নিরব প্রতিবাদ

68410655_2419120561704098_3558677998724972544_n.jpg

টেকনাফের নাফ ভিউ নামের একটি প্যাথলজি সেন্টারে অতিরিক্ত ফি আদায় মানতে না পেরে ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তাহের। তাহেরের সেই লেখাটি টেকনাফ টুডের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো :

যখন কোন দেশে দুর্ভিক্ষ হয় তখন উপরে থাকা আল্লাহ তার রহমতে দরজা খোলে দেই, শুধু খোলে না টেকনাফের মানুষের ভাগ্যের দরজা, টেকনাফের মানুষ একের পর এক মহামারি তে ডুবে যাচ্ছে তল গভীর অতলে। বর্তমানে বাংলাদেশে এক বিরাট আতংকের নাম “ডেঙ্গু ” যখন সরকার দেশকে ডেঙ্গু মুক্ত করার জন্য রাত দিন এক করে দিচ্ছে ঠিক সে সুযোগ কে হাতিয়ার করে কিছু ল্যাব ব্যবসায়ী গরীব, আতংকিত রুগী কে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকার ঘোষিত ফি এর চেয়ে দ্বি -গুন টাকা। সরকার ঘোষনা করেছে যে NS1-ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে ফি ৫০০/- কিন্তু টেকনাফের নাফ ভিউ ল্যাব আমার কাছ থেকে ১০০০ টাকা এন এস ১ ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি নেই +টাইফয়েড পরীক্ষা ২০০ মোট ১২০০ টাকা যা ক্যাশ মেমোতে রয়েছে। আমি অনেক অনুরোধ করার পর ও কোন কাজ না হওয়াতে বাদ্য হয়ে ডাঃ এর সিরিয়াল বয় কে কল দিয়ে ৩০০ টাকা কোনরকম ডিসকাউন্ট করাই। যখন আমি রিপোর্ট এর জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম ঠিক সেই মুহূর্তে আমার চোখে পড়ে দেওয়ালে মধ্যে তাদের বিভিন্ন টেস্ট এর মূল্য যার মধ্যে তারা সাদা কাগজে পরিষ্কার করে লেখা আছে ছবি দেওয়া হয়েছে, যে ডেঙ্গুর পরীক্ষা হলো দুই টি যার মধ্যে একটির মূল্য ৪০০ টাকা অন্য টি ৫০০ টাকা। আমি সেই কান থেকে বাহির হয়ে “কেয়ার ল্যাব”এ যাই এই পরীক্ষারর খরচ জানতে চাই এবং তারা আমাকে সরকার ঘোষিত মূল্য তালিকা দেখালো যার ছবি দেওয়া আছে।সেই কানে ও এই পরীক্ষার মূল্য ৫০০ টাকা।তার পর আমি যখন নাফ ভিউ এর মালিকের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলাম সে আমাকে যা শুনাল তা কি বলবো, তার কথা শুনে মনে হলো দেশের আইন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী মহোদয়ের কথার কোন মূল্য এর কাছে নেই। তার পাওয়ার তাদের উপরে।যদি তা না হলে সে কি করে বলে যে আমি পরীক্ষা করি ১০০০ টাকা, ৫০০টাকা সরকারের হিসাব আমি করিনা সরকার আমাকে খাওয়াই ও না খরচও দেই না যা জবাব দিতে হয় আমি দেবো।


# এখন আমার প্রশ্ন টেকনাফের মানুষের কথা শুনার মতো কি কেউ নেই?
# এই ভাবে টেকনাফের মানুষ আর কতো এই সব পরীক্ষার চাপাকলে পিসতে থাকবে?
# এর আগে কেউ ডাঃ এর কাছে গেলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো পরীক্ষা আর পরীক্ষা করলে টাইফয়েড। এর পর শুরু এন্টিবায়োটিক লাভ হলো ডাঃ সে কমিশন ফেলো,গলাকাটা ব্যবসা করল ল্যাব, অহেতুক এন্টিবায়োটিক এর টাকা গেলো কোম্পানির কাছে পিষে গেলো আমাদের মতো সাধারন মানুষ। দেখার কেউ আছে কি?
# এখন এলো ডেঙ্গু আবার সেই পরীক্ষা গলাকাটা ব্যবসা মরে যাচ্ছে আমাদের মতো গরীব মানুষ দেখার কেউ আছে বলে মনে করতে কষ্ট হচ্ছে।
এই ভাবে চলতে থাকলে আমরা কোথায় যাবো? এই টেকনাফের মানুষ কোথায় যাবে? তাই আমি আমার গরীব টেকনাফের মানুষের পক্ষ থেকে টেকনাফের প্রশাসন, টেকনাফে মান্যবর ইউনো মহোদয় স্যর, এবং টেকনাফের লক্ষ কোটি মানুষের আস্তার প্রতীক জনাব নুরুল আলম (চেয়ারম্যান টেকনাফ উপজেলা পরিষদ)
অনুরোধ যে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা গরীব মানুষের লাগালের ভিতর থাকে।যাতে সবাই পরীক্ষা করে এই রোগ নির্ণয় করার সুযোগ পাই, এই ডেঙ্গুর হাত হতে যেনো সকল টেকনাফ বাসি পরিত্রাণ পাই। এই নিউজ টি সত্য প্রমাণ করতে আমার কাছে যতো রিপোর্ট ছিল তা দেওয়া হলো।কারো ক্ষতি বা কারো সাথে দুষমনি করার জন্য নই,শুধু দেশের ও দশের উপকারের জন্য চেষ্টা।

পরিশেষে সকলকে এই পোস্ট টি শেয়ার করে সকলকে সতর্ক হওয়ার সুযোগ করে দেবার অনুরোধ রইল।

ধন্যবাদ।
আসসালামু আলাইকুম
খোদা হাফেজ।
মো. তাহের, সহকারী শিক্ষক মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়