টেকনাফে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশোডিং থেকে বাঁচতে পাওয়ার গ্রীডের বিকল্প নেই

pollybiddot_2.jpg

ফাইল ছবি

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ব্যতীত যে কোন উন্নয়ন আশা করা মানে আমগাছ থেকে কাঁঠাল আশা করার ন্যায়। সরকার প্রত্যান্ত অঞ্চলে উন্নয়ন দুরগড়ায় পৌছে দিতে প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতায়িত নামক এ চ্যালেঞ্জ যাত্রা অব্যাহত রাখেন। পল্লী বিদ্যুৎ একটি বেসরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। তারই অংশ বিশেষ হিসাবে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ৪৭ হাজার ৪১ গ্রাহকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে গেলে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নানা সমাস্যার কারনে এ প্রতিষ্টান কাংখিত সেবা দিতে পারছে না ।

এ নিয়ে একটি গবেষনামূলক প্রতিবেদন। সংস্লিষ্ট সূত্র জানায় টেকনাফ কক্সবাজার ৮৫ কিঃ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ বিদ্যুৎ লাইন। এর নিয়ন্ত্রন করছেন কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ।

বর্ষা মওসূম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে উখিয়া টেকনাফের ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিভ্রাট নামক যাতনার শিকার ।

এ দীর্ঘ বিদ্যুৎ লাইন বাংলাদেশের জামালপূর ও টেকনাফ ছাড়া অন্য কোন উপজেলা নেই বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানায়।

দীর্ঘ বিদ্যুৎ লাইনে প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে গাছপালা পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ থাকে। যার জন্য গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ ভোগান্তির মধ্যে থাকে।

এছাড়া রয়েছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং ও লো বোল্টেজ নামক যাতনা।

টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের নব নিযুক্ত জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ আব্দুল মহিত চৌধুরী এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদকের সাথে মুখোমূখি হলে তিনি বলেন, টেকনাফে বিদ্যুৎ যাতনা থেকে চীর অবসান পেতে হলে, টেকনাফে পাওয়ার “গ্রীড” স্থাপন করতে হবে। এর ব্যায় হতে প্রায় হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী বাংলাদেশ (পি,জি,সি,বি) একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান।

এখানে পাওয়ার গ্রীড স্থাপন করলে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সহজে বিতরণ করতে পারবে। পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর জনগণের কোন জবাবদীহিতা নেই। আছে পল্লী বিদ্যুতের। তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা নিরসনকল্পে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এটি একটি সময়ের দাবী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এ দপ্তরে যোগদানের পর বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ সমস্যায় নিয়ে গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বাঁধার সম্মুখিন হয়েছিলাম। এ সমস্যা নিরসন কল্পে তিনি ঢাকা থেকে ভোল্টেজ রেগুলার এনে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। যার প্রেক্ষিতে গ্রাহকেরা বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ যাতনা থেকে অবসান পায়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টমটম গাড়ী ও অটো রিক্সা আবাসিক বা বাড়ীর বিদ্যুৎ মিটার থেকে বিদ্যুৎ চার্জ নেয়ার কারণে বেশীরভাগ টন্সফরমার বিনষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ ও ২০১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৬০টি টান্সফরমার নষ্ঠ হয়ে গেছে। যার প্রতিটির দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। টমটম ও অটোরিক্সা বৈধ ও অবৈধ উপায়ে টেকনাফের গ্রাহকদের ধার্য্যকৃত বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে। যার জন্য খেশারত দিতে হচ্ছে, বৈধ গ্রাহকদের।

টেকনাফে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প স্লান হয়ে যেতে পারে, যদি পাওয়ার বিদ্যুৎ গ্রীড স্থাপিত না হয়। টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত (পর্যটন) উপজেলা এবং পর্যটন ব্যবস্থা সাজাতে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তারই অংশ হিসাবে সাবরাং কাটাবনিয়া, জালিয়ার দ্বীপে এসক্লোসিভ (উন্নয়ন) জোন, একনেকের অর্থায়নে শাহপরীরদ্বীপ টেকসই বেড়ীবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ সড়কসহ বিভিন্ন ছোট খাটো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, এবং সীমান্তে চোরাচালান নিরোধ কল্পে পাওয়ার (বিদ্যুৎ গ্রীড স্থাপনে কোন বিকল্প নেই। না হয় এসব উন্নয়ন প্রকল্প ম্লান হয়ে যাবে। এমন মন্থব্য সীমান্তের সচেতন মহলের।

সাবেক সাংসদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আলী এই প্রসঙ্গে বলেন, এধরনের উদ্যোগ সরকারের উন্নয়নের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।