ফল বিপর্যয়ের পর প্রথমদিন টেকনাফ ডিগ্রী কলেজে অর্ধেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপস্থিত : ৫২ ক্লাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬টি

Teknaf-pic-tt-3332_25.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সারা দেশে পাশের হার ৬৬.৬৪।
অপরদিকে টেকনাফ ডিগ্রী কলেজে পাশের হার ছিল ৩৮.৪৩। এখানে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৫৫ জন। পাশ করেছে ৯৮ জন। কোন জিপিএ-৫ নেই। টেকনাফ কলেজের এই ফলাফলকে অনেকে ফল বিপর্যয় হিসাবে দেখছেন। এনিয়ে গত দুইদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ২১ জুলাই শনিবার ছিল ফলাফল প্রকাশের পর প্রথম কলেজ খোলার দিন। এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে এদিন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে কলেজের একাধিক সূত্রে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, এদিন কলেজের অর্ধেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছিল অনুপস্থিত।
কলেজের ৩৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৫ জনের মতো অনুপস্থিত ছিলেন। আবার উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক শ্রেনীর প্রায় ৮০০ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে অর্ধেকের বেশী অনুপস্থিত ছিল।
রুটিন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্লাসের তিন ভাগের এক ভাগ ক্লাসও অনুষ্ঠিত হয়নি।
সকাল ১০টায় প্রথম ঘন্টায় ৬টি ক্লাসের মধ্যে ১টি ক্লাস ও হয়নি।
রুটিন অনুযায়ী শনিবার কলেজের প্রথম দিন সবমিলিয়ে একাদশ, দ্বাদশ ও ¯œাতক শ্রেনীর ৫২টি ক্লাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬টির মতো ক্লাস। এছাড়া বেলা ২টা ৫০ পর্যন্ত ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও দুইটার মধ্যে কলেজ ফাঁকা হয়ে যায়।
সকাল ১০টায় প্রথম ঘন্টার ৬টি ক্লাসের ১টিও অনুষ্ঠিত হয়নি। ১০টা ৪০ এ ২য় ঘন্টায় ছিল ৮টি ক্লাস। তারমধ্যে রুটিন নির্ধারিত ১টি মাত্র ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া অনির্ধারিত আরও ৪টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। ৩য় ঘন্টায় ৬টি ক্লাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪টি, ৪র্থ ঘন্টায় ৮টি ক্লাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩টি, ৫ম ঘন্টায় ৭টি ক্লাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২টি, ৬ষ্ঠ ঘন্টায় ৬টির মধ্যে ২টি, ৭ম ও ৮ম ঘন্টায় কোন ক্লাস হয়নি। এদিন ইংরেজী ও হিসাব বিজ্ঞানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের কোন শিক্ষক কলেজেই আসেননি বলে জানা গেছে। ফলে এই ক্লাস গুলি ফাঁকা ছিল। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এব্যাপারে টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ জয়নাল আবেদীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রথমদিনের সার্বিক তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং সাক্ষাতে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি সম্প্রতি সরকারীকরণের ঘোষনা হয়েছে।

এদিকে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন টেকনাফ কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নের মধ্য দিয়ে অ্ত্র এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তাই এই কলেজের পাশের হার বৃদ্ধি সহ মানসম্মত শিক্ষা প্রদান ও অনার্স-মাস্টার্স চালুর উদ্যোগ গ্রহন করতে এখনই উদ্যোগ গ্রহন করা দরকার বলে মনে করছেন তারা।