ঘরের মাঠে ৪ বছর পর শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়

salo_1564332986.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : আরেকটি বিবর্ণ পারফরম্যান্সে ধরা দিলো সেই হতাশার গল্পই। আরও একবার বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ। ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসের যে বাণী শোনা গিয়েছিল দল থেকে, মাঠের পারফরম্যান্সে তা খুঁজে পাওয়া গেল না। ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর দ্বিতীয় ওয়ানডে ৭ উইকেটে হারের সঙ্গে সিরিজও ফসকে গেল বাংলাদেশের।

সফরকারীদের হতাশায় ডুবিয়ে আনন্দের সাগরে ভেসেছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজ জেতার স্বস্তি সবসময়ই অন্যরকম, ‍আর সেটা যদি ঘরের মাঠে দীর্ঘ ৪৪ মাস পর ধরা দেয়, তাহলে বলার অপেক্ষা রাখে না অনুভূতিটা ঠিক কেমন হয়! ২০১৫ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর এবারই প্রথম ঘরের মাঠে ৫০ ওভারের সিরিজ জিতলো শ্রীলঙ্কা।

বিপরীতে ২০১৭ সালের পর প্রথমবার টানা চার ওয়ানডেতে হারের মুখ দেখলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই দুই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল টাইগারদের। যদিও বিশ্বকাপে এভাবে ভেঙে পড়া বাংলাদেশকে দেখা যায়নি। ব্যাটিং কিংবা বোলিং কোনও বিভাগেই পাওয়া গেল না গত কয়েক বছরের বাংলাদেশকে।

মাত্র ২৩৯ রানের লক্ষ্য। ঘরের মাঠে এই লক্ষ্য পাড়ি দেয়া খুব বেশি কঠিন কিছু নয় শ্রীলঙ্কার জন্য। আগের ম্যাচেই তো এই মাঠে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩১৪ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল স্বাগতিকরা। আজ তো করতে হবে কেবল ২৩৯ রান।

জয়ের জন্য ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনার। আভিসকা ফার্নান্দো আর দিমুথ করুনারত্নের দৃঢ়তায় শুরুতেই ৭১ রানের বড় জুটি গড়ে ওঠে।

মিরাজ, শফিউল, তাইজুল কিংবা মোস্তাফিজুর রহমান- কোনো বোলারকে দিয়েই ব্রেক থ্রুটা আনতে পারছিলেন না অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত পারলেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজই এনে দিলেন ব্রেক থ্রুটা।

ইনিংসের ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে মিরাজের ঘূর্ণির কাছে পরাস্ত হলেন লঙ্কান অধিনায়ক করুনারত্নে। ২৯ বল খেলে তিনি তখন ছিলেন ১৫ রানে। মিরাজের ছোড়া বলটি করুনারত্নের প্যাডে লেগে গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি।

১২৯ রানের মাথায় আউট হন আভিসকা ফার্নান্দো। ৭৫ বল খেলে তিনি করেন ৮২ রান। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ২টি। এছাড়া কুশল পেরেরা করেন ৩৪ বলে ৩০ রান। তাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর অবশ্য আর লঙ্কানদের কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি টাইগাররা।

৭৪ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন কুশল মেন্ডিস। তার সঙ্গে ৫৭ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। এ দু’জনের ব্যাটেই চলে এলো ৭ উইকেটের কাংখিত জয়। ২৩৯ রানের জায়গায় করলো তারা ২৪২ রান। মোস্তাফিজ ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট।