হ্নীলায় দুই সন্তানের জননীর আত্নহত্যা শীর্ষক সংবাদে শ্বাশুড় আব্দুল জলিলের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

Protibad-Pic-19-07-18.jpg

বার্তা পরিবেশক : গত ১২ জুলাই বিভিন্ন অনলাইন ও ১৩ জুলাই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত “ হ্নীলায় অভিমানে দুই সন্তানের জননীর আত্নহত্যা ” শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদের একাংশে পারিবারিক কলহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা প্রতিবেশী নামধারী শত্রæপক্ষের সাজানো বানোয়াট ভিত্তিহীন তথ্য। আমরা উক্ত সংবাদাংশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই, আমরা দরিদ্র হলেও সবাই মিলে মিশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতে থাকব বলে আশা রাখি।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, গত ৫মাস আগে আমার পুত্র রবিউল আলম ভিলেজার পাড়ার ভাইরা বেলাল উদ্দিনের সহায়তায় সৌদি আরব গমন করেন। যাওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে এবং সৌদিয়া গিয়ে একামা হাতে পেলে আরো ৬০হাজার টাকা পরিশোধের কথা ছিল। রবিউল আলম সৌদিয়া পৌঁছে একামা চাইলে ভাইরা বেলাল আরো ৬০হাজার টাকা দাবী করেন। রবিউল বাড়ি হতে টাকা কর্জ্জ করে ৬০হাজার পরিশোধ করে একামা হাতে নেয়। এই ঘটনার কিছুদিন পর ভাইরা বেলাল অতি দরকারে আরো টাকার দরকার হওয়ায় রবিউল আলমকে টাকা ধার করে দিতে বলে। রবিউল আলম টাকা দিতে অপারগ বলে জানালে ভাইরা বেলাল ও তার ভাই জালাল মিলে বেধম মারধর করে। রবিউল আলম নিরুপায় হয়ে একামার বিপরীতে শরীকা হতে মোটাংকের রিয়াল কর্জ্জ নেয়। এঘটনা শেষে ধাম্মন হতে মক্কা যাওয়ার ৮/১০দিন পর সেখানকার পুলিশ রবিউলকে আটক করে। এসময় পুলিশ একামা পর্যালোচনা করে কর্জ্জ নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে কবিলকে ফোন করে। কবিল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি বিস্তারিত জানার পর বেলালকে ফোন দেয়। বেলাল ফোন রিসিভ না করায় রবিউলকে হাজতে দেয়। এই ফাঁকে বেলালেরা দুই ভাই দেশে চলে আসে। এই ঘটনায় ১৯দিন হাজত বাসের পর রবিউল দেশে ফিরে আসে। বেলালের ব্যাপারে রবিউল আলম স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সালিশ দিতে চাইলে ভাইরা বেলাল বলেন, এটা ঘরোয়া বিষয় নিয়ে আমার মেঝ জেঠশাস দেলোয়ারা বেগমের উপস্থিতিতে নির্জনে সমাধানের কথা বলেন। রবিউল কয়েকজন লোকের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের আহবান জানালে বেলাল সম্মত না হওয়ায় আর সমঝোতা বৈঠক হয়নি। এরপর বেলালের বাবা হাশিম বিষয়টি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধানের জন্য স্থানীয় ডাঃ নুরুর প্রতি আহবান জানান। বিষয়টি চেয়ারম্যানের নিকট গড়ানোর খবর পেয়ে বেলাল বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী লুৎফুর নাহারকে বলে, তোমার বোনকে যা টাকা দিয়েছি তা দ্রুত ফেরত দিতে বলেন অন্যথায় তোমার বোন জামাইকে দরকার হলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। লুৎফুর নাহার বিষয়টি বোন হালিমা খাতুনকে জানালে উত্তরে হালিমা বলেন, আমরা মাটি কেটে ভাত খেয়ে সুখে ছিলাম। আমাদের সৌদি আরব দেখিয়ে এত দুঃখ-কষ্ট দেওয়ার কি দরকার ছিল বলে জানায়। বিষয়টি স্ত্রী হালিমা স্বামী রবি আলমকে জানালে স্বামী বলেন, এই বিষয়ে এত সিরিয়াস হওয়ার দরকার নেই। বিচারে যা হওয়ার হবে বলে সান্ত্বনা দেয়। পরদিন সকালে আমার পরিবারের সকলে মিলে খাওয়া-ধাওয়ার পর লেদায় আমার মেয়ে রুনার অসুস্থ জামাই রশিদ আহমদকে দেখতে যায়। কিছ্ক্ষুণ পর স্বামীকে বাজারে পাঠিয়ে ঘরের কাজ করছিল হালিমা। ননদ জোৎসা কাপড় ধৌতে পুকুরে যায়। কাপড় ধোয়ে এসে দেখে ভাবী হালিমার ঝুলন্ত লাশ। এরপর আমরা খবর পেয়ে দ্রæত বাড়ি চলে আসি। সুতরাং মরহুম হালিমাকে শ্বাশুড়-শ্বাশুড়ীর,দেবর-ভাসুরের নির্যাতনের বিষয়টি একেবারে মিথ্যা, বানোয়াট। বিগত ৭ বছরের সংসারে তাদের সংসার খুবই ভাল ছিল। আমার ধারণা, হালিমা তার বোন লুৎফুর নাহার ও বোন জামাই বেলালের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে চরম অভিমানে আত্নহত্যা করে। এই বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানানোর পাশাপাশি হালিমার আত্নার শান্তি কামনা করছি।

প্রতিবাদকারী :
আব্দুল জলিল
মৃত হালিমার শ্বাশুড়
পশ্চিম পানখালী, হ্নীলা, টেকনাফ।