porno porn
izmir rus escortlar
porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে অসহায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা : টেকনাফের মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন

Teknaf-Pic-B-2-02-04-18-1.jpg

বার্তা পরিবেশক : দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনে নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেক মুক্তিযোদ্ধা ব্যক্তিগত আক্রোশ, কোন্দল ও দলাদলীর কারণে সরকারী তালিকাভূক্তির বাইরে রয়ে গেছে। দেশে অসংখ্য ভূয়াঁ মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে এসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা প্রেমী সরকারের আমলেও নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আসছে। এই রকম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তালিকার বাইরে থাকা সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া টেকনাফের মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদ প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, আবেদনকারী সোলতান আহমদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা-মুজিব বাহিনী),স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সনদ নং (৯৩৮৮) পিতা-মরহুম আব্দুল কাদের, মাতা- মরহুমা সিরাজ খাতুন, গ্রাম-আলী আকবর পাড়া, ডাকঘর: হ্নীলা-৪৭৬১, উপজেলা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষের মুজিবীয় আদর্শের লড়াকু সৈনিক। বিভিন্ন সময় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিগত ১৯৬৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ টেকনাফ থানা শাখা তথা টেকনাফ উপজেলা শাখার বিভিন্ন পদে দীর্ঘ ৫২ বছর যাবৎ আওয়ামী রাজনীেিত সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক।

তিনি জানান, বিগত ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে আমি মাতৃভূমি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর তৎকালীন টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ হাবিলদার এজাহার মিয়ার নেতৃত্বে অন্যান্য সহযোগিসহ প্রশিক্ষণ শুরু করি। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়। হ্নীলা, টেকনাফ তথা কক্সবাজার জেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৭১ সালের ৫ই মে কক্সবাজারে পাক হানাদার বাহিনী বিশাল গাড়ী বহর নিয়ে প্রবেশ করে নারকীয় নির্যাতন শুরু করলে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাগণ আত্মগোপনে চলে যায়। আমি ও তাদের মত পাশ্ববর্তী এলাকা চকরিয়া উপজেলার কাকরা ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে চলে যাই। সেখানে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আমি পুনঃ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ১নং সেক্টর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পাহাড়ে চলে যায়। গ্রুপ কমান্ডার মোঃ হাশেম এর নেতৃত্বে ২১ দিন প্রশিক্ষণের পর তার সাথে ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, গহিরা, পাহাড়তলী, হাটহাজারী ও ভাটিয়ারীতে অপারেশন করি। এরপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম থানার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়। সেখান থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আমাকে হরিনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কক্সবাজার তথা টেকনাফের কাহাকেও দেখতে না পেয়ে প্রশিক্ষণ নিতে অনীহা প্রকাশ করার পর আমাকে আসাম রাজ্যের পাহাড়ি এলাকার একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত অফিসারের কাছ থেকে জানতে পারলাম, কক্সবাজার জেলার ফিরোজ আহমদ নামের এক ছেলেকে কয়েকদিন পূর্বে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য উদয়পুর পাঠানো হয়েছে। আমি কর্তব্যরত অফিসারকে অনুরোধ করলাম, আমাকে উদয়পুর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি আমার কথায় সম্মত হয়ে আমাকে উদয়পুর পাঠিয়ে দিলেন। উদয়পুর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে দেখি, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার হ্নীলা ফুলের ডেইল গ্রামের এজাহার মাষ্টারের ছেলে ফিরোজ আহমদ ও তৎকালীন তুখোড় ছাত্র নেতা, কবি ও সাংবাদিক শওকত হাফিজ খানা রুশনীকে। পরে যিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর নেতৃত্বে ১২ জনের একদল মুক্তিযোদ্ধার সাথে চলে আসি বাংলাদেশের মিরেশ্বরাই এলাকায়। ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসে মিরেশ্বরাইতে প্রথম বারের মত পাক বাহিনীর সাথে ৩ ঘন্টার এক সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছি।

পরে ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াতে আরো ২ বার পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। এসব এলাকায় রাজাকার আল বদর ও শান্তি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উল্লেখযোগ্য অপারেশনে অংশ নিই। এরপর আমার সহযোদ্ধা ফিরোজ আহমদকে সাথে নিয়ে আমাদের স্থায়ী নিবাস হ্নীলায় চলে আসি। আসার পর দেখা করি, তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আমার সহযোদ্ধা, আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি জনাব আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, লুৎফুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক, মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলমসহ আরো কয়েকজনের সাথে। আমার সহযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য সহযোদ্ধাদের নিয়ে স্বশস্ত্র অবস্থায় টেকনাফ তথা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপারেশন করার উদ্দেশ্যে রীতিমত টহল দিতে থাকি। ১৯৭১ সালের ১৬ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস অর্জিত হলে আমি ও অন্যান্যদের মত জীবন ধারণে আত্মনিয়োগ করি। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন যাবৎ হার্ট-ডিজিজ, ফিস্টুলা ও কিডনী রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে আমি মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তি করার জন্য আবেদন করতে পারি নাই। আমার সহযোদ্ধারা সকলেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে। তাই আমার আবেদন ও সনদ পত্র পর্যালোচনা করত : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করছি।
উপরোক্ত তথ্য যাছাই ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আবেদন করিতেছি।
এই ব্যাপারে অসুস্থ ও অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri