লামা শহর অন্ধকার ছিন্ন করে আলোয় ভাসছে

Lama-Solar-Photo.jpg

মো.কামরুজ্জামান, লামা :
লামা শহর অন্ধকার ছিন্ন করে আলোয় ভাসছে। সোলার স্ট্রিট লাইটের আলো ঝলমল করছে পৌর শহর। যে শহর বিদ্যুৎ চলে গেলে আঁধারে হারিয়ে যেত। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও লামা পৌরসভার জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় সোলার স্ট্রিট লাইটের বদৌলতে রাতের সেই ভুতড়ে পরিবেশ এখন আর নেই। দূর্গমের প্রতিটি গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিহীন গ্রামসহ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের লোডশেডিং এর সমস্যায় পতিত হচ্ছে না।
লামা পৌর শহরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই পর্যন্ত ৬৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৪০টি ও পৌরসভার অর্থায়নে জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ২৫টি। বাজার ব্যবসায়িসহ পৌর নাগরিকরা জানান, এখন বিদ্যুৎ চলে গেলে শহর আগেরমতো অন্ধকারে হারিয়ে যায়না। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমকার ধারন করে কয়েক ঘন্টা থেকে দিন সাপ্তাহ পর্যন্ত নিগুড়-নিস্তব্দতার অন্ধকারে হারিয়ে যেত লামা শহর। সম্প্রতি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পর থেকে অন্ধকার ছিন্ন করে আলোয় ভাসছে পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকাগুলো।
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পৌরএলাকার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপন করা হয়েছে “সোলার স্ট্রিট লাইট”। এছাড়া পৌরএলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে লাগানো হয়েছে সোলার হোম সিস্টেম। যা দিনের সূর্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করে রাতে আলো ছড়াচ্ছে। এসব সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের ফলে রাতের বেলা পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ও উপজেলার প্রত্যান্ত পাহাড়ী পল্লীগুলোতে আলো ঝলমল করছে। এছাড়া ৩য় পৌর পরিষদ গঠিত হওয়ার পর পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি লাইন স্থাপন করা হয়েছে। যেসব স্থানে বিদ্যুৎ লাইন নেই পৌরসভা থেকেও সড়ক বাতির ব্যবস্থা সম্ভব হয়নি; সেবস স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৪০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর কিছুদিন পরই পৌর সভার জলবায়ু প্রকল্পের অর্থায়নে আরো ২৫টি সোলাইর স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়।
এছাড়া সোলার প্যানেলের মাধ্যমেও রাতের আঁধার বাঁধন টুটে আলো ছড়িয়ে দেয় দূর্গমের ঘরে ঘরে। লামা পৌরএলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন দূর্গম পল্লীগুলোতে স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইট গুলো অফগ্রিড পদ্ধতিতে দিনে সুর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে রাতে আলো ছড়ায়। এ গুলো সম্পূর্ণ অটোমেটিক ভাবে চলে। লামা পৌরসভা ও উপজেলার সকল মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং, গির্জা, শিক্ষা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং হেডম্যান কারবারীসহ দূর্গমের সমাজ প্রতিদের বাসাবাড়ি গুলোতে “সোলার হোম সিস্টেম” বিতরণ করা হয়েছে। এখনো এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিহীন গ্রামসহ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের লোডশেডিং এর সমস্যায় পতিত হচ্ছে না।
লামা মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ৪০টি এবং জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ২৫টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আধুনিক বান্দরবানের রুপকার জনতার বীর বীর বাহাদুর উশেসিং লামা পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করতে একই সাথে এই অঞ্চলের উন্নয়নে, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ধর্মীয়-সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে মানুষের জীবনমানোন্নয়নে নিরলষভাবে কাজ করছে।