টেকনাফ কলেজের ফলাফল বিপর্যয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়

Teknaf-college_tt-pic.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
সদ্য প্রকাশিত টেকনাফ কলেজের এইচএসসির ফলাফল বিপর্যয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফলাফল প্রকাশের দেখা যায়, সারা দেশে পাশের হার ৬৬.৬৪।

অপরদিকে টেকনাফ কলেজের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়। পাশের হার ৩৮.৪৩ ভাগ।
মোট পরীক্ষার্থী ২৫৫ জন, পাশ করেছে ৯৮ জন। কোন জিপিএ নেই।
এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশ করেছে ৩২ জন, মানবিকে ৬৫ জন ও বিজ্ঞান বিভাগে ১ জন।

তুলনামূলকভাবে মানবিক বিভাগ থেকে অধিক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী কৃতকার্য হয়েছে। সবচেয়ে শোচনীয় ফলাফল ছিল বিজ্ঞান বিভাগের ৩ জনে পাশ করেছে ১জন। গেল বছর এই বিভাগ থেকে কেউ পাশ করেনি। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে টেকনাফ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে একটি আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও পর্যাপ্ত মেধাবী শিক্ষক সহ সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকার পরও কেন ফল বিপর্য়য়।

এইসব কারণে কাংখিত ফলাফল অর্জিত না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।
টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও মহিলা কাউন্সিলর কোহিনুর আক্তার তার ফেইসবুকের টাইমলাইনে লিখেছেন :
প্রতিবারের মত এবার ও রেজাল্ট নিয়ে বেহাল দশা একমাএ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিগ্রী কলেজের। দায় এড়াতে পারবে না কোন শিক্ষক। একটা সন্তান যখন কোন ক্রাইমে জড়ায় প্রথম তার অভিভাবককে দোষ দিই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে অবশ্যই শিক্ষকদের।। কোথায় প্রভলেম খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও উনাদের দায়িত্ব, প্রয়োজন হলে জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা নিতে পারেন বা পারত। আরও কি লজ্জা পেতে হবে নাকি সামনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন আপনাদের দায়িত্ব।।।।। আর তা না হলে হারিয়ে যাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে করার কিছু থাকবে না।

টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এম আবু তাহের লিখেছেন “টেকনাফ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে একটি ছাত্র পরিষদের অস্তিত্ব খুবই জরুরি! ফ্যাক্ট:বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যত বাস্তবতা”

আবার স্বনামধন্য শিশু চিকিৎসক টেকনাফের কৃতি সন্তান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিম লিখেছেন,
টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল বিপর্যয়ের দায় ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির।
শুধু শিক্ষকদের যারা দায়ী করছেন তারা হয় সমস্যার গভীরে যেতে চাইছেন না, বা উদোর পিন্ডি বুধুর ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন।
কলেজে পরিচালিত হয় একটি গভর্নিংবডির নির্দেশনায়। কলেজের নিয়োগ শৃংখলা এই গভর্নিংবডির দেখার কথা। যোগ্য লোকজন সেই পরিচালনার কমিটির সদস্য হলে এবং তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে আরো ভাল ফল হওয়ার কথা। যা বাস্তবে হয় নি।
খারাপ ফল একটি প্রশাসনিক বা পরিচালনার ব্যার্থতা। পরিচালনা উত্তম বলেই আপনাদের পাশের মাঈনউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠার অল্প দিনের শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভাল ফল করতে পারছে।
আপনারা যদি মনে করেন ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল ফল করলে তাদের ধাবাইয়া রাখতে পারবেন না, তাহলে এই ভাল।

অন্য একজন লিখেছেন টেকনাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ : রুটিন অনুযায়ী শতভাগ ক্লাস নিশ্চিত করুন।

আবার অনেকে একই উপজেলার অন্য কলেজ হ্নীলা মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের সাথে তুলনা করে লিখেছেন অল্পদিনে সেই কলেজ যদি বেসরকারী কলেজের মধ্যে জেলার সেরা হতে পারে তাহলে প্রায় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে টেকনাফ কলেজের সমস্যা কোথায়।

মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের এই বছর পাশের হার ৭১.৯৮। তারা বেসরকারী পর্যায়ে জেলায় ১ম হয়েছে।

অনেকে ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকা, হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলেন উল্লেখ করেছেন।

Piklu Datta লিখেছেন, টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ বিজ্ঞান বিভাগ তাতো ছন্দপতন হয়েছে অারকি, একজন স্যার তো যে অবস্থা শুরু করেছে মানবিকতার পরিচয় দিতে দিতে জানামতে ১৭ টার উপর পদবী নিয়ে বর্তমানে অারো দুইটি পদের জন্য কক্সবাজার টেকনাফ ধর্না দিচ্ছে নেতাদের কাছে সে কিনা কি পড়াবে ছাত্রদের, তার প্রতি সম্মান ভালোবাসা ছিল বর্তমানে শূন্যোর কোঠায়।
MD Taher মন্তব্য করেছেন, যদি সাইন্স এর শিক্ষক কবিতা লেখে, যদি কে জি,প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং হাই স্কুলের ছাত্র /ছাত্রী এমনকি কোন বিষয় নাই যে টেকনাফ কলেজের সাইন্স এর শিক্ষক মহোদয় গন পড়াতে পারেনা, অনেকে হিন্দু হয়েও ইসলাম শিক্ষা পড়ায়,বলতে গেলে সবজান্তা সমিপিষু।কথায় আছে না, অতি সন্যাসিতে গাজন নষ্ট।

আবার কেউ কেউ শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়াকে অন্যতম কারন উল্লেখ করে লিখেছেন স্যাররা কমন রুমে গল্প গুজবে মেতে থাকেন, ক্লাসের জন্য ডাকলেও আসেন না।

একজন লিখেছেন কয়েকজন গুরুত্বপুর্ন সাবজেক্টের শিক্ষক মাসের পর মাস চট্টগ্রামে অবস্থান করে থাকেন কিন্তু মাসের শেষে এসে বেতন ভাতা তুলে নিয়ে যান।

এইসব আলোচনা সমালোচনার প্রেক্ষিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শফিক আলম শকু লিখেছেন : টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ
সবাই সমালোচনা করতে জানে কিন্তু সমাধান কেউ দিতে জানেনা।প্রত্যেক বছরের ন্যায় টেকনাফ ডিগ্রি কলেজের ফলাফল এবছর ও খারাপ হওয়ায় আমরা টেকনাফের মানুষ হয়ে অত্যান্ত হতাশা প্রকাশ করতেছি।এ নিয়ে অনেকে সমালোচনায় ব্যস্থ কিন্তু সমস্যার সমাধানের জন্য কেউ এগিয়ে আসতেছেনা।অতি শীগ্রই এ সমস্যার আমরা সমাধান চাই।আমরা আর সমালোচনার পাত্র হতে চাইনা। কলেজ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।আপনারা যদি নিজেরাই লজ্জিত না হোন তাহলে আমরাই কেন লজ্জিত হবো?এ ব্যাপারে কোন ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান,সংগঠন,বা সাংবাদিকবৃন্দ কারো না কারো এগিয়ে আসতে হবে।না হয় এঅপবাদের বুঝা সবাইকে বহন করতে হবে।…………………টেকনাফ ডিগ্রি কলেজের পড়া-লেখার মান বাড়ানো আর ভাল ফলাফলের জন্য কি কি করতে হবে বা করা দরকার আপনারা সবাই দয়া করে কমেন্টেসে জানান………….এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে হবে না হয় কারো ঘুম ভাঙবেনা।

আবার কেউ কেউ ফলাফল বিপর্যয়েও কলেজ কর্তৃপক্ষের কোন দোষ নেই বলে উল্লেখ করেছেন তাদের লিখনীতে।

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাদ লিখেছেন, যাদের কলেজের বারান্দায় যাওয়ার যোগ্যতা নেই তারাও কলেজ নিয়ে সমালোচনা করে।

রিয়া নামে এক ছাত্রী লিখেছেন ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকরা দায়ী নন। উনারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। মূলত পরীক্ষা কঠিন ছিল।

প্রসঙ্গত এবার মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে আট লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এবার ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৩২টি।

অন্যদিকে এ বছর ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৭২টি। অর্থাৎ এবার শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠান কমেছে।