বহুবিধ ভেষজ গুণে আমড়ার জুড়ি নেই

hog-plum-pic.jpg

লামা-আলীকদমে আমড়া চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয়দের
মো.কামরুজ্জামান, লামা :
লামা-আলীকদমে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর আমড়ার চাষ হচ্ছে। দু’উপজেলায় প্রায় ২ শ্ হেক্টর জমিতে আমড়া চাষ হয়। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন সাড়ে চার মে:টন; সে হিসেবে এ বছর মোট আমড়া উৎপাদন হয়েছে এক হাজার মে:টন। যার স্থানীয় বাজার মুল্য তিন কোটি টাকা। গ্রাম ও শহর-নগরে, যানবাহনে মৌসুমী এই ফলটি বেচাবিক্রি হয় প্রচুর। ফলে এর চাহিদার কোন ঘাটতি নেই। এ থেকে আচার, চাটনি ও জেলি তৈরি করা যায়। আমড়া তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। অন্যান্য ফলের তূলনায় দামে সস্তা হলেও মুখে রুচি বৃদ্ধিসহ অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে আমড়ার। এই এলাকার সাথে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বাজার নিশ্চয়তাও রয়েছে শতভাগ।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ আমড়া চারা রোপনে উৎসাহী হন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ফল চাষে স্থানীয় পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক আমড়া চাষী জানান, এই গাছটি পাহাড়ী ঢালুর নীচের অংশে লাগালে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তবে চারা ছোট থাকাকালে এর যতœ নিতে হয়; কারণ এক ধরণের লৎপোকা আক্রোমন করে থাকে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে স্প্রে করা হলে এ থেকে পরিত্রান পাওয়া সহজ। স্যাঁতস্যাতে মাটিতে এর ফলন বা গাছ ভালো হয়। চারা রোপনের ৫-৭ বছরের মধ্যে ফল দেয়।
ভেষজ বিদদের মতে, আমড়া সুস্বাদু ও সহজপ্রাপ্য একটি দেশি ফল। গোল্ডেন আপেলখ্যাত আমড়ায় জলীয় অংশ ৮৩.২, খনিজ ০.৬, লৌহ ০.৩৯, আঁশ ০.১, চর্বি ০.১, আমিষ ১.১, শর্করা ১৫, ক্যালসিয়াম ০.৫৫ শতাংশ। এছাড়া আমড়ার বেশ কিছু পুষ্টিগুণও রয়েছে, যেমন: ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের রোগ, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগ হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে আমড়া খেয়ে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। ত্বকের ব্রণ কমাতে এবং ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে আমড়া দারুণ উপকারী। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও ঠিক রাখে। আমড়ায় বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। তাই বদ হজম, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত আমড়া খাওয়া দরকার।
আমড়ার আরো সে সকল উপকারিতা রয়েছে, তা হলো; বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই আমড়ার মৌসুমে প্রতিদিন এই ফল খেলে নানান সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আমড়া দারুণ কার্যকর। আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় ও ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই আমড়া খেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।
বাণিজ্যিকভাবে আমড়া উৎপাদনে সরকারের কৃষি বিভাগ স্থানীয়দেরকে নানানভাবে অনুপ্রাণিত করছে। অনেকে এই ফল চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবানও হয়েছে বলে জানাগেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দূর্গম অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের ফলে পরিবেশ বান্ধব স্বাস্থ্যকর এই মৌসমী ফলটি চাষে সবাই আগ্রহী হচ্ছেন।