একসময়ের মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট কাটাবনিয়া-কচুবনিয়ার মানব পাচারকারীরা ফের সক্রিয়

ml-file.jpg

হুমায়ুন রশিদ :
একসময় মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট নামে দেশব্যাপী কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়া সেই সাবরাং কাটাবনিয়-কচুবনিয়া পয়েন্ট দিয়ে ফের মানব পাচার শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ মে) ভোরে পাচারের প্রস্তুতিকালে ১১ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় খুরের মুখ বিজিবি সদস্যদের কাছে তুলে দেয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাটাবনিয়া এলাকার আব্দুল মজিদ নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসা থেকে মালয়েশিয়াগামী উক্ত রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ৯ নারী ও ২জন পুরুষ।
কাটাবনিয়া এলাকার মৌলভী মনির, বশির ও দিল মোহাম্মদ দিলু নামে ৩ ভাইয়ের পৈত্রিক মালিকানাধীন জমির রায়তি ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করেন উক্ত আব্দুল মজিদ।
এর আগের দিন অর্থাৎ রোববার রাতে তাদের আরো একটি ট্রলার মালয়েশিয়াগামীদের সাগরে বড় ট্রলারে তুলে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজিবি দুই ব্যাটালিয়ন উপাধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার উদ্ধার রোহিঙ্গাদের কি করা হয়েছে সে ব্যাপারে কোন তথ্য জানাতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি নৌপথে বিভিন্ন ক্যাম্পের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া গমনের হিড়িক পড়েছে। এই সুযোগে কাটাবুনিয়া-কচুবনিয়া-হারিয়াখালী এলাকার পুরনো মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট গুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানকার শীর্ষ মানব পাচারকারী নজির ডাকাত বন্দুকযুদ্ধে নিহত, বাঘু, এজাহার মাঝি, কুইল্লা মিয়া মাঝিসহ কয়েকজন কারাগারে থাকলেও গুরা মিয়া, হামিদ, জাবেদ, আয়াস সহ পূর্বের অধিকাংশ চিহ্নিত ও শীর্ষ মানব পাচারকারীরা এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। এদের মধ্যে সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে আব্দুল্লাহ সিন্ডিকেট। কাটাবুনিয়া এলাকার মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে এই আব্দুল্লাহ নিজে ইঞ্জিন নৌকার মালিক ও মাঝি। সে নিজেই নৌকা চালিয়ে মালয়েশিয়াগামীদের সাগরে অপেক্ষমান বড় ট্রলারে তুলে দিয়ে আসে। খলিল মাঝি, গুরামিয়া মাঝি, দিল মোহাম্মদ দিলুসহ এই সিন্ডিকেটের আরো বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। দিল মোহাম্মদ বিভিন্ন স্থান থেকে নিজে যানবাহন চালিয়ে মালয়েশিয়াগামীদের কাটাবুনিয়া এলাকায় নিয়ে আসে। এই আব্দুল্লাহ সিন্ডিকেট আবার ইয়াবা পাচারেও জড়িত বলে সূত্র জানিয়েছে। সাগরে ফিশিংয়ের ছদ্মবেশে তারা ২০ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা হাতবদল করে কূলে নিয়ে আসে। আবার মিয়ানমার পার্টিকে গাজা সরবরাহ করে থাকে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ সহ অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য গত কয়েকমাসে আইন শৃংখলা বাহিনী প্রায় ৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের সময় উদ্ধার করে স্ব স্ব ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। এসময় বেশ কিছু দালালকেও আটক করে মামলা দায়েরের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করেছে।
এদিকে কাটাবুনিয়া কচুবনিয়া এলাকার মেম্বার জাফর আহমদ নিজেও মাদক ও অস্ত্র মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
টেকনাফ থানার পরিদর্শক তদন্ত এবিএমএস দোহা জানান, মানব পাচারকারী হোক আর মাদক ব্যবসায়ী হোক আইনের হাত থেকে কেহ রেহাই পাবে না। অপরাধের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী কাটাবনিয়া-কচুবনিয়া-হারিয়াখালী এলাকা দিয়ে অতীতে বহু মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে ফলে এই এলাকাটির কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আবার নতুন করে দুয়েকজন মানব পাচারকারীর কারনে যাতে গোটা এলাকার দুর্নাম না হয় তার জন্য এলাকার মানুষ সোচ্চার রয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন তারা।