হ্নীলা ইউপি উপনির্বাচনে ভোটারদের প্রতি রাশেদ মাহমুদ আলীর খোলা চিঠি

rashed.jpg

বার্তা পরিবেশক : “মাতৃ-মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যাথা ঘোঁষিয়াছে অভিযান,ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমানইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার”
প্রিয় সংগ্রামী হ্নীলা ইউনিয়নবাসী, শুরুতে আমার সালাম /নমস্কার /আদব গ্রহণ করুন।আমি “রাশেদ মোহাম্মদ আলী” আগামী ২৫ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু জনগুরত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত আপনাদেরকে বলছি এবং লিখছি। বিচার বিশ্লেষণের ভার সম্পূর্ণ আপনাদের ওপর। আজকেও একটি বিষয় নিয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।আমাদের হ্নীলা ইউনিয়নের অনেকেই রয়েছেন যাঁদের জন্য অধিকার থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। আমি সেসব সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত, গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া আমাদের ইউনিয়নের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে অনেকেই বেকার। যাদের জন্য কোন মহান ব্যক্তি এগিয়ে এসে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে জোরালোভাবে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি আজঅবধি। খুব লজ্জা লাগে, যখন অন্যান্য ইউনিয়নের বেকার আর চাকরিজীবীদের পরিসংখ্যান দেখি। কথা দিচ্ছি আপনাদের, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের দোয়ায় বিজয়ী হই বা না হই সকলের প্রত্যাশিত ন্যায্য অধিকার যেভাবেই হোক আদায় করে আমাদের ইউনিয়নের বেকারত্ব দূরীভূত করবো ইনশাআল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে আপনাদের মাঝে নৌকা মার্কার প্রতীক নিয়ে পাঠিয়েছেন। হ্নীলা ইউনিয়নের শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের এই সুন্দরতম জায়গার সুন্দর মনের মানুষ হলেন আপনারা। আপনাদের মুখনিঃসৃত একটি কথা, সুচিন্তিত মতামতকে দেশবাসী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। আপনারা সমাজ এবং দেশের সম্পদ, আপনাদের ‘কোয়ালিটি ভোট’ আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে, ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আপনারা “নৌকা” মার্কায় ভোট দিয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন এ প্রত্যাশা রাখছি। কারো অতিরঞ্জিত ও অবাস্তব চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হয়ে যার ভালো কাজ করার সদিচ্ছা আর সত্যিকার সক্ষমতা রয়েছে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের “সোনার বাংলা” গড়তে তাঁর পক্ষেই রায় দিন।এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা নির্ভয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তাদের পক্ষেই রায় দিন।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে ২৫শে জুলাই সারাদিন “-নৌকা”- মার্কায় ভোট দিন।
সেই সাথে হ্নীলাবাসীর প্রতি আমার নির্বাচনী ইশতেহার নিম্নে ঘোষণা করলামঃ-

১। মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে সহায়তা প্রদান।

২। মানবপাচার রোধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ।

৩। সরকারি বেসরকারি অনুদান অথবা বরাদ্দকৃত প্রকল্পের ওয়ার্ডভিত্তিক সুষম বণ্টন।

৪। শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিতদের যোগ্যতা অনুযায়ী এনজিও সেক্টরে চাকুরির ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদানে একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা।

৫। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তদারকি কাজে সাহায্য ও রোহিঙ্গা উগ্রবাদ দমনে বিশেষ নজরদারি।

৬। শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা প্রদান।

৭। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট পুনঃসংস্কার ও মেরামত এবং স্কুল-কলেজ সংলগ্ন সড়কে স্পিড ব্রেকার স্থাপন।

৮। হ্নীলায় একটি সমৃদ্ধ গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলবার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৯। জেলে, কৃষক ও লবণচাষীকে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা প্রদান।

১০। প্রবাসী ভাইবোনদের ২৪ ঘণ্টা নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু।

১১। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিশেষ সুরক্ষা।

১২। খেলাধুলার মাঠ প্রশস্তকরণ ও ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ প্রণোদনা।

১৩। হ্নীলা-মিয়ানমার পুনরায় ট্রানজিট সুবিধা চালুর ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।

১৪। নাফনদীতে জেলেদের খন্ডকালীন উপায়ে মাছ ধরার বিষয়ে প্রশাসনের সাথে জোর তদবির করা।

১৫। পানখালি থেকে বাহারছড়া সংযোগ সড়কে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।

১৬। হ্নীলা স্টেশনে যানজট নিরসনে ট্রাফিক নিয়োগের জন্য জোর তদবির ও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সেচ্ছাসেবক নিয়োগ।

১৭। আধুনিক ও সমৃদ্ধ হ্নীলা বিনির্মাণে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।

দেখা হবে রাজপথে কথা হবে মিছিলে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, জয় হোক হ্নীলা ইউনিয়নবাসীর।
ইতি আপনাদেরই
রাশেদ মোহাম্মদ আলী।