বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের গেইট ইজারাদার নিয়োগে কারচুপির অভিযোগ : রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা

Chakaria-Picture-01-06-19.jpg

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের গেইট ইজারাদার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মুল্যায়ন কমিটির সংশ্লিষ্টরা অন্তত ৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দরদাতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে গেইট ইজারা না দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ লক্ষ টাকায় গেইট ইজারা দিতে পায়তারা শুরু করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সজিব কনষ্ট্রাকশন। এতে আগামী অর্থবছরের জন্য সাফারি পার্কের গেইট ইজারা খাতে সরকারের অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এনিয়ে শুক্রবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ‘পার্কের গেইট ইজারা এমন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যে প্রতিষ্ঠানের সকল ধরণের কাগজপত্র সঠিক এবং অভিজ্ঞতা থাকবে। এ কারণে কোটি টাকা দর দিলেও অনভিজ্ঞ কোন প্রতিষ্ঠানকে গেইট ইজারা দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘গেইট ইজারা পাওয়ার জন্য দাখিলকৃত সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ওইসময় গেইট ইজারাদার নিয়োগে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি অভিজ্ঞতা না থাকায় সজিব কনষ্ট্রাকশনের বদলে দ্বিতীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিজভী কনষ্ট্রাকশনকে গেইট ইজারা দিতে সুপারিশ করেন। সেই মোতাবেক ওই প্রতিষ্ঠানকে গেইট ইজারা দেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সজিব কনষ্ট্রাকশনের মালিক চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কাজ করে আসছে। এখানে অভিজ্ঞতার অজুহাত তুলে সংশ্লিষ্টরা মূলত মোটা অংকের টাকা ঘুঁষ-বাণিজ্য করে বিএনপি-জামায়াত ঘরনার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কমমূল্যে সাফারি পার্কের গেইট ইজারা দেওয়ার পায়তারা করছেন। এনিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।