতগুলো সংগ্রহ করতে। কারণ, কোনো হত্যাকাণ্ডের পরে যেটা একান্ত প্রয়োজন। আমি এটাও বলেছিলাম, সিসিটিভির ফুটেজগুলোও সংগ্রহ করতে। তারা কিন্তু সেখানে পৌঁছে যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজও কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাদের নিতে হয়। তো আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয় কী জানেন? যখন পুলিশ সেখানে এই সিসিটিভি ফুটেজগুলো হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে, তখন তাদের ঘেরাও করা হলো।’

এ সময় প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী হলো? তাদের এই ফুটেজগুলো নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। সঙ্গে সঙ্গে আইজিপি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, পরে আইজিপি নিজেও আসলেন। বললেন, আমাদের লোকজনকে তো আটকে রেখে দিয়েছে। আলামগুলো নিয়ে তাদের আসতে দিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে আমার মনে তখন প্রশ্ন হলো, আসলে ব্যাপারটা কী। এরা ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন?

‘তারা বলছে ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডি.. সেটা যাতে পোস্টমর্টেম হয়, তার ফরেসনিক হয়; সবধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি তো বলবো, ছাত্ররা নামার আগেই আমরা কিন্তু সাথে সাথে এই ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাথে সাথে কোন রুম কোথায়,কয়টা ছাত্র ছিল- তাদের ধরে অ্যারেস্ট করতে। যে কয়টাকে হাতে পেয়েছে সব কয়টাকে কিন্তু অ্যারেস্ট করেছে’-আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এইখানে প্রশ্নটা আমার; পুলিশকে আলামত নিতে দেবে না, আসতে দেবে না। আমি আইজিপিকে বললাম… বলা যায় না, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এখানে আছে কি না। সিসিটিভি ফুটেজগুলো পেলে পরে তারা ধরা খেয়ে যাবে এ জন্য এই সুর ওঠাচ্ছে কি না। তারা পরবর্তীতে ওই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে। একটা কপি কর্তৃপক্ষের কাছেও দিয়ে আসে। বাকিটা তারা নিয়ে আসে। কারণ, সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা প্রয়োজন ছিল এবং যেটা করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এখানে কিন্তু কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল, কে কোন দলের কী- সেটা বিবেচনা করিনি। বিবেচনার বিষয় হলো; অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে; কত ২১ বছরের একটা ছেলে, তাকে হত্যা করা হলো। পিটিয়ে পিটিয়ে… কি অমানবিক! আপনারা যদি পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট দেখেন… বাইরে অতটা ইনজুরি নেই যতটা ইনজুরি ভেতরে।’

২০০১ সালে তার বহু নেতাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে জিনিসটা আমার সন্দেহ হলো- ২০০১ সালে আমাদের বহু নেতাকর্মী- তাদেরকে এভাবে পেটানো হতো। তাদেরকে হাতুড়ি দিয়ে এমনভাবে পেটানো হতো, তাদের বাইরে যেন কোনো ইনজুরি না থাকে। তাদের ভেতরে যাতে ইনজুরি হয় এবং তারা মারা যেত।’

‘স্বাভাবিকভাবে এটা সন্দেহের ব্যাপার। এরা কারা?’ এই প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ ক্ষমতায় থাকলে অনেকে পাওয়ারে চলে আসে। পার্টি করতে আসে। আর কিছু তো দল থাকেই, তারা পারমানেন্ট গভর্নমেন্ট পার্টি। একজন আমাদের পার্লামেন্ট মেম্বার- মিরপুরের খালেক সাহেব একবার সংসদে বলেই ফেলেছেন, আমি তো সবসময় গভর্নমেন্ট পার্টি। এ রকম কিছু তো থাকে। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে যারা এ রকম ঘটনা ঘটাবে সে আমার পার্টির, এটাতো কখনও আমি মেনে নেবো না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি, তাদের সম্পূর্ণভাবে বহিষ্কার করতে আর পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে।

‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনারা বলেন, এ পর্যন্ত কত হত্যা হয়েছে। টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে ছাত্রদলের দুই দলের গুলিতে শমি হত্যা হলো। তাছাড়াও ওই বুয়েটে আমাদেরও তো বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছে হত্যা হয়েছে। কোনো দিন কি বিচার পেয়েছে কেউ বা কাউকে কি অ্যারেস্ট করা হয়েছে, করা হয়নি’, যোগ করেন শেখ হসিনা।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আসেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি, কি অবস্থা ছিল ইউনিভার্সিটির। শুধু ঢাকা কেন সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন বোমাবাজি, প্রতিদিন গুলি, প্রতিদিন অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমাদেরও তো বন্ধু-বান্ধব অনেকেই, ওখানে শিক্ষকও আছে অনেকেই বলতো আমাদের এখন অভ্যাসই হয়ে গেছে প্রতিদিন বোমার আওয়াজ না শুনলে, গুলির আওয়াজ না শুনলে ঘুমই আসে না। এই ছিলো ইউনিভার্সিটির অবস্থা।’

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
bahis siteleri