চোরাচালান দেশের জাতীয় অর্থনীতির স্বচল চাকা অচল করে দেয় : টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়কের সাক্ষাতকার

Teknaf-pic-18.08.18.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
চোরাচালান জাতীয় অর্থনীতির চলমান চাকাকে ধ্বংস করে দেয়। এটি দেশ ও জাতীর জন্য অভিশাপ ডেকে নিয়ে আসে এবং উন্নয়নে দেশ ও জাতী বাঁধাগ্রস্থ হয়। নাগরিকদের জাতীয় চরিত্রে অবক্ষয় ঘটিয়ে কালোটাকার প্রভাব বিস্তার ঘটে। চোরাচালান দমন রোধে শুধু মাত্র সীমান্ত রক্ষী আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। নাগরিক হিসাবে এ দায়িত্ব সবার আছে বলে আমি মনে করি। চোরাচালান কার্যক্রম দেশ ও জাতীর শত্রু। এ শত্রুতাকে নিপাত করতে হলে সম্মিলিতভাবে সবাইকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। তাহলে চোরাচালান নামক অভিশাপ ও যন্ত্রনা থেকে আমরা বাঁচতে পারি। ১৭ আগষ্ট এ প্রতিবেদক টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আসাদুদ জামান চৌধুরীর দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, চোরাচালান দমন ও নির্মুলের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সীমান্ত রক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সীমান্ত রক্ষী বিজিবির জওয়ানরা অতন্দ্রপ্রহরীর মতো অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথাসাদ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। চোরাচালান কালোটাকা আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি এবং অশ্লীলতার জন্ম দেয়। এর রোধে সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

অধিনায়ক আরো বলেন, সীমান্তের গুটি কয়েক চোরাকারবারী চোরাচালান কার্যক্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা অচল করে, এ সুবিধা অর্জনে বিস্তর কালোটাকার মালিক বনে যাবে। সীমান্ত রক্ষীরা বসে থাকবে, সেটি কোন মতেই সহ্য করা যাবেনা।

কে, চোরাকারবারী এবং কারা মাদক কারবারী অবশ্যই জনপ্রতিনিধিরা জানে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত না করলে, শুধু মাত্র সীমান্ত রক্ষীর প্রতি চেয়ে থাকলে হবেনা। পাশাপাশি এর রোধে নাগরিক হিসাবে সবার এ দায়িত্ব রয়েছে।

লেঃ কর্ণেল আসাদুদজ্জামান চৌধুরী টেকনাফ২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর অর্পিত এ মহৎ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন । তিনি একজন চৌকশ কর্মকর্তা হিসাবে নামে নয় কাজেই তার প্রমাণ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চোরাকারবারী যে দলেরই হউকনা কেন ? রক্ষা নেই।

মাদকের জোয়ার ঠেকাতে তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বড় বড় মাদকের চালান তার হাতের মুটোই এসেছিল। এ জন্য তার কলাকৌশলে, মাদক কারবারীরা পরাজিত হয়ে নিত্য সময়ে অভিনব কৌশলে মাদক পাচারে লিপ্ততা।

মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের স্থল ও নৌপথে অব্যাহতা চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মাদকের বড় বড় চালান হ্রাস, ছোট আকারের চালান উদ্ধার হচ্ছে। বড় আকারের মাদকের চালান বিকল্প পথ হিসাবে গভীর সাগর পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে। যাহা নিয়ন্ত্রনের বাইরে।

২০১৭-২০১৮ইং সালে ১১ই আগষ্ট পর্যন্ত এ ২ মাসে স্থল ও নৌপথে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ২কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১২ ইয়াবা ট্যাবলেট এর বিপরীত ৬৫৫ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৬শত টাকার মূল্যে ইয়াবা উদ্ধার করেছে। মামলা হয়েছে ৯৩৫ ও গ্রেফতার ৫৬২ জন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ৪৩৮ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার ৭শত টাকার মূল্যের ১৪ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৪৯ টাকা। মামলা ৫২৭ ও গ্রেফতার ৩৮০ জন।

২০১৮ সালের ১১ আগষ্ট পর্যন্ত এ ৮ মাসে ২১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯শত টাকার ৯শত টাকার মূল্যের ৭২ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। মামলা ৩৫৮ ও গ্রেফতার ১৭৬ জন। অপর দিকে একই সালে অন্যান্য মাদক ও গাজা উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৩ হাজার ৬২ টাকা। মামলা ৩৯০ ও গ্রেফতার ২৬ জন।

অধিনায়ক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সর্বশেষ বক্তব্যে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এ প্রতিষ্টান জিরো ট্রলারেন্স নীতির প্রতি সদা সর্বদা অটল এবং অভিযান চলমান থাকবে।