porno porn
izmir rus escortlar
porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস

12220190417110617.jpg

অধ্যাপক কাজী সামশুর রহমান : প্রত্যেক মানুষের জীবনেই বিশেষ কোনদিন বা তারিখের গুরুত্ব থাকে অপরিসীম। তবে কখনো কখনো কোন তারিখ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যায়। দেশের সকল মানুষ তখন ঐক্যবদ্ধ হয়, কঠিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তেমনই একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী তারিখ ১৭ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এ তারিখে বিশ্ব মানচিত্রে এক অনন্য মর্যাদায় বাংলাদেশ নামের এ সুজলা-সুফলা বদ্বীপটি আলোকিত হয়েছিল লক্ষ লক্ষ ভাই-বোনের রক্ত আর অপূর্ব আলোকচ্ছাটায়।
আজ হতে ৪৮ বছর পূর্বে ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল সাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (জেলা) বৈদ্যনাথ তলা গ্রামের ভবেরপাড়া বিশাল সবুজ ছায়ায় ঘেরা নিবিড় আম্রকাননে ১০ এপ্রিল গঠিত কেবিনেট মুজিব নগর (শপথ গ্রহণ স্থান) নামক স্থানে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম বিপ্লবী সরকার শপথ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলা এ স্থান থেকে ২৩ মাইল দূরত্বে বৃটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নিকট বিশ্বাসঘাতক প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খাঁর বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হন।
আশ্চর্য গুনে গুনে ঠিক দুইশত চৌদ্দ বছর পরে বাঙলার স্বাধীনতা সূর্য আবার উদিত হলো। বাঙলার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়্যদ নজরুল ইসলামকে উপ ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে সে সরকার গঠিত হয়। কর্নেল (অবঃ) পরে জেনারেল পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এম এ জি ওসমানীকে করা হয় প্রধান সেনাপতি। এ সরকার পরবর্তীতে মুজিব নগর সরকার হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
১৭ এপ্রিলের পেছনে রয়েছে ১০ এপ্রিল। এদিন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে গণপরিষদের বৈঠক ডেকে স্বাধীনতার ঘোষণা (The Proclamation of Independence ) অনুমোদন এবং স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম বিপ্লবী সরকার গঠন করেন। ১৭ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয় এবং বিপ্লবী সরকার শপথ গহণ করে। ঞযব চৎড়পষধসধঃরড়হ ড়ভ ওহফবঢ়বহফবহপব এর মূলভিত্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা। ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির ওপর অতর্কিতে হামলা চালালে এবং রাত দেড়টায় গ্রেফতার হবার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চ এর প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে (This May be last Message, from today Bangladesh is Independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have to resist the army of ccupation to the last. Our fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved ) এ ঘোষণাটি সীতাকুন্ড সলিমপুর ওয়ারলেস কেন্দ্রের মাধ্যমে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব জহুর আহমদ চৌধুরীর নিকট পৌঁছানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও সংগ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ জেনারেল সেক্রেটারি মরহুম এম এ হান্নান ২৬ মার্চ বিকেল আড়াইটার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র হতে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ করেন। তখন যে কেউ বেতারে স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে সেটা যেমন বৈধতা পেতো না তেমনি জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হতো না। কারণ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ। অন্যান্য সমমনা দলসমূহ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সর্বস্তরে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। আপামর জনসাধারণের প্রতিনিধিত্বকারী দলই শুধুমাত্র ঘোষণা দিতে পারে। অন্য কেউ দিলে পাগলের প্রলাপ বলে জনতা উড়িয়ে দেবে। স্বাধিকার ‘স্বায়ত্তশাসন’ স্বাধীনতা মন্ত্রে জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে বহু বছরের সাধনা সংগ্রাম ও আস্থাশীল নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। জনগণ যখন শেষ চাওয়া স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দুর্বার হয়ে উঠবে তখনই কেবল স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে এবং তা সফলতা পাবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, (Hit, when Iron is hot’ ) বর্ষীয়ান মজলুম জননেতা যিনি বঙ্গবন্ধুরও নেতা ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সেই কবে ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে পাকিস্তানকে ‘আস্‌সালামু আলায়কুম’ বলে দিয়েছিলেন অর্থাৎ তোমাদের সাথে হবে না, তোমরা তোমাদের আমরা আমাদের পথে। কই? জনতা এটাকে গ্রহণ করেছিল? করেনি, কারণ ত্যাগ তিতিক্ষা আন্দোলন সংগ্রাম করে ধাপে ধাপে মানুষের মনকে প্রস্তুত করা হয়নি সেভাবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি ভাষণে এক একটা দিক নির্দেশনা থাকত দলীয় নেতাকর্মী, রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বরত এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে।
মানুষের মনের অবস্থা বুঝে তিনি ৬ দফা উত্থাপন করেচিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে রেফারেন্ডামে পরিণত হলো, জনগণ বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করলেন। ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেল আওয়ামী লীগ। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ৬ দফা ভিত্তিক শাসনতন্ত্র রচনার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। তিনি জানতেন এমনকি বিরোধীরাও জানতেন ৬ দফা ভিত্তিক শাসনতন্ত্র রচনার অর্থ হচ্ছে স্বাধীনতার প্রাক প্রস্তুতি। জেনে শুনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী এটি হতে দেবে না। বঙ্গবন্ধু নাছোড়বান্দা, ৬ দফা জনগণের সম্পদ এ থেকে এক বিন্দু বিসর্গও নড়চড় হবে না। Indirect Technique এটা। পাক সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে সে সুযোগ দেবে না। আলোচনার নামে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করলো ইয়াহিয়া-ভুট্টো। বঙ্গবন্ধুও জানতেন ওরা এটা মানবে না। শক্তি পরীক্ষা আসন্ন। পাকিস্তানী সামরিক জান্তা কখন বাঙালীদের উপর হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠবে, সে সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। ২৫ মার্চ এলো সে ক্ষণ। ইয়াহিয়া ভুট্টোর মিলিটারী নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী রইলেন, কবর খনন করা হলো দেশদ্রোহীতার মামলা শুরু হলো অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নির্যাতন সহ্য করে দিনের পর দিন অতিবাহিত, করেছেন মাথা নোয়ায়নি। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন ‘প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি জনগণের অধিকার চাই। সে কথাই তিনি সঠিক প্রমাণ করেছেন।
ইংরেজিতে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে তিনি সমগ্র বিশ্বকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা পৌঁছাতে চেয়েছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। যেমন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ‘দি টাইমস’ পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল Heavy fight as Sheikh Mujib Declares East Pakistan Independent . অনুরূপভাবে এদিন ‘দি গার্ডিয়ান’ পত্রিকা লিখেছিলো Shortly before his arrest, Mujib has issued a Proclamation of his people which inform them you are citizens of a free country . এর পরেও কি একজন মেজরের ঘোষনার! অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। জ্ঞানপাপী আর দেশদ্রোহীরা ছাড়া মেজর জিয়াকে ঘোষক বানানোর চিন্তা আর কেউ করেনকি? একজন সৈনিক ঘোষণা দিলে সেটা হবে Mutiny (বিদ্রোহ) কোর্ট মার্শাল তার জন্য নির্ধারিত, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী এ রকম একটা দেশকে জাতিসংঘভুক্ত কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় না, দিতে পারে না কারণ ঐ ব্যক্তি বৈধ ঘোষণাকারী হতে পারে না। যারা বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্বপাকিস্তান বানাতে চায় তারাই শুধু জিয়াকে ঘোষক বানাতে চায় কারণ তিনি ঘোষক হলে Proclamation of Independence বাতিল হয়ে যাবে, মুক্তিযুদ্ধ অবৈধ হবে বাংলাদেশ পূর্বাবস্থায় স্থিতি পাবে এটাই ঐ সকল জ্ঞানপাপী দেশদ্রোহীদের উদ্ভট চিন্তা, এটা কোনদিন হবার নয় এদেশ চিরকালের জন্য স্বাধীন। দখলদার রাজনীতির দিন শেষ। বিদেশি প্রভুর টাকা খেয়ে ভৃত্যের ভূমিকায় অভিনয় করা এদের আজন্ম স্বভাব।
Proclamation of Independence স্বাধীনতার ঘোষণার দু’ একটি অংশ সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে এখানে উল্লেখ করছিঃ
যেহেতু বাংলাদেশে ৭ ডিসেম্বর হতে ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১ পর্যন্ত সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান একটি সংবিধান প্রণয়নের নিমিত্তে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে মিলিত হওয়ার জন্য ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ আমন্ত্রণ জানান এবং ‘যেহেতু সে আহুত সভাটি অযৌক্তিক ও বেআইনিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় এবং যেহেতু বাংলাদেশের জনগণের সহিত আলোচনায় রত থাকিয়াও পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ একটি অনৈতিক ও বিশ্বাস হন্তা যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ‘যেহেতু বিশ্বাস হন্তা আচরণের ঘটনায় ও পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের বৈধ অধিকার পূরণের জন্য ঢাকায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার একটি যথোচিত ঘোষণা দেন… এবং ‘যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাহাদের বীরত্ব সাহসিকতা ও বিপ্লবী ঐকান্তিকতা দ্বারা বাংলাদেশের এলাকায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করিয়েছেন, জনগণ কর্তৃক অর্পিত নির্দেশের প্রতি, যাঁদের নির্দেশই চূড়ান্ত, সশস্ত্র অনুগত থাকায় আমরা বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আমাদের নিজেদেরকে লইয়া যথাযথভাবে সংবিধান রচনার গণ পরিষদ গঠন করিলাম এবং… ঘোষণা দিতেছি এবং প্রতিষ্ঠা করিতেছি যে বাংলাদেশ হইবে সার্বভৌম জনগণের প্রজাতন্ত্র এবং এত দ্বারা ইতোপূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিশ্চিত করিতেছি এবং… সংবিধান যে সময় পর্যন্ত প্রণীত না হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রতি থাকিবেন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রজাতন্ত্রের উপর রাষ্ট্রপ্রতি থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপ্রতি প্রজাতন্ত্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হইবেন, …আমরা আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি, স্বাধনীতার এ ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হইতে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।’’
সহৃদয় পাঠকগণ, উপরোক্ত স্বাধনীতার ঘোষণাপত্র (সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপিত) পাঠ করলে সহজেই বোধগম্য হবে যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধনীতা ঘোষণা ছাড়া অন্য কারো ঘোষণার কথা বলা মানেই হচ্ছে একটা বিদ্রোহ, আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা যদি এ ঘোষণায় একমত না হতেন স্বাক্ষর না করতেন তাহলে কি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা সম্ভব হতো। অজানা অচেনা এক ভদ্রলোকের ভাষণ কি স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত্তি হতে পারে? জেগে জেগে যারা নিদ্রার ভান করে, তাদের নিদ্রাভঙ্গ কস্মিনকালেও হয় কি? হয়না, কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না, বিশ্বে Proclamation of Independence রয়েছে দু’টি একটি বাংলাদেশের অপরটি বিশ্বের ১নং পরাশক্তি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা রচনা করেছিলেন ‘টমাস জেফারসন’ যিনি এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা’ পত্রটি রচনা করেছিলেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, তিনি ১৯৭১ সালে কুষ্টিয়া হতে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৭ মার্চ এপ্রিলকে সে থেকে ‘মুজিব নগর দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান প্রজন্মকে মুজিবনগর দিবস এর ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ঐদিনের কার্যাবলীর গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো উচিত। তাহলে দেশদ্রোহী-চামচাদের স্বাধীনতার ঘোষক তত্ত্বটি’র অসাড়তা প্রমাণিত হয়ে যাবে। আবারো বলছি যারা ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এর Proclamation of Independence কে অস্বীকার করতে চায় তারাই মেজর জিয়াকে ঘোষক ঘোষক বলে আস্ফালন করে। দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অসংখ্য মা বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে যেন কেউ পার না পায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। আজকের এ দিনে জাতির জনক জাতীয় চার নেতা, তখনকার সংসদ সদস্য (মরহুম) সহ দেশ মাতার মুক্তির সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এ দেশ আপনার আমার সকলের। ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহত্তর অর্জনকে কালিমালিপ্ত করবো না কখনোই, এ হোক প্রতিজ্ঞা।
দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তৎকালীন চিপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী। আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক বৈধতা পায়। বিশ্বের সকল গণ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উক্ত অনুষ্ঠানের খবর ব্যাপক প্রচার পায়, সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৬টি এবং কিছুদিন পর ১১টি সেক্টরে ভাগ করে একজন করে সেক্টর কমান্ডারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান অতর্কিতে ভারত আক্রমণ করলে ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড গঠন করে মাত্র দু’সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে বিজয় লাভ করে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অস্থায়ী সরকার প্রত্যেকটি কাজ নিয়মানুগ ও আইনানুগভাবে সম্পাদন করেন বিধায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ যুদ্ধকে বৈধতা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেন বিভিন্ন উপায়ে।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ
x

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
canlı bahis canlı poker canlı casino canlı casino canlı casino canlı casino oyna canlı casino