২০১৪ সালের নির্বাচনে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার লোভ দেখিয়েছিলো বিএনপি

Tareq.png

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভারত সফরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো বিএনপির প্ররোচনায় নির্বাচন বর্জনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা নিতান্তই পাগলামি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত ছিল তা স্বীকার করেছেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো পাগলামি করে নির্বাচন বর্জন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জানা গেছে, তিনি সাউথ ব্লক তথা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিবিধ প্রসঙ্গ টেনেছেন। সূত্র বলছে, এই বৈঠকেই এরশাদ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে সমঝোতা হয়েছিলো। সেই প্রলোভনেই তিনি জোটের সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচন থেকে সরে আসেন।

ওই বৈঠকে এরশাদ জানান, তৎকালীন সময়ে বিএনপি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না নিতে প্রলুব্ধ করে। কেননা, তারা ভেবেছিলো- জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন বানচাল হয়ে যাবে। আর নির্বাচন যদি বানচাল হয়ে যায় তবে সরকার পতন অবধারিত। ফলে বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত হবে। আর যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। তাই সমঝোতার ভিত্তিতে এরশাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই কারণে তার দলের অধিকাংশ সদস্যও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এরশাদকে অনুরোধ করেছিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। কিন্তু এরশাদ এতেও কর্ণপাত করেননি। এবার ভারতে গিয়ে এরশাদ ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং কথা দিয়েছেন ২০১৪ সালের ভুল ২০১৮- এর নির্বাচনে আর করবেন না তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এও জানিয়েছে, ভারতের সাথে সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার বৈঠকে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণেই বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের একটি দল হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই মহাজোট থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দেন এরশাদ। দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পরে এরশাদের ভারত সফরে মহাজোটের সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচন বর্জনের রহস্য পরিষ্কার হলো।

প্রসঙ্গত, ২২ জুলাই জাতীয় পার্টির ৪ জন শীর্ষ নেতাসহ দিল্লি সফরে গিয়েছেন এরশাদ। সফরসঙ্গীরা হলেন, দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব:) খালেদ আখতার। ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।