টেকনাফে ৩জন নারী-পুরুষ মাদক কারবারীসহ ৪জনের মৃতদেহ উদ্ধার

Teknaf-Pic-A-17-07-19.jpg

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে আইন-শৃংখলা বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বিজিবির সাথে পৃথক বন্দুক যুদ্ধে মহিলাসহ ৩ মাদক পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হয়েছে। এতে বিজিবির ৩জন সদস্য আহত হয়েছে। অপর দিকে পাহাড়ে গরু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৭জুলাই ভোর পৌনে ৫টারদিকে উপজেলার দক্ষিণ জাদিমোরায় বাজারের পূর্ব পার্শ্বের মাঠে ইয়াবার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গোলাগুলির খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে দূবৃর্ত্তরা পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ২টি এলজি, ৮রাউন্ড তার্জা কার্তুজ, ১২রাউন্ড খালি খোসা ও ৫হাজার ইয়াবাসহ পশ্চিম জাদিমোরার ছমি উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা বেগম (৩২) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। নিহত নারী মাদক মামলার আসামী ছিল।
অপরদিকে রাতের প্রথম প্রহরে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া বিওপির বিজিবি জওয়ানেরা মাদকের চালান খালাসের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাদিমোরা প্যাগোডার পূর্ব পার্শে শিকল ঘাটায় অবস্থান নেয়। এসময় মাদক কারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করলে বিজিবির নায়েক মোঃ রেজাউল (৪০) সিপাহী মোঃ মতিউর রহমান (২৪) ও ইমরান হোসেন (২৩) আহত হয়। বিজিবিও আতœরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল হতে ১০হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় লম্বা বন্দুক ও ৩ রাউন্ড কার্তুজসহ পরিত্যক্ত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ২জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের পকেটে থাকা আইডি কার্ডের সুত্রধরে নিহতরা যশোরের শুক্কর আলীর পুত্র জাবেদ মিয়া (৩৪) ও চাঁদপুরের রেজোয়ান সওদাগরের পুত্র আসমাউল সওদাগর (৩৫) বলে জানা যায়। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত বিজিবি জওয়ানদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার রেফার করা হয়। কক্সবাজার যাওয়ার পথেই তারা মৃত্যু বরণ করে। মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও টেকনাফ থানা পুত্র এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত স্বাপেক্ষে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
এছাড়া সকাল ৮টায় হ্নীলা রঙ্গিখালী পাহাড় হতে গরু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ থাকা স্থানীয় মৃত আব্দু সাত্তারের পুত্র ৭জন ছেলে-মেয়ের জনক আবুল হাশেম (৫০) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।