ইরান বাড়াবাড়ি করলে বাব এল মান্দেবে সেনা পাঠাবে ইসরাইল

image-76535-1533282822.jpg

Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu speaks during the weekly cabinet meeting at his office in Jerusalem on July 29, 2018. / AFP PHOTO / POOL / Sebastian Scheiner

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :

ইয়েমেনের বাব এল-মান্দেব প্রণালি নিয়ে ইরান বাড়াবাড়ি করলে সেনা পাঠাবে ইসরাইল। তেহরানের বিরুদ্ধে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার হাইফায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পাসিং আউট প্যারেডে এক বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যদি ইরান বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীর সব ইউনিট মোতায়েন করা হবে। সেখানে তাদের মুখোমুখি হবে আমাদের সেনাবাহিনী।’

ইরান কখনও বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়নি। তবে ইরানের তেল রফতানি রুদ্ধ করা হলে তাদের ভূখণ্ড সংলগ্ন পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে এ মুহূর্তে উত্তেজনার সম্পর্ক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে তাদের তেল রফতানি ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার হুমকি দেয়া হয়েছে। তেল রফতানি বন্ধ করা হলে নিজেদের ‘বাড়ির কাছে’র হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় তেহরান।

তাহলে বাব এল-মান্দেব প্রণালি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কেন হুমকি ইসরাইলের- এমন প্রশ্নে পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষার্থেই তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের এ হুমকি-ধমকি। ইয়েমেনে গত তিন বছর ধরে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ চলছে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে তেহরান নানাভাবে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর বাব এল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের উপকূলে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে ২৯ কিলোমিটার চওড়া প্রণালিটি। সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে তেল সরবরাহের প্রধান রুট এটি।

গত সপ্তাহেই এ প্রণালি দিয়ে তেল রফতানি স্থগিত করছে সৌদি আরব। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর পর ওই ঘোষণা দেয় রিয়াদ। হুথিরা হুমকি দিয়েছে, সৌদি সমুদ্রবন্দর ও লোহিত সাগরের অন্যান্য লক্ষ্যে আঘাত হানার মতো নৌশক্তি তাদের রয়েছে এবং প্রয়োজনে তার ব্যবহার করা হবে। এর আগেও প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল তারা।

হুথি বিদ্রোহীদের সহযোগিতার জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে সৌদি আরব। আর এ মুহূর্তে সৌদির অন্যতম মিত্র ইসরাইল।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। খুব শিগগিরই সামরিক শক্তির প্রদর্শনে এই মহড়া চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এসব মহড়ায় সময়সূচি এগিয়ে নিয়ে এসেছে তেহরান। বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের সেনাবাহিনী মহড়ার জন্য ১০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত করেছে। এতে শতাধিক পদাতিক সেনাও যুক্ত থাকবে। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান পারমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর থেকে ওয়াশিংটন-তেহরানের দা-কুমড়ার সম্পর্ক বিরাজ করছে। বাকযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের বড় ধরনের সামরিক মহড়ার প্রস্তুতির কথা সামনে এলো। সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবহিত। আমরা ঘনিষ্ঠভাবে এতে নজর রাখছি। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যের প্রবাহ ও মুক্ত নৌ চলাচল অব্যাহত রাখতে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রেখেছি।

ইরানের মহড়া সম্পর্কে তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান এই মার্কিন কর্মকর্তা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের সেনাবাহিনী মহড়ার জন্য ১০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত করেছে। এতে শতাধিক পদাতিক সেনাও যুক্ত থাকবে। তাদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে নির্দিষ্টভাবে কখন শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি এই কর্মকর্তা।