টেকনাফে ভারী বর্ষনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ৪টি বসতি ক্ষতিগ্রস্থ, ২০ পরিবার স্থানাস্থর, আহত-১

Teknaf-pic3_25.07.18.jpg

মো.আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফে ভারী বর্ষনে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। ২৫ জুলাই বুধবার প্রবল বর্ষনে নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ৪টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ৪ পরিবার সহ ২০টি পরিবারকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় মো. কাশেম নামে ১৩ বছরের এক কিশোর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ধ্বসে পড়া বাড়ীর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার কর্মীরা। এছাড়া এখনো পাহাড়ের পাদদেশ যারা বসবাস করছে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
নয়াপাড়া শালবন বিহারে কর্মরত এনজিও সংস্থা এডরা’র কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কয়েক দফা পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। তৎমধ্যে সকালে পাহাড় ধ্বসে ৪টি পরিবারের বসতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি। ওই ৪টি পরিবার সহ মোট ২০ পরিবারকে ক্যাম্পের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে বলা হলেও সেদিকে কর্ণপাত করছেন না কেউ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পই নই টেকনাফের অন্যান্য পাহাড়ী এলাকায় কয়েক হাজার বসতি গড়ে উঠেছে। যা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস সেগুলো হচ্ছে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া, ফকিরামুরা, কাদিরঘোনা, নাইট্যাংপাড়া, শিয়াইল্যাঘোনা, শাইল্যাতলী, বরইতলী উঠনি, সদর ইউনিয়নের বরইতলী, কেরুনতলী, নতুন পল্লানপাড়া, মাঠপাড়া, জাহালিয়াপাড়া, সন্দরকিল্লা, রাজারছড়া, হাবিরছড়া, মিটাপানিরছড়া, হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাদিমুরা, রঙ্গিখালী, মুরাপাড়া, পশ্চিম সিকদারপাড়া, মইন্যার জোম, ঘোনাপাড়া, পশ্চিম পানখালী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া, কম্বনিয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া ও পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া, আমতলী ইত্যাদি।
স্থানীয় ভূমিদস্যূ দখলদাররাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গা ও নি¤œ আয়ের ভুমিহীন মানুষকে পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় দিয়ে মাসোহারা নিচ্ছে। প্রতি বছর বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উচ্ছেদ পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে আবারো স্থানীয় ভূমিদস্যুরা আঁতাত করে পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের বসতি করার সুযোগ করে দেয়। ফলে এসমস্থ জায়গায় যে কোন মুহুর্তে পাহাড় ধ্বসে বড় ধরণের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপুর্ণ পাহাড়ী এলাকা গুলোতে মাইকিং সহ অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।