সিসিক নির্বাচন: জামায়াত-বিএনপি বিরোধের নেপথ্যের কারণ

Bnp-jamat1-1.jpg

ডেস্ক নিউজ: আগামী ৩০ শে জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত সমস্ত সিটি নির্বাচনে জোটগতভাবে একক প্রার্থী দিতে পারলেও সিলেটে একক প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসবে অংশ নিচ্ছেন আরিফুল হোক চৌধুরী। কিন্তু জোটের শরীক দল জামায়াত ইসলামী থেকে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বেকায়দায় পড়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল।

আগের সিটি নির্বাচনগুলোতে জোটগতভাবে একক প্রার্থী দাঁড় করাতে পারলেও সিলেটে না পারার কারণ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের অভিমত, জামায়াত রাজনৈতিকভাবে অবস্থান তৈরির কৌশল হিসেবে সিলেটে বিএনপির পাল্টা প্রার্থী দিয়ে সরকারের আস্থা পেতে চাইছে। এ নিয়ে জোটে সন্দেহ থেকে আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে বেশি আসনে জোট থেকে প্রার্থী পাওয়ার দরকষাকষির জন্যও তারা এখন এমন অবস্থান নিয়ে থাকতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন।

নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং দলটির নিবন্ধন বাতিল করায় তারা দলীয়ভাবে কোনো নির্বাচন করতে পারবে না।

সে কারণেই সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একজন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে ‘টেবিল ঘড়ি’ মার্কা নিয়ে সেখানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

এহসানুলের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপি অনেক চেষ্টা করলেও, তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে দলে ও জোটের মধ্যে যে প্রকাশ্য বিভক্তি তার পেছনে সরকারি দলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি’র। কিন্তু এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ।

সূত্র বলছে, রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থা যাচাই করার জন্য জামায়াত সিলেট সিটি নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার কারণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিচারসহ বিভিন্ন কারণে কোণঠাসা দলটি এই সিটি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে নতুন করে একটা অবস্থান তৈরি করতে চায়।

এদিকে বিএনপি’র ভেতর থেকেও এসেছে পাল্টা প্রার্থীতা। দলটির নগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। দল থেকে বহিস্কার হলেও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি তিনি।

নিজ দলের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুলের ভোট ভাগ হয়ে যাবে। ফলে তার জয়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেটের নতুন মেয়র হতে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিমত।