মাফিয়া কায়দায় ঘুরছে ইয়াবা ডন রিকসা শফিক!

yaba-shafik-tt-pic.jpg

খাঁন মাহমুদ আইউব :
দেশব্যাপী মাদক কারবারীদের পাকড়াও করতে আইন শৃংক্ষলা বাহিনী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার পরেও কক্সবাজার টেকনাফের তালিকা ভূক্ত ৯৫% ইয়াবা কারবারী বহাল তবিয়তে রয়েছে। তার মধ্যে শীর্ষ ইয়াবা মানব শফিক এখনো এলাকায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রহরায় চলাফেরা করছে বলে সূত্রে জানাগেছে। বিগত সময়ে মেরিন ড্রাইভ ও চট্টগ্রাম থেকে দু’বার আটক হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, পরকিয়া, ইয়াবা পাচার, জমি দখল সহ অভিযোগের পাহাড় রয়েছে।

কে এই ইয়াবা মানব?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার রিক্সা মিস্ত্রী গফুরের ছেলে ইয়াবা মানব শফিক। বিগত ২০০৫ সালের দিকে সী-বীচ রোডে ছোলা-মুড়ি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ সাল পরবর্তি কোন এক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়ে বছর তিনেক পর আবার এলাকায় ফিরে আসেন। এলাকায় ফিরে এসে জড়িয়ে পরেন ইয়াবা ব্যবসায়। গড়েতুলেন পিতা গফুর, মনির আলম বাদশা মিলে পারিবারিক তিন সিন্ডিকেটের ইয়াবা ব্যবসা। ব্যবসা সেটাপ দিয়ে আবারো পাড়ি জমায় মধ্যপ্রাচ্যে। তিন মাস থেকে আবার ফিরে আসেন এলাকায়। এভাবে মাত্র কয়েক বছরের মাথায় টেকনাফে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীদের কাতারে নিজের অবস্থান তৈরী করে নিয়েছন এই ইয়াবা মনব শফিক। বাদ পরেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের ইয়াবা কারবারী হালনাগাদ তালিকা থেকে। ইয়াবা মানব শফিকের তিন স্ত্রী থাকার পরেও পিছিয়ে নেই নারী কেলেংকারী থেকে। প্রবাসীর স্ত্রী ও সরকারী এক চাকুরীজিবীর স্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সংসার ভাঙ্গার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়!
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন,পৌরসভা,মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। অনুসন্ধানে পাওয়া সুত্র মতে, সদর ইউনিয়নের পূর্বডেইল পাড়া মসজিদের সামনে দু’তলা ভবন, সেমিপাকা বাড়ি সহ তিনটি জমি, ইয়াবা কারবারী ফজলের বাড়ির সামনে তিন তলা ভবন, পশ্চিম ডেইল পাড়া হাফেজ উল্লাহর বাড়ি সংলগ্ন বিশাল মার্কেট সহ ভাড়া বাসা, আদিল মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন প্রচীর ঘেরা এরো একটি জমি, শাহ আলমের বাড়ির পেছনে জমিতে গড়ে তুলেছে আলিশান কটেজ। এই কটেজে বসে নিয়ন্ত্রন করে তার অপরাধ সম্রাজ্য। পূর্ব ও পশ্চিম গোদারবিল এলাকায় রয়েছে দু’টি জমি, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রয়েছে ২০ কানি জমি। উক্ত জমিগুলো মহেষখালীয়া পাড়ার মোস্তাক মেম্বারের ওয়ারিশ থেকে কেনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। রয়েছে নোহা মাইক্রো, ট্রাক সহ তিনটি মোটর সাইকেল।

রয়েছে নিজস্ব স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী!
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে গড়ে তুলেছে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। যুব উন্নয়ন সংঘটনের নামে এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করেছেন। তার বিরুদ্ধে কারো মুখ খোলার সাহস নেই। গতমাসে এই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে একই এলাকার প্রবাসী শাহ আলমের জমি জবর দখল করে নিয়েছে। উক্ত ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরেও ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শাহ আলম।
এছাড়া কয়েকদিন আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে নিষ্টুরভাবে মারধর করে সে। তার অপরাধ ছিল শফিকের আস্তানার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল সে। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে সে। এ ঘটনায় ভয়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারেনি সেই ব্যক্তি।
নির্ভর যোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, একই এলাকার একজন সংবাদ কর্মীর আশ্রয় পশ্রয়ে তার অপরাধ কর্মকান্ড ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, আইন শৃংক্ষলা বাহিনীর নাম ভাঙ্গীয়ে প্রতি সপ্তাহে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করেন উক্ত সংবাদ কর্মী।

বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাবু রঞ্জিত বড়ুয়া জানান, সে পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড এক জন ইয়াবা কারবারী।তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।তাকে পাকড়াও করতে পুলিশ বেশ কয়েকবার সন্দেহ জনক এলাকাগুলোতে হানা দিয়েছিলো।তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ যাবতীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।