অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : টেকনাফের রঙ্গীখালীসহ ৬টি পাড়া মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার

Rohingha-Astana-jadimora.jpg

জাদিমুরা এলাকায় পাহাড়ে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদের আস্তানা

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়ন নাফনদীর তীরে পাহাড় ও প্রধান সড়কের উভয় পার্শে¦ মানুষের বসবাস। শিক্ষা-দীক্ষায় ও রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ে অনেক অগ্রগামী এই ইউনিয়নটি। অতীতে পুরো উপজেলার নেতৃত্বের সোপান ছিল হ্নীলা। এই ইউনিয়নের ২টি সর্ববৃহৎ মোচনী ও লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির দীর্ঘদিন থেকে রয়েছে। সেই সাথে দমদমিয়া, জাদীমোরাসহ আরো ছোট বড় ৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প গড়ে উঠেছে। যার ফলে হ্নীলা ইউনিয়ন বর্তমানে একটি ক্রাইম জোনে পরিনত হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্রের ঝন-ঝনানীসহ বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার জন্য অধিকাংশ রোহিঙ্গারা এসব অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, আলীখালী, রঙ্গীখালী, গাজীপাড়া, উলুচামরী ও পানখালী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা নানা আপকর্ম ও অপরাধ প্রবণতার একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে খ্যাত। এই ৬টি পাড়া মাদকের রমরমা বানিজ্য ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়ায় চলে। মাদকের তালিকাভুক্ত নব্য মাদক কারবারীদের আধিপত্য। কতিপয় মাদক কারবারী আত্মসমর্পন ও এলাকা ছাড়া হয়ে যাবার পর নব্য মাদক কারবারীরা চালাচ্ছে মাদকের রামরাজত্ব। এর মধ্যে বেশীর ভাগ যুবক ও রাজনৈতিক দলের নেতা। মাদকের আগ্র্রাসনে পুরো হ্নীলা আগ্রাসিত হচ্ছে। ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পূঁজি করে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধির আশ্রয় ও পশ্রয়ে মাদক পাচার এবং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । ওয়াব্রাং, চৌধুরী পাড়া, আনোয়ার মৎস্য প্রজেকট, লেদা, মোচনী, নয়াপাড়া ও জাদীমোরা নাফনদীর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা মাদকের চালান সরাসরি চলে যায় এসব আলোচিত পাড়ায়। পরে পাহাড়ে গভীর অরন্য পথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার হয়ে যায়। এই ৬টি পাড়ার মধ্যে রঙ্গীখালী ও গাজী পাড়া মাদক এবং অপরাধ প্রবনতার দিক থেকে সবার অগ্রে রয়েছে। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা ও দস্যতার জন্য রঙ্গীখালী গাজী পাহাড়টি অপকর্মের ঘাটিতে পরিনত হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ ভীত। অতীতে মাদক ও কালো টাকার অধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনাখুনি এবং এরপর থেকে রঙ্গীখালী ক্রাইমজোনে পরিনত হয় । এর নৈপথ্যে বেশীর ভাগ মূলে রয়েছে মাদক। মাদক ব্যবসা ও পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ অস্ত্রের।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মাদক ও যে কোন অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তি যেই দলেরই হউকনা কেন ? তাদের কোন মতেই রক্ষা নেই।