শেষ বয়সে ক্ষমতার স্বাদ নিতে ভারতের আশীর্বাদ প্রার্থী এরশাদ

-মুহাম্মদ-এরশাদ.jpg

ডেস্ক নিউজ : চারদিনের সফরে ভারত গিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। জানা গেছে, ভারত সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গিয়েছেন। সূত্র বলছে, সিঙ্গাপুরে তারেক রহমানের সাথে আগামী নির্বাচনে জোট গঠন, সিট ভাগাভাগি ও অর্থের পরিমাণ নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন ভারতের সমর্থন আদায় করতেই তিনি এই সফর করছেন। আগামী নির্বাচনে পরগাছা হয়ে নয়, বরং স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার জন্য ভারত সরকারের অনুকম্পা আদায় করতেই তিনি দলবল নিয়ে ভারত সফর করছেন।

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, এর আগে চিকিৎসার নামে সিঙ্গাপুর সফর করে মূলত পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হন এরশাদ। বৈঠকে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে অভিন্ন একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করার ব্যাপারে বিশদ আলোচনা হয়। জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করতে চান তারেক রহমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি উভয়ে। নির্বাচনে জোটের হয়ে এককভাবে ১৪০টি আসন চায় জাতীয় পার্টি এবং নির্বাচনে তারেক রহমানের মতো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা দাবি করেন এরশাদ। কিন্তু তারেক রহমান এরশাদের আকাশসম চাহিদা মেটাতে অপারগতা প্রকাশ করলে বৈঠকটি বিফলে যায়। সূত্র বলছে, তারেক রহমানের সাথে বনিবনা না হওয়ায় এবার ভারত সরকারের কাছে নিজে এককভাবে নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করতেই সফর করছেন এরশাদ।

জানা গেছে, সফরে ভারত সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সাথে গোপন বৈঠক করে নিজের ইচ্ছার কথা জানাবেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অর্ধেক বিরোধী দল, অর্ধেক সরকারি দলের অংশ হয়ে ইতোমধ্যেই দেশবাসীর কাছে ছোট হয়েছে জাতীয় পার্টি। এরশাদ ও জাতীয় পার্টির নাম শুনলে দেশবাসী এখন বিরক্ত হয়। জাতীয় পার্টির নিজস্ব পরিচয় হারিয়ে ফেলছে। দলটি আর কারো দয়ায় বাঁচতে চায় না। কারো অনুদানের ক্রাঁচে ভর দিয়ে নেতারা চলতে চায় না। এছাড়া বিএনপির অবস্থা নাজুক হওয়ায় জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ভারত সরকারের আশীর্বাদ আদায় করাটাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র বলছে, ভারত সরকারের কাছে জাতীয় পার্টি পরিচ্ছন্ন ইমেজ তুলে ধরে জয়ী হওয়ার প্রেসক্রিপশন আদায় করার জন্য এরশাদ সফর করছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে ক্ষমতার স্বাদ নিতে মরিয়া এরশাদ প্রয়োজনে ভারতের কাছে নিজেকে জিম্মি করে দিতেও রাজি আছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ভারত সরকারকে বেশি বেশি সুবিধা প্রদানসহ বাংলাদেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি আছেন এরশাদ।

প্রসঙ্গত, এরশাদের ভারত সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভ রায়, মেজর অব. খালেদ আখতার প্রমুখ।