সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

7.jpg

মুহাম্মদ শাহ জাহান, ইউএই : সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বলেছে বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে এদেশে আছে, তারা সব সময়ই ভাল, বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভালোবাসা রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক শ্রেণীর লোক অপরাধের সাথে তুলনা মূলক ভাবে বেশি সম্পৃক্ত হওয়ায় তারা ভিসা বন্ধের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু না জানিয়ে সময় নিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে কাজ করতে হবে, সচেতনতা বড়াতে হবে। তবে আমিরাত সরকার ভাল ও দক্ষ জনশক্তি পঠানোর পরামর্শ দিয়েছে, এসময় আমিরাত সরকার ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে আমিরাতে অভিবাসীদের আসার ব্যাপারে কার্যকর হওয়া সদাচরণ সনদ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানান। উক্ত কমিশন বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান এবং আমিরাতের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার বিন মোহাম্মদ গারগাশ। বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তর দিত্বীয় শ্রমবাজার হচ্ছে আমিরাত এই শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিবর্তনের ব্যাপারে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের মন্ত্রী মহোদয় ভিসা ইস্যুতে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকায় ছিলেন এবং আমাদের জানানো হয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকর করতে আমিরাত সরকার ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং এই কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করে কিভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় তা দেখছেন। রাষ্ট্রদূত আরো জানান এবার তারা অনেকটা সামনের দিকে এগিয়ে এসেছেন। আমরা আশাবাদী এবং এমআরপি পাসপোর্টের ব্যাপারে আমিরাত সরকার আমাদের সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর মঙ্গলবার যৌথ কমিশনের বৈঠকে দুই পক্ষের কার্য বিবরণী স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিমান চলাচল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা হয় বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানান। তিনি আরো বলেন বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের হিস্যা রয়েছে ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন এ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে ভবিষ্যতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমাদের জানান। আগামী ৫ ও ৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও শাসক পরিবারের শীর্ষ স্থানীয় সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল নাহিয়ানের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে বলে ও রাষ্ট্রদূত ইমরান বলেন। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাহিয়ানের ওই সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে আমিরাতের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইয়িদ আল মুহেইরি এর যোগদানের কথা রয়েছে। তার মাধ্যমেও দুইদেশের মধ্যে আরো সম্পর্কোন্নয়ন ঘটবে। এছাড়া দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
উক্ত বৈঠকে যোগ দিতে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশের একজন সচিবসহ অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র বেসামরিক বিমান চলাচল, প্রবাসী কল্যাণ, জ্বালানীসহ বিভিন্ন আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ১৭ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে আসেন এবং গত বুধবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও প্রতিনিধিদল এতিহাদ এয়ারের একটি ফ্লাইট এ ঢাকার উদ্দেশে আবুধাবি ত্যাগ করার কথা ছিল।
এই পষন্ত দুই দেশের মোট চারবার যৌথ কমিশন বৈঠক হয়, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০৯, ও ২০১৮ প্রতি ৩/৪ বছর পরপর যৌথ কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top