bahis siteleri deneme bonusu veren siteler bonusal casino siteleri piabet giriş piabet yeni giriş
porno porn
izmir rus escortlar
porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

শতফুল ফুটতে দাও : বিএনপিকে নিয়ে যত কথা

BNP.jpg

ড. মাহবুব উল্লাহ্ |

সাম্প্রতিককালে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বেশ সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছে। বিএনপির কট্টর সমর্থকরা এসব সমালোচনাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য হল, মিডিয়ার প্রায় ষোলআনাই আওয়ামী সমর্থনপুষ্ট। আওয়ামী সমর্থনপুষ্ট মিডিয়ার কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। অতীতের কথা বাদই দিলাম। ১৯৯১-পরবর্তী সময়ে বিএনপি দুই দফায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল।

ক্ষমতার সুযোগ ব্যবহার করে বিএনপি কেন তার নিজস্ব বৃত্তের মধ্যে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারল না? এ থেকেই বোঝা যায়, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। দূরদর্শিতার সঙ্গে বিএনপি যদি সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারত, তাহলে বিএনপিকে এমন দুর্দশায় পড়তে হতো না। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও কারারুদ্ধ হয়ে পড়তেন না। একথা সত্য যে, সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমান সরকার সম্পর্কে খুবই সমালোচনামুখর। কিন্তু এসব সমালোচনা নিছক ব্যক্তি বিশেষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই থেকে গেছে। কোনো সংঘবদ্ধ রূপ নিতে পারেনি।

আরব বসন্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে সাময়িকভাবে হলেও গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল, সেসব দেশে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি সংঘবদ্ধ অবয়ব দাঁড়িয়ে গিয়েছিল; কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃত্ববাদের আদলে এতই সুসংহত হয়ে উঠেছিল যে, নিছক সোশ্যাল মিডিয়ার পক্ষে গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিদেশি পরাশক্তির ভূমিকা অবশ্যই ছিল। ফলে গণতন্ত্রের মৃদুমন্দ হাওয়া সাময়িক স্বস্তির জন্ম দিয়েছিল বটে; কিন্তু তাকে ধরে রাখতে পারেনি।

বিএনপির কট্টর সমালোচকরা বলেন, এভাবে শক্তি-সমর্থহীন ও ম্রিয়মাণ হতে থাকলে বিএনপি একদিন মুসলিম লীগের মতো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। কিন্তু মুসলিম লীগের সঙ্গে বিএনপির এ তুলনা যথার্থ নয়। কারণ মুসলিম লীগ পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছিল। এ অবস্থানের দ্বান্দ্বিক পরিণতিতে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ দানা বাঁধতে থাকে এবং পরিশেষে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। এর পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, পিন্ডির পরিবর্তে বাংলাদেশ দিল্লির ক্ষমতা বলয়ে পড়ে যায়। এর ফলে নতুন মাত্রায় জাতীয় দ্বন্দ্বের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ দ্বন্দ্বকে ভিত্তি করেই বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী চিন্তা-চেতনা দানা বাঁধতে থাকে। একেই ভিত্তি করে জিয়াউর রহমান বিএনপি দলটি সৃষ্টি করেছিলেন। এই দল সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সমালোচনা সত্ত্বেও দলটি যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মজবুত করতে চায়, এমন ধারণা জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

এরশাদ সরকারের সময় বিএনপির কিছু কিছু নেতা দল ছেড়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে, নিছক ক্ষমতালিপ্সার ফলে। সাংগঠনিকভাবে বিএনপি বেহাল দশায় পড়ে যায়। এসময় দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন সদ্য স্বামীহারা বেগম খালেদা জিয়া। তার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু সহজাত প্রবৃত্তিতে তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী। বাংলাদেশের মানুষ তার মোহিনী নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়েছিল। কিন্তু তার সংগঠনটি ছিল খুবই অগোছালো। বিএনপি পরিণত হল জাতীয়তাবাদী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জনগণের একটি প্লাটফর্মে। এ প্লাটফর্মকেই ব্যবহার করে বেগম খালেদা জিয়া এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন আপসহীনভাবে। তার আপসহীনতা জনমনে প্রচুর আস্থার সৃষ্টি করেছিল।

এরশাদ সরকারের পতনের সময় আওয়ামী লীগ ছিল বেশ সংগঠিত। বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিএনপি ১৯৯১ নির্বাচনে ১০-২০টির বেশি আসন লাভ করবে না। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল হয়ে গেল সম্পূর্ণ বিপরীত। এই নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়ার কিছু ঐতিহাসিক উক্তি জনগণকে বিএনপির পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

বেগম খালেদা জিয়া নজিরবিহীন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, ‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আর আমাদের হাতে মুক্তির পতাকা।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সীমান্তের বাইরে বাংলাদেশের বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ এসব উক্তি জাতির মধ্যে সঞ্জীবনী শক্তির জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতাসীন হয়ে ধীরে ধীরে আদর্শের পথ থেকে দূরে সরে যায়। বিএনপির মধ্যে একটি কোটারি বলতে শুরু করে ভারতের আনুকূল্য ছাড়া বিএনপির পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয় এবং ক্ষমতা ধরে রাখাও সম্ভব নয়।

এদের প্রচার-প্রচারণা দলের অনেককেই বিভ্রান্ত করে। অথচ আসল কথাটি ছিল, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে আনুকূল্য নয়, বন্ধুত্ব হবে সমতা ও জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে। এটাই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণশক্তি। যে কোনো প্রাণী বা সংগঠনের প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে সেই প্রাণী বা সংগঠন ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বে প্রাণশক্তির উৎস হল জনগণ এবং জনগণের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণ। এগুলো না থাকলে একটি রাজনৈতিক দল প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

নিছক জাতীয় স্বার্থের স্লোগান উচ্চারণ করে একটি দল জাতীয়তাবাদী হয়ে ওঠে না। ১৯৭৬ সালে মরহুম এনায়েতুল্লাহ খান সম্পাদিত হলিডে পত্রিকায় একটি কলাম লিখে পত্রিকাটির সম্পাদকের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পেয়েছিলাম। জাতীয় স্বার্থের কথা বলতে হলে বুঝতে হবে জাতির বিভিন্ন অংশের স্বার্থগুলো কী। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রাজনীতি হল কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় ধনিকদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ। কৃষক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চায় তার জমির অধিকার রক্ষার জন্য।

শ্রমিক জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চায় তার রুটি-রুজির উৎস নিরাপদ করার জন্য। জাতীয় ধনিকরা চায় বাজারের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য। মোটাদাগে এ ত্রিবিধ স্বার্থগোষ্ঠীর অধিকার নিরঙ্কুশ করার জন্যই প্রয়োজন হয় জাতিরাষ্ট্রের, প্রয়োজন হয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের। এ সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থপরিপন্থী কোনো রাজনীতিই শেষ বিচারে জাতীয়তাবাদের রাজনীতি হতে পারে না। এখন বোরো ফসল উঠতে শুরু করেছে। এক মণ ধান উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকের ব্যয় হয় ৮০০ টাকা।

কিন্তু কৃষক বাধ্য হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা মণে ফসল বিক্রি করতে। কৃষকের মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ক্ষুব্ধ কৃষক দেশের কোনো কোনো স্থানে পাকা ধানের ক্ষেতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কবি ইকবাল যথার্থই লিখেছিলেন, ‘যে ক্ষেতের ফসল পায় না কৃষাণ খেতে, সে ক্ষেতে আগুন জ্বালিয়ে দাও।’ বিএনপিকে কৃষকের এ ক্ষোভ ধারণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিসরের অভাবে কীভাবে কৃষকের এ ক্ষোভকে ধারণ করা যায় তার কৌশলও সুচিন্তিতভাবে খুঁজে বের করতে হবে দলটিকে।

রাজনীতিতে বিএনপির ভুলের বহর কম নয়। ২০০৬-এ ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা নিজের পক্ষে নেয়ার কৌশল ছিল একটি বড় ভুল। কী হতো, যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যেত এবং তাতেও যদি পরাজয়বরণ করতে হতো! এ ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে, এক-এগারোর সংবিধানবহির্ভূত সেনাসমর্থিত সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বুলডোজারের তলায় পড়ে। এই একই সরকার ২০০৮ সালে একটি নির্বাচন দিল। সেই সরকার প্রকৃত অর্থে কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল না।

নিছক গায়ের জোরে তারা দুই বছর ক্ষমতার মসনদে বহাল থাকে। এরপর যে নির্বাচন হল সেটা ছিল বাঘের পিঠে সওয়ারীর বাঘের পিঠ থেকে নামার নির্বাচন। বিএনপি মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ অসাংবিধানিক সরকারের কার‌্যাবলী অনুমোদনের ঘোষণা দিয়ে বিরাট ফায়দা অর্জন করল। তারা সংসদে গ্রুপ মেজোরেটি অর্জন করতে সক্ষম হল। এরপর তারা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রদ করে দিল। বিএনপি ২০০৬-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ম্যানিপুলেট করেছিল।

কিন্তু মাথাব্যথার কথা বলে মাথা কেটে ফেলা কখনই যুক্তিসঙ্গত নয়। একইভাবে বিএনপি বা অন্য কোনো দল যাতে মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজন ছিল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার গভীরতর সংস্কার। এরপর যখন ২০১৪ সালের নির্বাচন এলো, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই বলে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পথ ধরল। অথচ এর মাত্র কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপি বিপুল সাফল্য অর্জন করেছিল। নির্বাচন নিয়ে কী করা যায় তা নিরূপণের জন্য বেগম খালেদা জিয়া পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের একটি সভা ডেকেছিলেন।

ওই সভায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে নির্বাচন বর্জনের পরামর্শ দিয়েছিল। এদের কেউই নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনে শরিক হননি। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন প্রজ্ঞাবান অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে তিনি বিশ্বখ্যাত। তার পরামর্শ ছিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার। ইতিহাসে দেখা যায়, একজনের মধ্যে সত্য খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, যা বহুজনের মধ্যে থাকে না।

ওই সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রশাসনের ওপর এখনকার মতো কব্জা দৃঢ় করতে পারেনি। হয়তো নির্বাচন করলে বিএনপি জয়ী হতে পারত কিংবা প্রবল শক্তি নিয়ে সংসদে নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারত। নির্বাচনবিরোধী আন্দোলন হল এবং এ আন্দোলন ঢাকা ব্যতিরেকে মফস্বলে বেশ জোরদার হয়ে উঠেছিল। বিএনপির সঙ্গে আরও বহু দল নির্বাচনে যায়নি। এরশাদ সাহেবকে নিয়ে কত না নাটক হল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হল। এমন নির্বাচন পৃথিবীর আর কোথায় হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এক অদৃশ্য সুতোর টানে ৫ জানুয়ারিতেই আন্দোলন থামিয়ে দেয়া হল। ১৯৯৬ সালে বিএনপি যখন আওয়ামী লীগসহ বেশক’টি গুরুত্বপূর্ণ দলের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করল, তখন শেখ হাসিনা ও তার মিত্ররা আন্দোলন চালিয়ে গেল। যার পরিণতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাস করে বিএনপি ২৯ মার্চ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হল। তারপর এলো ২০১৫-এ ৫ জানুয়ারি। দিনটি ছিল বিএনপির দৃষ্টিতে বিতর্কিত নির্বাচনের বছরপূর্তি।

এ উপলক্ষে বিএনপি প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল। তার পূর্ব মুহূর্তে সাংবাদিকরা বেগম খালেদা জিয়ার মুখ থেকেই একরকম জোর করেই অবরোধ কর্মসূচির ডাক আদায় করে নিল। বিএনপি ওই সময় সাংগঠনিকভাবে এরকম আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। কিন্তু অচিরেই এটি হয়ে উঠেছিল সহিংস। এ সহিংসতার জন্য বিএনপি কতটুকু দায়ী, জামায়াতের ভূমিকা কী এবং সরকারের এজেন্টদের তৎপরতা কী ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়তো হবে না। যখন দেখা গেল পেট্রলবোমার আগুনে সাধারণ মানুষ মরছে, তখনই বিএনপির ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল আন্দোলন স্থগিতের।

কারণ আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। সেদিন যদি বিএনপি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে এসব অপকর্মের দায় সরকারের কাঁধে চাপাতে পারত, তাহলে সরকারের পক্ষে পরবর্তী সময়ে বিএনপির ওপর নাশকতার অজুহাতে নির্যাতন-নিপীড়নের স্টিমরোলার চালানোর যুক্তি হাজির করা সম্ভব হতো না। এসব অভিজ্ঞতার আলোকেই হয়তো বিএনপি ২০১৮-এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিল। তারা যুক্তি দিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেই নির্বাচনী প্রহসন প্রমাণ করবে।

এ নির্বাচনে যে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে তা দেশের অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিতে সঠিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও জোরালো কোনো প্রতিবাদ করতে পারল না বিএনপি। কারণ জেল-জুলুম ও অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা পর্যুদস্ত। বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে ৮টি আসন পেল। দলীয়ভাবে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে আসন নেবে না বলে ঘোষণা দিল। কিন্তু যারা বিজয়ী হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই সংসদের আসনগুলো ছেড়ে দেয়ার মতো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিল না। প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটি সংসদে আসন না নেয়ার সিদ্ধান্তেই অটল থাকল। একেবারে ভোজবাজির মতো পুরো বিষয়টি উল্টে গেল। একমাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর ছাড়া অন্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।

সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে বিএনপিকে বড় রকমের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। উচিত ছিল নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘোষণা দেয়া যে, তারা দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে শপথ নেয়া না নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু সে প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় একটা হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একটি কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক লড়াই চালানোর জন্য সংসদসহ সব প্লাটফর্মই ব্যবহার করতে হয়।

লেনিনের মতো নেতাও ১৯০৫ সালে জার-এর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর ভয়ঙ্কর অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে রুশ কমিউনিস্টদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে দক্ষিণপন্থী ট্রেড ইউনিয়নে কাজ করে জনসম্পৃক্তি বজায় রাখতে। লেনিনের মতো বিপ্লবী নেতা যদি এমন নমনীয় কৌশলের কথা ভাবতে পারেন, তাহলে বিএনপির মতো একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল কেন প্রয়োজনে নমনীয় হতো পারবে না? ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

সূত্র যুগান্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri