৫১টি ওষুধের রেজিষ্ট্রেশান বাতিল টেকনাফ সীমান্তে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীর রমরমা বাণিজ্য

medicine.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় বেঙের ছাতার ন্যায় অলিতে গলিতে ফার্মেসী ব্যবসা গজে উঠেছে। যার অধিকাংশ ফার্মেসীর বৈধ লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স ছাড়াই এসব ফার্মেসী টোকেনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ওষধ নীতিমালা অনুযায়ী ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষধ ক্রেতাদের হাতে বিক্রি করা যাবেনা। অথচ দেখা গেছে, প্রায় ফার্মেসীতে অর্ধশিক্ষিত কর্মচারী দিয়ে ওষধ বিক্রি করা হচ্ছে। ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র পড়তে পারেনা এমন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ফার্মেসীর মালিক ঔষধ ক্রেতার হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, ভেজাল ওষুধ, নিম্মমানের ওষুধ, অতিরিক্ত দাম, ও বাতিলকৃত ওষুধ ঐসব ফার্মেসীতে মজুদ করে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফে প্রায় ৫শতাধীক ফার্মেসী রয়েছে। যার অধিকাংশ ফার্মেসীর লাইসেন্স নেই। বিশেষ করে, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভা ও সাবরাংএ ফার্মেসীর সংখ্যা অনেকাংশে বেশী। এসব পৌরসভা ও ইউনিয়নে বাজারে অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে ফার্মেসীর রমরমা বাণিজ্য। হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে এসব প্রায় ফার্মেসী পরিচালিত হয়ে আসছে। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ফার্মেসীর কর্মচারীরা পর্যন্ত হাতুড়ে ডাক্তারের ভূমিকা পালন করে আসছে। ফার্মেসীতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রসহ চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফার্মেসীর সামনে ঝুলানো সব সাইন বোর্ডে সরকারী এম,বি,এস, ডাক্তারের ন্যায় নাম সর্বস্ব ডাক্তার নাম উল্লেখ করে রোগীদের সাথে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে। ফার্মেসী গুলোতে সরকারী মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এ সুযোগে অসৎ ফার্মেসীগুলো ক্রেতার কাছ থেকে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে টেকনাফে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর সংখ্যা অত্যধিক। যার সংখ্যা শতাধিক বলে একাদিক সূত্র থেকে জানা গেছে। এসব ওষুধ কোম্পানীর পদচারনায় হাসপাতাল ও ফার্মেসী গুলো রোগীরা টাই পায়না। দেশে নাপাসহ ৫১ ওষুধ নিষিদ্ধ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি কোম্পানীর উৎপাদিত ৫১টি ওষধের রেজিষ্ট্রেশান বাতিল করেছে। জনগণকে এসব ওষুধ না কেনার জন্য বলা হয়েছে। ওষুুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ওষুধ কোম্পানিসহ বেশ কিছু ওষুধ কোম্পানির ৫১টি ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে। রেন্টা, স্কয়ার, ফার্মা-সিউটিক্যালস, বেকিসমকো, অপসোমিন, দ্য ইবনেসিনাসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিষ্ট্রেশান বাতিল করেছে প্যারাসিটামল, পারোগ্লিটাজন ও বসিগ্লিটাজন গ্রুপের বাতিলকৃত ৫১টি ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয় বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণকে এসব ওষুধ ব্যবহার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও লাইসেন্সিং অথরিটি (ড্রাগ) মেজর জেনারেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিৎ করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত ্ওষুধসমূহ হলো, রেনেটা লিঃ মিরপুর ও রাজন্দ্রপুরের প্যারাডট ট্যাবলেট, মিরপুরের পায়োপ্লিন ৩০ ট্যাবলেট স্কায়ার ফার্মাসিউটিক্যালসঃ এইস সকট ট্যাবলেট, মেনসুলিন ২ ট্যাবলেট টস-৩০ ট্যাবলেট, পারোগ্লিট ৪৫ ট্যাবলেট, ড্রাগ ইন্টার ন্যাশনালঃ ফিভিমেট ট্যাবলেট, পায়োজেনা ৩০ ট্যাবলেট, রোমেবল ২ ট্যাবলেট, রোমেবল ৪ট্যাবলেট দ্য এমকি ল্যাবরেটরিজ ফাষ্ট এম ট্যাবলেট, আরো রয়েছে, বায়ো ফার্মা, এমিটা সফট ট্যাবলেট প্রিগালিট ৩০ ট্যাবলেট অপসো স্যালাইনের জিসেট ট্যাবলেট অপসোনিন ফার্মা, রেনোসেট, ট্যাবলেট, পাইলো ট্যাবলেট, পাইলো ৩০ ট্যাবলেট, এমকেএস, টেমিপ্রো ট্যাবলেট, ৩০ ট্যাবলেট ইউনিমডে এন্ড ইউনিহেলথ, একঠোস, ৩০ ট্যাবলেট এসি আই লিঃ ডায়াট্যাপ ৪৫ ট্যাবলেট জেনারেল ফার্মাসিউ টিউশালন, রসিপ্লিট ২ ট্যাবলেট, এরিন্টো ফার্মাঃ গ্লকোরস ২ ট্যাবলেট, ডেল্ডা কাশঃ রসিট ২ ট্যাবলেট, মিন্নতি ফার্মাঃ পারোট্যাব ৩০ ট্যাবলেট, ইন্স্পেটা ফার্মা সিউটিক্যালস, পারোডার ৩০ ট্যাবলেট, ট্যাজন ৪ ট্যাবলেট, ডক্টরস, কেমিক্যাল ওয়াকস লিঃ পায়োজন ৩০ ট্যাবলেট, অ্যালকো ফার্মা প্যায়ালিট ৩০ ট্যাবলেট, আদদ্বীন ফার্মামিউটিক্যালস, পিজোরেট ৩০ ট্যাবলেট নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ডায়াটাস ৩০ ট্যাবলেট, পিগজন ৩০ ট্যাবলেট, মেমোটেড ফার্মাসিউটিক্যালস মেটেস ট্যাবলেট, জিসকা ফার্মা, পামিক্স এম ট্যাবলেট নোভেল্টা রেমটওয়ে। ফার্মাসিটিক্যালস, নবসকট ট্যাবলেট, প্যাসিকিস ফার্মা: পিগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, প্যাসিকিস ফার্মাঃ পিগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, বগ্লিট ৪ ট্যাবলেট, মেডিকো ফার্মা লিঃ ভায়াপায়োটার ৩০ ট্যাবলেট, উল্লেখ্য সম্প্রতি ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪ তম সভায় এসব ওষুধের রেজিষ্ট্রেশান বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ঠ কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে এসব ওষুধ নিজস্ব ট্যানেলের মাধ্যমে বাজার হতে প্রত্যাহার করে তার পরিমানসহ অধিদপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রেজিষ্ট্রেশন বাতিলকৃত ওষুধসমূহের উৎপাদন ক্রয় বিক্রয় বিতরণ মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিশিদ্ধ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার সুমনের সাথে ফোনে ফার্মেসীর সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ফোনটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্যটি পাওয়া গেল না।