ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তোলপাড়, বিব্রত নীতিনির্ধারকরা

BNP-logo-1.jpg

ডেস্ক নিউজ : দক্ষ, পরীক্ষিত ও দলের জন্য নিবেদিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে হাইব্রিড ও অতিথি নেতাদের থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান দেওয়ায় তুলকালাম শুরু হয়েছে বিএনপিতে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ঘোষিত কমিটি নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কমিটিতে স্থান পাওয়া ৩২ জন নেতার মধ্যে ১৬ জনই নাখোশ। তাই কমিটি বাতিল চেয়ে ১৬ জন নেতা স্বাক্ষরিত একটি প্রেস রিলিজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রায় প্রতিটি অনলাইন পত্রিকায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

প্রেস রিলিজে বলা হচ্ছে, মহানগর উত্তর বিএনপির যে ৩২ জন নেতার স্বাক্ষর নিয়ে ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সেই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন না স্বাক্ষর দেয়া ১৬ নেতা। মহানগর উত্তর বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত সেই প্রেস রিলিজে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনকারীরা তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনৈতিক ফায়দা নিচ্ছে। বরং ৩২ নেতার মধ্যে উল্লিখিত ১৬ নেতা এমএ কাইয়ুম ও আহসান উল্লাহ হাসানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

এই প্রেস রিলিজটি কমিটির পক্ষে থাকা নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করতে থাকেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছেও পাঠান।

যার স্বাক্ষর জাল করে প্রেস রিলিজটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয় সেই মশিউর রহমান বাবু মঙ্গলবার ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে প্রেস রিলিজের একটি ছবি দিয়ে বলেন ‘এই প্রেস রিলিজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি মিথ্যা অপপ্রচার। আমার স্বাক্ষর জাল করে এই প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে।’ আসলে নিজের অপকর্ম লুকাতে এমন মন্তব্য করেছেন মশিউর রহমান বাবু বলে অনেকেই সেই স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন। বাবুর এই স্ট্যাটাসের পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয় মহানগর উত্তর বিএনপিতে। অল্প সময়ের মধ্যেই ‘টক অব দ্যা টাউন’ -এ পরিণত হয় এই ঘটনা। আন্দোলনকারী নেতারা এটিকে ষড়যন্ত্র বলে ঘোষণা করলেও অনেকেই এটিকে মহানগর ‘বিএনপিতে ভাঙন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে এমএ কাইয়ুম ও আহসান উল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে দেড় মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছেন নগর বিএনপির ৩২ নেতা। এই বিষয়ে মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, দলটাকে ধ্বংস করার জন্য এ ধরনের পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি আমরা মানব না। চলমান প্রতিবাদে আমি সামনে আছি, সামনেই থাকব।

এদিকে, কমিটি গঠনে নানা অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে কমিটির পদ বঞ্চিত ও বিদ্রোহীরা চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম পারভেজ। তারা চিঠিটি নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছেও হস্তান্তর করবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

তারা বলছেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের অধিকাংশ সদস্য কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি দলের জন্য বিব্রতকর। যারা অনিয়মের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।