ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ফারাক্কা বাঁধের নকশা সংস্কার করল ভারত

image-182273-1549728044.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : প্রজনন মওসুমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফারাক্কা বাঁধের নেভিগেশন লকের নকশায় পরিবর্তন এনেছে ভারত। নকশাটি এমনভাবে সংস্কার করা হয়েছে যাতে করে ভারতের ভেতরে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র বৃদ্ধি পায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের আগে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ পর্যন্ত ভারতের জেলেরা ইলিশ পেত। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর নৌযানের চলাচল নিশ্চিত করতে নেভিগেশন লক নির্মাণ করা হয়। এতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন থেকেই সুস্বাদু এই মাছটি ভারতে কম ধরা পড়তে শুরু করে।

ইলিশ লোনা পানির মাছ হলেও প্রজনন মৌসুমে এরা বঙ্গোপসাগর থেকে মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী হয়ে এই মাছটি ভারতের গঙ্গা নদী দিয়ে এলাহাবাদ পর্যন্ত পৌঁছানোর নজিরও রয়েছে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে ইলিশ আর বাঁধ পেরিয়ে খুব একটা যেতে পারত না। এ কারণেই বাঁধটির নেভিগেশন লকে সংস্কার এনেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপথ কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর পান্ডে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমরা ইলিশের চলাচলের পছন্দের সময় রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটটি আট মিটার পর্যন্ত খুলে রাখব। অভ্যন্তরীণ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় পানি কমিশন এবং ফারাক্কা বাঁধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘খাবার খুঁজতে আর ডিম ছাড়ার সময়ে প্রায়ই মাছেরা বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইলিশের চলাচল নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলে মাছটির উৎপাদন বাড়বে। এ ছাড়া এর ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের অর্থনীতিকে বেগবান করবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top