টেকনাফে ২টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির মাদক চোরাচালানের আখড়ায় পরিণত : অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী চলছে

yaba-yaba.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফে ২টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির মাদক চোরাচালানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানী। মোছনী নয়াপাড়া ক্যাম্পে দুধর্ষ ডাকাত নুরুল আলমের রাম রাজত্ব চলছে। নয়াপাড়া ও লেদা রেজিঃ আনরেজিষ্টার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে, মাদকসহ সকল অপকর্ম, অশ্লীলতার ও অস্ত্রের মূল ঘাটি। এ দুইটি রোহিঙ্গ ক্যাম্প একটি ক্রাইম জোন হিসাবে পরিনত হয়েছে। মাদক, চোরাচালান, নারী অস্ত্রধারী, শিশু পাচার, খুন, ডাকাতী, চুরি, অপহরণ, যৌন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অসমাজিক কার্যক্রমের মূল ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে মৌছনী নয়াপাড়া ও লেদা এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাদিক সিন্ডিকেট কর্তৃক এসব অপকর্ম ও অপরাধ পরিচালিত হয়ে আসছে। লেদা, আলীখালি ও রঙ্গীখালী শীর্ষ মাদক তালিকাভূক্ত ও নব্য মাদকক ব্যবসায়ীরা এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে মাদক, চোরাচালানসহ সকল অপকর্মের মূল হাতিয়ার ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এমন কোন দিন নেই যে, এ ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপকর্ম হচ্ছেনা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে দিচ্ছে এসব অপকর্ম, নানা অপরাধ ও অশ্লীলতা। জম্ম দিচ্ছে, নানা অপরাধ প্রবণতা। ক্যাম্প ২টি পাহাড় সংলগ্ন বিধায় এখানে যে কোন অপরাধ প্রবণতা করতে আশ্রিত রোহিঙ্গারা পরওয়া করেনা। স্থানীয় আশ পাশের মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা ওদেরকে ভাড়াটে হিসাবে ব্যবহার করছে। মোছনী নয়াপাড় ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২টি এখন মাদক/ইয়াবার স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হয়েছে এর পাশাপাশি চলছে, ডাকাতী, খুন, মানবপাচারসহ সকল অপকর্ম। স্থানীয় পাহাড়ের আস্থানায় চলে মাদকসহ সকল অপকর্মের পরিকল্পনা এবং অর্জিত টাকার ভাগাভাগি। রাজনৈতিক বিশ্লেষ্কদের মতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির জন্য নয়াপাড়া মোছনী ক্যাম্প ও লেদা ক্যাম্প অনেকাংশে দায়ী মনে করেন।

কেননা বর্তমান ও অতীতে অনেক খুনাখুনি ছাড়া ও আনসার ক্যাম্পের আনসার হত্যাসহ অহরহ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। যার নেপথ্যে রোহিঙ্গা ডাকাতি ও স্থানীয় প্রভাবশালীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ রয়েছে। যেমন অতীতে বক্কর মেম্বার আবুল কাসেম খুনের শিকার হয়েছিল।

এর মূলে রয়েছে, প্রভাব প্রতিপত্তি ও আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বর্তমানে ও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি, লেদা পাহাড়ে মৃত আবুল কাসেমের পুত্র ও শীর্ষ তালিকাভূক্ত ইয়াবা নুরুল হুদা মেম্বারের ভাই ইয়াবা ব্যসায়ী শামসুল আলম ও লেদা বি-ব্লকের রোহিঙ্গা যুবক রহিমউল্লাহ খুন হয়েছিল। এ খুনের নেপথ্যে অনেকের মতে মাদক সংক্রান্ত অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে। আলোচিত এ ২টি ক্যাম্প নিয়ন্ত্রন করছেন, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, আলীখালী, রঙ্গীখালী, পানখালী ও উলুচামারীর শীর্ষকও নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি এ ক্যাম্প ২টি সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে এ ভয়ঙ্গর তথ্য ভেসে উঠেছে। ওরা রোহিঙ্গাদের পূঁজি করে মাদক/ইয়াবা ব্যবসা ও পাচারে সাথে জড়িত হয়ে অনেকেই রাতারাতী অর্থের আংগুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে। ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আন্তীয়তা এবং স্থানীয় মাদক/ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালআন নাফ নদী হয়ে সরাসরি নয়াপাড়া, লেদা ও আনোয়ার মৎস্য প্রজেক্ট এলাকার আশপাশে খালাস হয়। গত ৯ বছরে এ সুবাধে লেদা আলীখালী, রঙ্গীখালী ও উলূচামড়ী এলাকা যারা মাদক/ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার করে বিত্তশালী বনে যায়, তাদের মধ্যে জামাল মেম্বার, নুরুল হুদা মেম্বার, আবসার, মোঃ আলম, বাবুল মেম্বারসহ নাম জানা না জানা অনেকেই। নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্যতম পূর্ব লেদার লাল মিয়ার পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর বর্তমানে সে ইয়াবা স¤্রাটে পরিনত হলেও আইন শৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার খাতায় তার নাম নেই। সে ফুটবল খেলাকে পূঁজি করে এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের বদৌলতে বিপুল পরিমাণ কালোটাকার মালিক বনে গেছে। তার নির্মিত অত্যাধুনিক রাজপ্রাসাদ বাড়ীটি দেখলে অনেকেই মনে করবে সে বড়মাপের মাদক ব্যবসায়ী। নির্ধারিত ও দৃশ্যমান কোন ধরনের আয়ের উৎস ছ্ড়াাই সে কিভাবে এতো বড়প্রাসাদ বাড়ী ও জায়গা জমি, ট্রাক, বাস, নোহা ও প্লাটের মালিক বনে গেলেন, তাহা সকলের কাছে অনুমেয়।